Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:২৮
আফগানদের বিরুদ্ধেও বড় চাপ
মেজবাহ্-উল-হক

ক্রিকেটে ছোট দলগুলোর বিরুদ্ধে সচরাচর খেলতে চায় না বড় দলগুলো। কারণ ছোট দলগুলোর বিরুদ্ধে জিতলে খুব বেশি লাভ নেই। কিন্তু হারলেই পড়তে হয় লজ্জায়। সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হতে হয় ক্রিকেটারদের। তা ছাড়া ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা আইসিসিও র‌্যাঙ্কিং পদ্ধতির মাধ্যমে ছোট দলের বিরুদ্ধে হারলে বড় লজ্জা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে রয়েছে। আর সে কারণেই ছোট দলের বিরুদ্ধে খেলতে নামলে বেশি চাপে থাকে বড় দল।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পরাজয়ে আফগানিস্তানের হারানোর কিছু নেই। বরং টেস্ট খেলুড়ে দলের বিরুদ্ধে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলার সুযোগ পেয়েই যেন মহাখুশি। তাই জয়ের চেয়ে ভালো খেলার স্লোগান তাদের কণ্ঠে। কিন্তু আফগানদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ হারলেই পড়ে যাবে বিপদে। র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। আবার বাংলাদেশ যখন র‌্যাঙ্কিংয়ের উপরের দিকের দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলে তখন ফুরফুরে মেজাজে থাকে। তাই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদেরও একটা বাড়তি চাপ নিয়েই খেলতে হচ্ছে। গতকাল মাশরাফি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ড যখন আমাদের সঙ্গে খেলে তখন ওদের বাড়তি চাপ থাকে। এটা খুবই স্বাভাবিক।’

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কঠিন সিরিজের আগে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আফগানদের নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এতে দীর্ঘ বিরতির পর নিজেদের সামর্থ্য সম্পর্কে জানতে পারবেন টাইগাররা। কিন্তু প্রথম ম্যাচে মাশরাফিদের প্রায় আটকেই দিয়েছিল আফগানিস্তান। শেষ তিন ওভারেই খেলার গতি পাল্টে যায়। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এমন ‘ক্লোজ’ জয়ে ক্রিকেটারদের সামর্থ্য নিয়ে সমর্থকরা শঙ্কাবোধ করলেও টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি মনে করে এখানে শেখার অনেক কিছু আছে। তিনি বলেন, ‘শেষ ম্যাচে যে বিষয়টা আমার ভালো লেগেছে, তা হচ্ছে— ম্যাচটা অলমোস্ট ৯০ ভাগ ওদের কাছে ছিল। এমন কঠিন পরিস্থিতি থেকে ফিরে এসে ম্যাচ জেতা একটা অন্যরকম ‘চরিত্র’। আর এই চরিত্রটা তৈরি করতে পারলে, বড় ম্যাচে ভালো করা যাবে।’

বাংলাদেশ যে দীর্ঘ বিরতির পর ওয়ানডে খেলছে, প্রথম ম্যাচে তা পরিষ্কার বোঝা গেছে। বাংলাদেশের শুরুটা যেভাবে ছিল তাতে তিনশর কাছাকাছি স্কোর হওয়ার কথা। কিন্তু শেষ দিকে ভালো করতে পারেননি ব্যাটসম্যানরা। সাকিব, তামিম, মাহমুদুল্লাহর মতো তারকা ব্যাটসম্যানরা উইকেটে সেট হওয়ার পরও নিজের ইনিংসটাকে দীর্ঘ করতে পারেননি। ক্রিকেটে সাধারণত, যেদিন যে খেলোয়াড় ২২ গজে টিকে যান তার ওপরই থাকে গুরু দায়িত্ব। কিন্তু তিন তারকা নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারলে স্কোরটা আরও বড় হতো। অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলার কারণেই প্রভাবটা পড়েছে বলে মনে করেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় আপনি যদি জাতীয় দলের হয়ে না খেলে ‘এ’ টিম কিংবা অন্য দলের হয়ে খেলেন তাহলে জাতীয় দলের হয়ে খেলায় যে আবহ থাকে তা পাওয়া যাবে না। সেই পরিবেশ ও চাপ আলাদা। আন্তর্জাতিক ম্যাচ ভিন্ন জিনিস। অন্য দলের হয়ে হয়ত অনুশীলন করা যেতে পারে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ম্যাচ আন্তর্জাতিক ম্যাচই।’

যে কোনো দলে সেট ব্যাটসম্যান লম্বা ইনিংস খেলতে না পারলে বড় স্কোর করা কঠিন হয়ে যায়। প্রথম ম্যাচের ব্যাটিং সম্পর্কে মাশরাফি বলেন, ‘সবাই বুঝতে পারছে তামিম-মাহমুদুল্লাহ দুজনেরই ১০০ করার সুযোগ ছিল। সাকিবের ‘বড়’ ৫০ মারার সুযোগ ছিল। এ জিনিসগুলো আগের ম্যাচে পারিনি। এর থেকেও যখন বড় টিমের বিপক্ষে খেলব ২৮০ কিংবা ৩০০ অলমোস্ট  চেজ হচ্ছে, তখন সেট ব্যাটসম্যান যদি বড় রান না করে তাহলে কঠিন হয়ে যাবে।’

আগের ম্যাচে ফিল্ডিং ছিল যাচ্ছেতাই। তবে ফিল্ডিং নিয়ে কোনো অজুহাত দেখাননি টাইগার দলপতি। তিনি বলেন, ‘ব্যাটিং ও বোলিংয়ের বিষয়টা আলাদা। কিন্তু ফিল্ডিং এমন একটা ইস্যু যেটা ভিতর থেকে চাইলেই আপনি উন্নতি করতে পারেন। এটা খারাপ করার কোনো অজুহাত হতে পারে না। প্রথম ম্যাচে ভালো হয়নি। আমাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ঠিক ছিল না। আমরা অনেক কিছু চাচ্ছিলাম কিন্তু হচ্ছিল না। এর কারণে ফিল্ডিং খারাপ হতে পারে। প্রথম ম্যাচে হয়নি দ্বিতীয় ম্যাচে সব ঠিক হয়ে যাবে।’

আজকের ম্যাচে জিতলেই শততম ওয়ানডে জয়ের মাইলফলক স্পর্শ করে ফেলবে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে আরেকটি রেকর্ড হয়ে যাবে টাইগারদের— ঘরের মাঠে টানা ষষ্ঠ ওয়ানডে সিরিজ জয়। এর আগের টানা পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে দুটি সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। আজ আফগানিস্তানকে হারাতে পারলেই নিশ্চিত হয়ে যাবে এক সঙ্গে দুই রেকর্ড।

up-arrow