Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৩২
উইকেটটা ছিল স্পিনারদের
ক্রীড়া প্রতিবেদক

শেষ তিন ওভার ছাড়া প্রথম ওয়ানডের পুরোটা সময় চালকের আসনে বসেছিল আফগানিস্তান। ওই তিন ওভারের ম্যাজিকেই ৭ রানের রোমাঞ্চকর জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল বাংলাদেশ।

এমন জয়ে যে কোনো দলের আত্মবিশ্বাস থাকবে আকাশসম। অসাধারণ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে গতকাল শততম ওয়ানডে জয়ের ম্যাচ খেলতে মাঠে নামেন মাশরাফিরা। আইসিসি সহযোগী দেশের বিপক্ষে খেলতে নেমে ছন্নছাড়া ক্রিকেট খেলেছেন তামিম, সৌম্য, মুশফিক, সাকিব, সাব্বিররা। আফগান স্পিনারদের ঘূর্ণিতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের নাভিশ্বাস উঠেছে। উইকেটের ধীরলয়ের আচরণের সঙ্গে কোনোভাবেই মানিয়ে নিতে পারেননি সাকিবরা। অহেতুক স্ট্রোক খেলতে গিয়ে সাজঘরে ফিরে চাপে ফেলেছেন দলকে। সেটা আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি পুরো ইনিংসে। তাই ৪৯.২ ওভারে ২০৮ রানে গুটিয়ে যায়। এ রানটুকুও হতো না। যদি না ১১৯ নম্বর ক্রিকেটার হিসেবে অভিষিক্ত মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত শেষ পর্যন্ত লড়াই না করতেন।

প্রথম ওয়ানডেতেই খেলার কথা ছিল মোসাদ্দেকের। খেলা হয়নি। কাল খেলতে নেমে মোহাম্মদ নবী, রশিদ খান, রহমত শাহদের সাবলীল খেলে অপরাজিত থাকেন ৪৫ রানে। ইনিংসটি স্পষ্ট করে দিয়েছে, কালকের ধীরলয়ের উইকেটে খেলতে দরকার ছিল ধৈর্য ও পরিকল্পনা। যেটা করতে পারেনি তামিম, সৌম্য, সাকিব, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ, সাব্বিররা। এসব তারকা ব্যাটসম্যান যেভাবে অকাতরে উইকেট বিলিয়েছেন, তাতে প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ৩১৮ দিন আন্তর্জাতিক এরিনায় ওয়ানডে ক্রিকেট না খেলার প্রভাব কি পড়েছে সাকিবদের ওপর? আগের ম্যাচে ৮০ রানের ইনিংস খেলা তামিম যেভাবে ফ্ল্যাশ খেলতে গিয়ে আউট হয়েছেন, তাতে ক্লান্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রানে ফিরতে লড়াই করতে থাকা সৌম্য ২০ রান করলেও বেশ কষ্ট করেছেন। তবে দুর্ভাগ্য মাহমুদুল্লাহর। ভালো খেলতে খেলতে ব্যক্তিগত ২৫ রানে প্লেড অন হন। মুশফিক সেট হয়ে উইকেট বিলিয়েছেন সুইপ করে। তবে আগের ম্যাচের ব্যর্থতা কাটিয়ে মুশফিক গতকাল খেলেন ৩৮ রানের ইনিংস। সাকিব কিছুই বুঝতে পারেননি নবীর আর্মার। সাব্বির বলের লাইন মিস করে সাজঘরে ফেরেন লেগ বিফোর হয়ে। এসব তারকা ব্যাটসম্যানের অহেতুক স্ট্রোক খেলায় বড় কোনো জুটি গড়েনি। যা ভুগিয়েছে পুরো দলকে। তৃতীয় উইকেট জুটিতে মাহমুদুল্লাহ ও মুশফিকের ১২.৫ ওভারে ৬১ রানই সবচেয়ে বড় জুটি। শেষ উইকেট জুটিতে মোসাদ্দেক ও রুবেল ৪৩ রান যোগ করলে টাইগারদের ইনিংস দুইশর ঘর পেরোয়। ম্যাচ জেতাতে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দরকার। প্রথম ওয়ানডে টাইগাররা জিতেছিল সাকিব ও তাসকিনের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে। তবে বড় স্কোর করতে দরকার বড় জুটি। কাল মিরপুরের ধীরলয়ের উইকেটে ধৈর্য খুবই প্রয়োজন ছিল মাশরাফি বাহিনীর। কিন্তু প্রয়োজনের সময় কাজের কাজটি করতে দেখা যায়নি তারকা ক্রিকেটারদের। স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের নাভিশ্বাস তুলেছেন নবী তার অফ স্পিনে। নতুন বলে বোলিং করে নবী ১০ ওভারের স্পেলে রান দেন মাত্র ১৬। নবীর মতো একজন মামুলি স্পিনারকে গতকাল মনে হয়েছে যেন মুরালিধরন! মাত্র ১৯ বছর বয়স্ক লেগ স্পিনার রশিদ খান ছিলেন বিধ্বংসী। ১০ ওভারের স্পেলে রশিদ রান দিয়েছেন ৩৫। উইকেট নিয়েছেন ৩টি। নবী ও রশিদের ঘূর্ণিতে সাকিবদের যে রকম নড়বড়ে মনে হয়েছে, তাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নিয়ে চিন্তায় পড়াই স্বাভাবিক। ব্যাট হাতে এমন নাজুক পারফরম্যান্সের জন্য উইকেটের আচরণ যতটা দায়ী,  তার চেয়েও বেশি ক্রিকেটাররা নিজেরা। কোনো ক্রিকেটারকেই দেখা যায়নি উইকেটে থিতু গেড়ে দলের ইনিংস টেনে নিয়ে যেতে। কিংবা নিজের ইনিংসটাকে লম্বা করতে।

up-arrow