Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৪৬
আত্মবিশ্বাসী মাশরাফিরা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
আত্মবিশ্বাসী মাশরাফিরা
অনুশীলনের ফাঁকে গতকাল শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তিন নির্বাচক (মিনহাজুল আবেদীন, হাবিবুল বাশার, সাজ্জাদ আহমেদ) ও কোচ হাতুরাসিংহের সঙ্গে খোশগল্পে মেতে ওঠেন মাশরাফি বিন মর্তুজা ও সাকিব আল হাসান —বাংলাদেশ প্রতিদিন

বিকাল ৪টা। মিরপুর স্টেডিয়ামে উপস্থিত মাশরাফি, মুশফিকরা। বরাবরের মতো শিষ্যদের গোল করে দাঁড় করিয়ে কিছু বলেন কোচ চন্ডিকা হাতুরাসিংহে। এরপর শুরু হয় অনুশীলন এবং গোল হয়ে ফুটবল খেলতে শুরু করেন মাশরাফিরা। মিনিট পাঁচেক হালকাচ্ছলে ফুটবল খেলে গা গরম করেন। এরপর ক্রিকেটাররা সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন ফিটনেস অনুশীলনে। কেউ রশি টেনে মাসলের ব্যায়াম করছেন। কেউ আবার কোমরের ব্যায়াম করছেন। এভাবেই মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইটের আলোয় অনুশীলন করেন মাশরাফিরা। অনুশীলনে সবার চলনে বলনে যেন ঠিকরে বেরোচ্ছিল আত্মবিশ্বাসের ছটা।

ইংল্যান্ড বাংলাদেশ আসবে কিনা, এ নিয়ে গত এক মাস দারুণ উত্তেজনায় কেটেছে ক্রিকেটারসহ দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের। অফিশিয়ালি ঘোষণার আগে পর্যন্ত কেউই জানতেন না, ইংল্যান্ড সত্যিই আসবে কিনা? যখন ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড সবুজ সংকেত দিল, তখন আনন্দের বান বয়ে যায় বাংলাদেশে। অবশ্য টাইগাররা ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ডের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় না থেকে অনুশীলন শুরু করে। এক মাসের কন্ডিশনিং ক্যাম্প চলার পর এখন পূর্ণ রিদমে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং করছেন মাশরাফিরা। এখন সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছেন আফগানিস্তান ও ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য। সিরিজ দুটি পরপর হলেও এখন টাইগারদের প্রস্তুতি আফগানিস্তান সফর সামনে রেখে।

গত দুই বছরে ব্যাপক পাল্টেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। সাফল্যের চূড়ায় উঠতে শুরু করেছে। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে প্রথমবারের মতো। বিশ্বকাপের আত্মবিশ্বাস নিয়ে ঘরের মাটিতে ৩-০-তে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছে। এরপর ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ জিতে নেয় প্রথমবারের মতো। সর্বশেষ জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করার পর আর কোনো আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলেনি বাংলাদেশ। তবে মার্চ-এপ্রিলে ভারতের মাটিতে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলে। ওটাই শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। দীর্ঘ সময় ম্যাচ বিরতি নিয়ে বেশ চিন্তিত বাংলাদেশ। চিন্তিত মাশরাফিরাও। তাই বলে হতাশায় নিমজ্জিত হতে চাইছেন না। চাইছে ইংল্যান্ডকে ঘরের মাটিতে হারিয়ে সিরিজ জিততে।

দুই বছর ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সাফল্যের গ্রাফ যে ওপরে উঠছে, তার কারিগর মাশরাফি। তার অধিনায়কত্বের নিপুণ দক্ষতায় পাল্টে যাওয়া বাংলাদেশ এখন ক্রিকেট পরাশক্তি। সমীহ আদায় করে নিয়েছে সবার। এবারের সিরিজ দুটি তাই বেশ তাত্পর্যপূর্ণ। ঘরের মাঠে টানা সিরিজ জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা ছাড়াও শততম ওয়ানডে জয়ের হাতছানিও রয়েছে মাশরাফিদের। এ সুযোগটা থাকছে তিন ম্যাচের আফগানিস্তান সিরিজে। আইসিসির সহযোগী দেশটির বিপক্ষে সিরিজ জিতলে ঘরের মাঠে টানা ষষ্ঠ সিরিজ জিতবে বাংলাদেশ। আর সিরিজ জয়েই বাংলাদেশ উদ্যাপন করবে শততম ওয়ানডে জয়। আফগানিস্তানকে হারানোর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যদি ওয়ানডে সিরিজ জিতে যায় মাশরাফিবাহিনী, ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের ৬ নম্বরে উঠে যাবে। এ দুইয়ের হাতছানি দেওয়া টাইগাররা এখন অনেক আত্মবিশ্বাসী। দলটিকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছেন ক্যারিবীয় লিজেন্ডারি পেসার কোর্টনি ওয়ালশ। যিনি এসেছেন ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত মাশরাফিদের বোলিং কোচ হিসেবে। আরেকজন শ্রীলঙ্কার দিলীপ সামারাবিরা।

১৩২ টেস্ট খেলা ওয়ালশের অভিজ্ঞতার শেয়ার করতে পারলে তাসকিন, রুবেল হোসেনরা এগিয়ে যাবেন অনেক ওপরে। ওয়ালশও চাইছেন তার সব অভিজ্ঞতা ঢেলে দিতে। গতকাল অনুশীলনে নেটের পেছনে দাঁড়িয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন টাইগার পেসারদের বোলিং। প্রথম দিন কিছু না বললেও কাল তাসকিন, শফিউলদের বলের গ্রিপ দেখিয়ে সুইং কীভাবে করতে হয় তার টিপস দিয়েছেন। তবে অধিকাংশ সময়ই বুঝে নিতে চেষ্টা করেছেন শিষ্যদের। অনুশীলনের ফাঁকে ফাঁকে নাসির, মুশফিকদের সঙ্গে দুষ্টামি করে আত্মবিশ্বাসী করে তুলছেন। ক্যারিবীয় লিজেন্ড ক্রিকেটারের সঙ্গে দুষ্টামি করতে করতে মাশরাফিরাও নিজেদের আত্মবিশ্বাসের চূড়ায় টেনে তুলছেন।

up-arrow