Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:০৭
বাদ আল আমিন, চমক মোসাদ্দেক
মেজবাহ্-উল-হক
বাদ আল আমিন, চমক মোসাদ্দেক

বাংলাদেশ সব শেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিল ২০১৫ সালের নভেম্বরে, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে। ওই সিরিজের স্কোয়াডের সাত ক্রিকেটারই এই স্কোয়াডে নেই। কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান তো ইনজুরির কারণে দলে নেই। আল আমিন ছাড়াও বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছেন লিটন কুমার দাস, কামরুল ইসলাম রাব্বি, এনামুল হক বিজয়, আরাফাত সানি ও জুবায়ের হোসেন

 

বাংলাদেশে আসার পর প্রথম দিন অনুশীলনেই কোর্টনি ওয়ালশের মনে ধরেছিল পেসার শফিউল ইসলামকে। হালকা পাতলা গড়নের ছেলেটির বোলিং স্টাইল ভালো লেগে যায় উইন্ডিজ কিংবদন্তির। কোচিং কোচের নজরে আসায় ভাগ্য খুলে যায় শফিউলের। দীর্ঘ দুই বছর পর আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম দুই ওয়ানডের দলে জায়গাও পেয়ে যান এই পেসার।

শফিউলকে জায়গা করে দিতেই বাদ দিতে হয়েছে নিয়মিত দাপুটে পারফর্ম করা পেসার আল আমিন হোসেনকে। দলে চার পেসার রাখার সিদ্ধান্ত অনেকটা পূর্ব নির্ধারিতই ছিল। কিন্তু কোন চারজন? মাশরাফি তো অধিনায়ক, ইনজুরি থেকে ফেরায় রুবেল হোসেনের জায়গা নিয়েও সংশয় ছিল না। তৃতীয় পেসার হিসেবে প্রথম পছন্দ তাসকিন। যদিও গতি তারকার বোলিং অ্যাকশনের ফলাফল হাতে আসেনি। তবে ইতিবাচক ফলের আসায় তাসকিনের জায়গাটি রেখেই একজন কম নিয়ে ১৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

চতুর্থ পেসার হিসেবে শফিউলকে নিতে হলে আল আমিনকে বাদ দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। তবে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু আল আমিনকে দলে না নেওয়ার পেছনে দেখিয়েছেন অন্য যুক্তি। তিনি বলেন, ‘আল আমিনের ব্যাপারে কিছু নেগেটিভ কথা উঠে এসেছে। ফিটনেস নিয়েও কথা এসেছে। ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে এ সব ব্যাপার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পরে আমরা শফিউলকেই নিয়েছি।’ আল আমিনকে বাদ দেওয়ার পেছনে আরেকটি যুক্তি দেখিয়েছেন মিনহাজুল। তার দাবি, ফিল্ডিংয়ে নাকি আল আমিনের চেয়েও ভালো শফিউল।

আল আমিন শুধু নিয়মিত পারফর্মারই নন, ঘরোয়া লিগেও দাপটের সঙ্গে বোলিং করেছেন তিনি। গত প্রিমিয়ার লিগেও শফিউলের চেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন আল আমিন। শফিউল যেখানে ১০ ম্যাচে নিয়েছিলেন ১১ উইকেট, সেখানে আল আমিন ১৬ ম্যাচে নিয়েছেন ২৫ উইকেট। শফিউলের ইকোনমি যেখানে ৫.৪৬, সেখানে আল আমিনের ইকোনমি ছিল ৪.৬৩। তারপরেও দলে সুযোগ হয়নি ঝিনাইদহের এই পেসারের।

তবে আল আমিনকে দলে রাখা না হলেও নির্বাচকদের নজরেই থাকবেন তিনি। মিনহাজুল আবেদীন বলেন, ‘আমাদের সামনে আরও খেলা আছে, তাকে ফেরানো হতে পারে। এমন না যে একদম বাইরে চলে গেছে। সামনে কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও খেলা আছে। আল আমিন আমাদের পুলের মধ্যেই আছে।’

