Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৪৭
নতুন কোচ, নতুন উদ্যম
একটি জয়ই বদলে দেবে শেখ রাসেলকে : মানিক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
নতুন কোচ, নতুন উদ্যম

তারকানির্ভর দল শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। এমন দল পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে থাকবে এটাই স্বাভাবিক।

অথচ পেশাদার ফুটবল লিগে তাদের অবস্থান এখন সবার নিচে। ছয় ম্যাচে অ্যাকাউন্টে জমা এক পয়েন্ট। শেখ রাসেলের মতো দলের এই অবস্থা কি ভাবা যায়? সেরা দল গড়েও পাঁচ ম্যাচে হেরে বসে আছে। উত্তর বারিধারা, রহমতগঞ্জ, চট্টগ্রাম আবাহনী, ফেনী সকার ও মুক্তিযোদ্ধার কাছে হার। এটা ঠিক দুই ম্যাচে বিতর্কিত রেফারিংয়ে শেখ রাসেলকে পয়েন্ট থেকে বঞ্চিত করেছে। তারপরও ছয় ম্যাচ চলে যাওয়ার পর জয়ের খাতায় নাম উঠবে না তা অবিশ্বাস্যই বলা যায়। টিম বিজেএমসির বিপক্ষে কোনো ক্রমে ড্র করে ১ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। কোনোভাবেই দল ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। এএফসি কাপ প্লে-অফ বাছাইপর্বে দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলেও পরবর্তী রাউন্ডে যেতে পারেনি শেখ রাসেল। স্বাধীনতা কাপ ও ফেডারেশন কাপে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেয় দেশের আলোচিত দলটি। নকআউট পর্বে টুর্নামেন্টে এটা হতেই পারে। গতবার শক্তিশালী দল গড়ে লিগে রানার্সআপ হয় শেখ রাসেল। এবার ট্রফি হাত ছাড়া হবে না এই আশা সমর্থকরা করতেই পারে। কিন্তু তারকা ভরপুর থাকার পরও একি অসহায় অবস্থা শেখ রাসেলের। না আছে ডিফেন্স না অফেন্স। ছয় ম্যাচে ১০ গোল হজম আর প্রতিপক্ষের জালে ২ গোল জড়িয়েছে। এমন করুণ হাল মেনে নেওয়া যায় কি? কোচ মারুফুল হক বার বার বলেছেন, সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু তা আর হয়নি। পারেননি বলেই কোচের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন মারুফ।

নতুন প্রশিক্ষক হয়েছেন দেশের অন্যতম সফল কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক। তার প্রশিক্ষণে অনেক দলই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। শেখ রাসেলের দায়িত্ব নেওয়ার পর আজই শেখ রাসেল প্রথম মাঠে নামছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে লিগে প্রতিপক্ষ হয়ে মাঠে নামবে গোপীবাগের ব্রাদার্স ইউনিয়ন। সাত নম্বর ম্যাচ, অর্থাৎ লাকি সেভেন। আজ কি জয়ের খাতায় নাম লেখাতে পারবে কি শেখ রাসেল? নতুন কোচের অভিষেক ঘটবে কি জয় দিয়ে। মানিক বলেন, ‘আমার ওপর আস্থা রেখে কর্তৃপক্ষ আমাকে কোচ করেছে। তার প্রতিদান দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করব। শেখ রাসেলের এখন যে অবস্থা জয়টা জরুরি হয়ে পড়েছে। খেলোয়াড়দের ভিতর আত্মবিশ্বাস ফিরে আসবে জয়ে। একটা ব্যাপার না বললেই নয়, শেখ রাসেলের প্রতিটি ম্যাচই দেখেছি। কেন জানি দলের ভিতর সমন্বয়ের অভাব ছিল। সহজ সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট হয়েছে। অন্য দিকে প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামাল দিতে না পারায় একের পর এক গোল খেয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর চেষ্টা করছি ভুল শোধরানোর। লক্ষ্য করছি প্রশিক্ষণ মাঠে খেলোয়াড়রা বড্ড সিরিয়াস। লিগে তারা ঘুরে দাঁড়াতে চায়। জয় পেতে তারা মরিয়া। নতুন উদ্যমে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে জামাল ভূঞারা। আমার জানা মতে অনেক দলে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। যা শেখ রাসেলে নেই। খেলোয়াড় বলছে সুযোগ সুবিধার কোনো কিছুই বাদ রাখেনি। তারপরও তারা দলকে ভালো খেলা উপহার দিতে চায়। অতীত ভুলে তারা ঘুরে দাঁড়াতে চায়। লিগে মুক্তিযোদ্ধার কাছে হারলেও প্রীতিম্যাচে আমরা জয় পেয়েছি। প্রশিক্ষণে ছেলেরা দারুণ করছে। মাঠে তা তুলে ধরতে পারলে আমি ভয়ের কিছু দেখছি না।

মানিক বলেছেন, ব্রাদার্সকে কোনোভাবে খাটো করে দেখার উপায় নেই। ১০ জন নিয়েও তারা ঢাকা আবাহনীর সঙ্গে ড্র করেছে। ২ গোলে পিছিয়ে থেকে ঢাকা মোহামেডানের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে। ওদের তরুণ খেলোয়াড়রা বেশ গতিময়। দুই বিদেশি কিংসলে ও ইব্রাহিম দারুণ খেলছে। তাদের হারাতে হলে সেরা খেলাটাই খেলতে হবে। শেখ রাসেলের ইনজুরিতে থাকা খেলোয়াড়রা সুস্থ হয়ে উঠছে। সব মিলিয়ে আশা করছি দলের পারফরম্যান্সে পরিবর্তন আসবে। খেলোয়াড়রা যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারলে সব ভয়কে জয় করা সম্ভব। ১৮ আগস্ট শেখ রাসেল লিগের শেষ ম্যাচ খেলে। এক মাস পর আবার মাঠে নামছে। নতুন কোচের আগমনে শেখ রাসেল নতুন রূপ ধারণ করে কি না সেটাই এখন দেখার বিষয়।

up-arrow