Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১১
তামিমের ব্যাটে পরিচিত বাংলাদেশ
মেজবাহ্-উল-হক
তামিমের ব্যাটে পরিচিত বাংলাদেশ
সেঞ্চুরির পর তামিম ইকবালকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান —রোহেত রাজীব

আফগান পেসার দৌলত জদরানের করা বল রক্ষণাত্মকভাবে খেলে পিচের ভিতর রেখেই দৌড় শুরু করে দেন তামিম। উইকেটের আরেক প্রান্তে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে হেলমেট খুলে ফেলেন।

তারপর এক হাতে ব্যাট, আরেক হাতে হেলমেট উঁচিয়ে ধরেন। সেঞ্চুরি বলে কথা! লাকি সেভেন- ড্যাসিং ওপেনারের সপ্তম সেঞ্চুরি। দেড় বছর পর ওয়ানডেতে শতকের দেখা পেলেন তামিম। ১১৮ বলে দুই ছক্কা ১০ বাউন্ডারিতে সাজানো স্বপ্নিল এক ইনিংস। যে ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশও করলো আফগানদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ রান- ২৭৯। প্রথম দুই ম্যাচের ‘বিরক্তিকর’ পরিস্থিতির অবশেষে দেখা গেল সেই চেনা বাংলাদেশকে। দেখা মিলল সেই আগ্রাসী তামিমের। ছক্কা মারতে ভুলে যাওয়া তামিম কাল হাঁকিয়েছেন বিশাল ছক্কা। মনের যত ক্ষোভ সব যেন আফগান স্পিনার রহমতের দুই বলে ঝেড়ে ফেলেন। প্রথম ছক্কায় বল লং অফ দিয়ে গিয়ে গ্যালারির বাউন্ডারির গ্রিলে আঘাত করে। তামিমের এই বিশাল ছক্কাতেই ২০০ রান হয়ে যায় বাংলাদেশের। আফগান স্পিনার রহমতের পরের বলেই আবারও ছক্কা। সেবার লং অনের ওপর দিয়ে। ওই ওভার থেকে ১৮ রান নেন তামিম। তবে দুর্দান্ত এই ইনিংসকে আফগান দলপতি আসগর স্তানিকজাইকে উৎসর্গ করতে পারতেন তামিম। কেন না তার ভুলেই তো এক রানের মাথায় নতুন জীবন পেয়েছেন!

ভাগ্যই বটে ড্যাসিং ওপেনারের। স্পিনার মোহাম্মদ নবীর বল পুল করতে গিয়ে মিডঅনে ক্যাচ তুলে দেন। কিন্তু রসগোল্লার মতো ক্যাচটি স্তানিকজাইয়ের হাত ফসকে বেড়িয়ে যায়। এই ভুলের মাসুলটা হাড়ে হাড়ে দিতে হয়েছে আফগানিস্তানকে। তাই প্রথম রানের পর তামিমের বাকি রানগুলো যেন একেকটি কাঁটা হয়ে বিঁধেছে আফগান দলপতির বুকে। বাংলাদেশের এই বড় স্কোরে সাব্বির রহমানের অবদানও কম নয়। তার ৭৯ বলে ৬৫ রানের ইনিংসটি ছিল দেখার মতো। তিন ছক্কার সঙ্গে ছয়টি বাউন্ডারি। ড্রেসিং রুমে ফেরার আগেই বাংলাদেশকে শক্ত ভীতের ওপর দাঁড় করিয়ে দেন সাব্বির। অথচ প্রথম দুই ম্যাচে সুবিধাই করতে পারেননি এই মারকুটে ব্যাটসম্যান। গতকাল হঠাৎ করে তাকে ছয় নম্বর থেকে নিয়ে আসা হয় তিন নম্বরে। টিম ম্যানেজমেন্টের এই এক্সপেরিমেন্টের বাজিমাৎ হয়ে গেল। ধুকতে থাকা সাব্বির হাফ সেঞ্চুরি করলেন। ওয়ানডেতে এটি তার তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি। টি-২০ ক্রিকেটেও সাব্বিরকে হঠাৎ তিন নম্বরে নিয়ে আসার পর দুর্দান্ত ব্যাটিং করছেন। গতকাল ওয়ানডেতেও ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করে দিয়ে সাব্বিরের সেরা পারফরম্যান্সটা বের করে আনলেন মাশরাফি। সেই সঙ্গে তিন নম্বর পজিশন নিয়ে যে ভাবনা ছিল সেই দুশ্চিন্তা থেকেও মুক্তি পেল বাংলাদেশ। সাব্বির নেমেছিলেন সৌম্যর আউট হওয়ার পরই। মাত্র ২৩ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারানোর পর বিপদে পড়তে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু সাব্বির ২২ গজে গিয়ে তামিমের সঙ্গে গড়েন ১৪০ রানের জুটি। এই জুটি বাংলাদেশকে বড় স্কোরের পথ দেখিয়েছে। তবে সাব্বির আউট হওয়ার পর সাকিবের সঙ্গে ৪৯ রানের আরেকটি জুটি গড়েন তামিম। কিন্তু ড্যাসিং ওপেনার আউট হওয়ার পর যেন ক্ষণিকের জন্য পথ হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। সে কারণেই দুর্দান্ত শুরুর পরও তিনশর কোটা ছুঁতে পারেনি দল।

