Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:০৫
পেনাল্টি মিসের খেসারত দিল শেখ রাসেল
ক্রীড়া প্রতিবেদক
পেনাল্টি মিসের খেসারত দিল শেখ রাসেল
ব্রাদার্সের গোলরক্ষক পরাস্ত। তবু জালে বল পাঠাতে পারেননি শেখ রাসেলের পল এমিলি। এমন ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত হেরে মাঠ ছাড়তে হয় মানিকের শিষ্যদের —বাংলাদেশ প্রতিদিন

হারতে হারতে খাদের কিনারায় এসে দাঁড়ানো শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। গতকাল খেলতে নামে নতুন কোচ শফিকুল ইসলাম মানিকের হাত ধরে।

পয়েন্ট টেবিলের তলানি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে আগের কোচ মারুফুলকে সরিয়ে দায়িত্ব তুলে দেয় মানিকের হাতে। কিন্তু দুর্ভাগ্য পিছু ছাড়েনি। গতকাল রক্ষণভাগের ব্যর্থতায় পেশাদার ফুটবল লিগে ষষ্ঠ হারের স্বাদ নিল দলটি। হারের স্বাদ নিতে হলো  জিন ইকাঙ্গার পেনাল্টি মিসে। পেনাল্টি মিসে শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে হেরেছে শেখ রাসেল। মানিকের অভিষেক সুখের না হলেও ভারতীয় কোচ সৈয়দ নাইমুদ্দিনের অভিষেকটা ভালোই হলো। নাইমুদ্দিনের কোচিংয়ে লিগে প্রথম জয় পায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন। দিনের প্রথম ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করেছে চট্টগ্রাম আবাহনী ও আরামবাগ। এক সময় জাতীয় দলের অপরিহার্য সদস্য ছিলেন। দেশের ফুটবলের বহু সাফল্যের যোদ্ধা ছিলেন বিপ্লব ভট্টাচার্য। জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও নিয়মিত ফুটবল খেলছেন ঘরোয়া আসরে। এবার খেলছেন শেখ রাসেলে। তবে নিয়মিত হতে পারেননি। স্বাধীনতা কাপ ও ফেডারেশন কাপে দর্শক হয়ে খেলা দেখেছেন।   পেশাদার লিগের প্রথম ৬ রাউন্ডেও খেলা হয়নি। কোনোভাবেই আস্থা অর্জন করতে পারেননি আগের কোচের। দলের চরম ব্যর্থতায় মারুফুল এখন নেই। তার জায়গায় শেখ রাসেলের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় মানিকের হাতে। মানিক দায়িত্ব নিয়ে গোলবার আগলাতে সুযোগ দেন বিপ্লবকে। কাল বিপ্লব তার অভিজ্ঞতা দিয়ে ভালো খেলেছেন। অবশ্য প্রথম গোলটি খেয়েছেন নিজের দোষে। তবে দুর্ভাগ্য শেখ রাসেলের। পেনাল্টি পেলেও গোল পায়নি। ক্যামেরুনের স্ট্রাইকার ইকাঙ্গা মিস করলে এগিয়ে যেতে পারেনি শেখ রাসেল। ইকাঙ্গার মিসেই প্রথমার্ধে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে দলটি। লিগের মাঝপথে একটি দলের দায়িত্ব নেওয়া বেশ কঠিনই। চ্যালেঞ্জিং জেনেও দায়িত্ব নেন মানিক। পাল্টে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলকে নিয়ে গতকাল খেলতে নামেন। ১২ মিনিটে তার পরিকল্পনায় ফুটবল খেলে পেনাল্টি আদায়ও করে নেয় শেখ রাসেল। ব্রাদার্সের রক্ষণভাগের কৃৃষ্ণপদ ফেলে দেন মিঠুন চৌধুরীকে। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির নির্দেশ দেন এবং শট নেন ক্যামেরুনের ইকাঙ্গা। কিন্তু তার শট বারপোষ্টের বেশ ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। ফলে এগিয়ে যাওয়া হয়নি শেখ রাসেলের।  পাঁচ মিনিট পর গোল খেয়ে বসে দলটি। ১৭ মিনিটে এগিয়ে যায় গোপীবাগের দল ব্রাদার্স ইউনিয়ন। ডি বক্সের বাইরে থেকে বল ধরে কিংসলে বাঁ প্রান্ত দিয়ে ঢুকে পড়েন শেখ রাসেলের রক্ষণভাগে। এরপর আগুয়ান গোলরক্ষক বিপ্লবের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে কোনাকোনি শটে দলকে এগিয়ে নেন কিংসলে (১-০)। অথচ শেখ রাসেলের রক্ষণভাগের দুই খেলোয়াড় মিশু ও মিন্টু শেখ তখন দাঁড়িয়েছিলেন। ২১ মিনিটে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল শেখ রাসেল। ক্যামেরুনের পল এমিলি গোলরক্ষকের শরীরে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন। এরপর ৩২ মিনিটে গোলসংখ্যা দ্বিগুণ করে গোপীবাগের দলটি। প্রায় ২২ গজ দূরত্ব থেকে ফ্রি কিক নেন হাইতির অগাস্টিন ওয়ালসন। তার বাঁকানো শটটি গোলরক্ষক বিপ্লবকে বোকা বানিয়ে জালে ঠাঁই নেয় (২-০)। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়াতে কাউন্টার অ্যাটাকে খেলতে থাকে শেখ রাসেল। কিন্তু প্রথমার্ধে গোল পায়নি। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াতে একাধিক পরিবর্তন আনেন কোচ মানিক। মাঠে নামান জাতীয় দলের স্ট্রাইকার শাখাওয়াত হোসেন রনি ও দেশসেরা স্ট্রাইকার জাহিদ হাসান এমিলিকে। বিপ্লবের সঙ্গে গতকাল প্রথম মাঠে নামেন এমিলিও। ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করতে করতে ক্লান্ত এমিলিকে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামান কোচ। অবশ্য এমিলি মাঠে নামার আগেই গোল ব্যবধান কমান রনি। ডান পায়ের প্লেসিং শটে গোলটি করেন রনি (১-২)। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে ওয়েলসন আরও একটি গোল করে ব্রাদার্সের জয় নিশ্চিত করেন । ৭ ম্যাচে শেখ রাসেলের  এটা ষষ্ঠ হার। ১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের সবার তলানিতে দলটির অবস্থান। লিগে প্রথম জয়ে ব্রাদার্সের পয়েন্ট ৭ ম্যাচে ৮।            

খেলোয়াড় তালিকা

শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র: বিপ্লব ভট্টাচার্য, নাসিরুল ইসলাম, জামাল ভুঁইয়া, মিন্টু শেখ, আতিকুর রহমান মিশু, পল এমিলি, শাহেদুল আলম শাহেদ, মো. মিথুন, মোনায়েম খান রাজু,  আসাদুজ্জামান বাবলু ও ইকাঙ্গা।

ব্রাদার্স ইউনিয়ন: গৌতম বড়ুয়া, কৃষ্ণপদ, ইমতিয়াজ সুলতান জিতু, অগাস্টিন ওয়ালসন, ইবায়েদ হোসেন কমল, নওকোচো কিংসলে, মান্নাফ রাব্বি, নাজমুল ইসলাম রাসেল, আব্বাস ইনুসা ও মো. মনির।

up-arrow