১৩ সদস্যের দলে একমাত্র নতুন মুখ মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। টি-২০তে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে জাতীয় দলে অভিষেক হলেও প্রথমবারের মতো ওয়ানডে দলে জায়গা করে নিয়েছেন ঘরোয়া লিগে নিয়মিত এই পারফর্মার। মোসাদ্দেককে দলে নেওয়ার পেছনে প্রধান নির্বাচকের যুক্তি, ‘কিছু কিছু ক্রিকেটার আছে যাদের প্রতিভা আগে থেকেই বোঝা যায়। মোসাদ্দেক ঘরোয়া লিগে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস নিয়ে ব্যাটিং করেছে। লঙ্গার ভার্সনেও তার ভালো পারফর্ম আছে। দুই বছরে সে দারুণ খেলেছে। প্রিমিয়ার লিগেও তার পারফর্ম ভালো ছিল। আমরা মনে করি, সে জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডে খেলার জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠেছে।’

দলে ফিরেছেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো ওয়ানডে দলে জায়গা পেয়েছেন তিনি। স্পিন আক্রমণে সাকিবের জুটি হিসেবেই সুযোগ দেওয়া হয়েছে তাইজুলকে। তবে ২০ জনের স্কোয়াড থেকে লেগ স্পিনার জোবায়ের হোসেন লিখন ও আরাফাত সানির নাম ছেঁটে ফেলার পর শোনা যাচ্ছিল মোশাররফ রুবেল ও মেহেদী হাসান মিরাজের কথা। শেষ পর্যন্ত তাইজুলকেই বেছে নিয়েছেন নির্বাচকরা। প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘তাইজুল মাঝখানে অসুস্থ ছিল। এখন ফিটনেস ফিরে পেয়েছে। সে অনেক দিন ধরে টেস্ট স্কোয়াডে আছে। এই কারণেই আমরা বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে তাকে বিবেচনা করেছি।’

১৩ সদস্যের দলে পেসার তিনজন। চতুর্থ পেসার হিসেবে তাসকিনকে দলে নেওয়ার জন্য আইসিসির প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে বিসিবি। যদি তাসকিনের ফলাফল ইতিবাচক হয় তাহলে তো কোনো কথাই নেই। তবে নেতিবাচক ফল হলে ডাকা হতে পারে আল আমিনকে। তবে মিনহাজুল বলেন, ‘তাসকিনের ফলাফল ইতিবাচক না হলে, আমরা ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন কাউকে নেব কি না তা আলোচনা করব।’ অধিনায়ক মাশরাফি এবং সহঅধিনায়ক হিসেবে সাকিবকেই রাখা হয়েছে। ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালের সঙ্গে রয়েছেন সৌম্য সরকার। সাম্প্রতিক টি-২০তে ব্যর্থ হলেও জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডেতে সৌম্যর রেকর্ড কিন্তু দুর্দান্ত।  ১৬ ওয়ানডেতে তার গড় ৪৯.৪২। একটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি রয়েছে চারটি হাফ সেঞ্চুরি। স্ট্রাইকরেট একশর উপরে (১০২.৫১)। সে কারণেই দলে রাখা হয়েছে সৌম্যকে।

ইমরুল কায়েস জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে সিরিজে সব শেষ দুই ম্যাচে ৭৬ ও ৭৩ রানের দুটি ইনিংস খেলেছেন। সে কারণেই স্কোয়াডে তাকে রেখেছেন নির্বাচকরা।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমানের সঙ্গে দলে সুযোগ পেয়েছেন নাসির হোসেনও। বাংলাদেশ সব শেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিল ২০১৫ সালের নভেম্বরে, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে। ওই সিরিজের স্কোয়াডের সাত ক্রিকেটারই এই স্কোয়াডে নেই। কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান তো ইনজুরির কারণে দলে নেই। আল আমিন ছাড়াও বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছেন লিটন কুমার দাস, কামরুল ইসলাম রাব্বি, এনামুল হক বিজয়, আরাফাত সানি ও জুবায়ের হোসেন।

 

up-arrow