তামিম আউট হওয়ার পর অবশিষ্ট ৬৮ বল থেকে মাত্র  ৬৭ রান করেছে বাংলাদেশ। অথচ তামিম সাজঘরে ফেরার পরও হাতে ছিল সাত উইকেট। স্লোগ ওভারের পাশাপাশি এক পাওয়ার প্লেও ছিল। অনায়াসেই স্কোর লাইনটা ৩২০-৩৩০ হতে পারতো। কিন্তু পরের ব্যাটসম্যানরা যাওয়ার আসার মিছিলে যোগ দেন। সাকিব উইকেট আউট হওয়ার আগে বেশ কিছু বলও নষ্ট করেন। মারকাটারি ব্যাটিং করার সময় তিনি খেললেন ৩৪ বলে ১৭ রানের ইনিংস। আট বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা মোশাররফ ১৪ বল থেকে করেছেন মাত্র ৪ রান। তারপরেও যে স্কোরটা শেষ পর্যন্ত ২৭৯ হয়েছে সেটা মাহমুদুল্লাহর ২২ বলে ৩২ রানের অপরাজিত ইনিংসের কল্যাণে। তবে এটিই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টাইগারদের সর্বোচ্চ স্কোর। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের নিউক্লিয়াস বলা হয় মুশফিককে। অথচ এই সিরিজে আফগান লেগ স্পিনারদ্বয় কতটা ভয়ঙ্কর- তা প্রমাণ করার জন্যই যেন মাঠে নামছেন তিনি। স্পিনে সবচেয়ে দক্ষ ব্যাটসম্যান মুশফিক কিনা তিন ম্যাচেই উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন স্পিনারদের। প্রথম ও শেষ ম্যাচে আউট হয়েছেন রশিদ খানের বলে। দ্বিতীয় ম্যাচে মুশফিকের উইকেটটি নিয়েছেন রহমত শাহ। তিন ইনিংসে কোনো হাফ সেঞ্চুরি নেই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ : ২৭৯/৮, ৫০ ওভার (তামিম ১১৮, সাব্বির ৬৫, মাহমুদুল্লাহ ৩২*, সাকিব ১৭, মুশফিক ১২, সৌম্য ১১, মোসাদ্দেক ৪, মোশাররফ ৪, মাশরাফি ২, শফিউল ২, অতি. ১২। মোহাম্মদ নবী ২/৪১, আশরাফ ২/৪৩, রাশিদ ২/৩৯)

আফগানিস্তান : ১৩৮/১০ ৩৩.৫ ওভার। (নওরাজ ৩৩, রহমত ৩৬, সামিউল্লাহ ১৩, নাজিবুল্লাহ ২৬, রশিদ ১৭। মাশরাফি ১/১৫, মোশাররফ ৩/২৪, তাসকিন ২/৩১, মোসাদ্দেক ১/৫ শফিউল ১/২৮, সাকিব ০/৩৪।

(ফল : বাংলাদেশ ১৪১ রানে জয়ী)

এই পাতার আরো খবর
up-arrow