Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:২৫
টেনশনে রাতে ঘুম আসত না
ক্রীড়া প্রতিবেদক
টেনশনে রাতে ঘুম আসত না
মোহামেডান-আবাহনী ম্যাচ নিয়ে গাফফারের স্মৃতিচারণ

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল মোহামেডান-আবাহনী গতকাল পেশাদার ফুটবল লিগে মুখোমুখি হয়েছিল। দুই দলের লড়াইয়ে তেমনভাবে দর্শকের দেখা মেলেনি।

অথচ এক সময়ে তা ভাবাই যেত না। সন্ধ্যায় ম্যাচ হলেও গ্যালারি ভরে যেত দুপুরেই। টিকিট কেনার জন্য সেকি লম্বা লাইন। দুই দলের পতাকায় ভরে যেত। ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনায় কাঁপত সারা দেশ। ম্যাচের আগের দিন দুই ক্লাবের সামনে সমর্থকদের যে ভিড় তা এখন ম্যাচেও দেখা যায় না। সেই দৃশ্য এখন অতীত স্মৃতি। মর্যাদার লড়াই সেই উত্তেজনা কি গতকাল দেখা গেছে? ২০০৯ সালে সুপার কাপে দুই দলের ফাইনালে শেষবারের মতো উপচেপড়া দর্শকদের সমাগম ঘটে। এখন বিনা টিকিটেও গ্যালারি ভরবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

কথা হচ্ছে কেন এই পরিণতি? এক সময় মাঠ কাঁপানো ফুটবলার আবদুল গাফফারের দুই দলে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ১৯৮০ সালে ওয়ান্ডারার্স থেকে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডানে যোগ দেন তিনি। খেলেন ১৯৮২ সাল পর্যন্ত। এর মধ্যে ৮০ ও ৮২ সালে লিগ চ্যাম্পিয়ন হয় সাদা-কালোরা। ১৯৮৩ সালে গাফফার মোহামেডান ছেড়ে যোগ দেন আবাহনীতে। ১৯৮৫ সালে এখান থেকেই খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানেন তিনি। গাফফার থাকা অবস্থায় আবাহনী হ্যাটট্রিক লিগ শিরোপা জিতে।

তিনি বেশ আক্ষেপের সুরেই বললেন, ফুটবলে মান কমে যাওয়ায় আবাহনী-মোহামেডানের আকর্ষণ হারিয়ে গেছে। এতটা খারাপ অবস্থা যে কেউ খোঁজ রাখেন না দুই দলের ম্যাচের। সত্যি বলতে কি, বেশ কিছু নতুন দলের আগমন ঘটেছে। তারা বিগ বাজেটে দলও গড়ছে। কিন্তু মোহামেডান-আবাহনী ম্যাচের গুরুত্ব কমে যাওয়ায় ফুটবলে জনপ্রিয়তার চরম ধস নেমেছে। এমন সংকটাপন্ন অবস্থা কখনো কাটানো যাবে কিনা তা নিয়ে আমি সন্দিহান।

গাফফার আবেগভরা কণ্ঠে বললেন, দুই দলে দীর্ঘদিন খেলেছি। সুতরাং উত্তেজনা বা চাপটা আমার ভালো জানা আছে।

এক সপ্তাহ আগে থেকেই উত্তেজনা শুরু হয়ে যেত। ম্যাচের আগের রাতে টেনশনে ঘুম আসত না। চিন্তা একটাই ম্যাচে কি ঘটবে। মাঠে নামার সময় গ্যালারি ভরা দেখে মনটা ভরে যেত। সঙ্গে টেনশনও কাজ করত জিততে না পারলে সমর্থকরা তা মেনে নেবে কি?

শুধু খেলোয়াড় কেন, কর্মকর্তারাও টেনশনে থাকতেন। অনেকে নাওয়া-খাওয়া ভুলে যেতেন। দলের প্রতি কর্মকর্তাদের কতটা যে টান ছিল তা ভাষায় বুঝিয়ে বলতে পারব না। ম্যাচ জিতলে আনন্দে মেতে উঠতেন। তেমনি হারে অনেক কর্মকর্তাকে কাঁদতে দেখেছি। এখনকি সেই টান আছে? আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি, দুই বিখ্যাত দলে খেলতে পেরেছি। কত যে স্মৃতি তা ভুলবার নয়। ১৯৮০ সালের কথা বলি, সেবার মোহামেডান তরুণনির্ভর দল গড়েছিল।

আর আবাহনীতে তারকার ছড়াছড়ি। স্বাভাবিকভাবে ফুটবলপ্রেমীদের ধারণা ছিল মোহামেডান ম্যাচ জিতবে না। অথচ প্রথম পর্বে ম্যাচে ৩-০ গোলে জিতেছিলাম। মোসাব্বের, সালাম ও বাদল গোল দেন। তিন গোলই এসেছিল আমার পাস থেকে। ১৯৮৩ সালে আমি তখন আবাহনীতে। মোহামেডান ২-১ গোলে এগিয়ে। খেলা তখন মিনিট দুয়েক বাকি। ডিফেন্ডার স্বপনকে কাটিয়ে বল ঠেলে দিলাম চুন্নু ভাইয়ের পায়ে। আর তা থেকে চুন্নু ভাই গোল করে শেষ মুহূর্তে ম্যাচ ড্র হয়।

up-arrow