Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:০৪
মিরপুরে যেন কারফিউ!
ক্রীড়া প্রতিবেদক
মিরপুরে যেন কারফিউ!
ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের জন্য কঠোর নিরাপত্তা ছিল মিরপুরে। পুলিশি প্রহরায় রাস্তা ফাঁকা করে ইংলিশ ক্রিকেটারদের গতকাল অনুশীলনে আনা হয় —রোহেত রাজীব

মিরপুর স্টেডিয়ামের ভিআইপি গ্যালারির ছাদে টাঙানো ঘড়িতে তখন বেলা ৩টা বাজে। রৌদ্রকরোজ্জ্বল আকাশ।

মিডিয়া কর্মী থেকে শুরু করে সবাই অপেক্ষায় ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলকে বরণ করতে। ঠিক তখনই নীরবতা ভেঙে অস্থির হয়ে উঠে স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকা। নিরাপত্তাকর্মীদের বাঁশি ও তত্পরতায় পিনপতন নীরবতা নেমে আসে স্টেডিয়াম এলাকায়। সবাইকে বের করে দেওয়া হয় স্টেডিয়াম থেকে। বন্ধ করে দেওয়া হয় স্টেডিয়ামসহ আশপাশের এলাকার দোকানপাট। সরিয়ে দেওয়া হয় লোকজন। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয় পুরো এলাকা। নিরাপত্তাবাহিনীর চিরুনি অভিযানে পুরো এলাকায় নেমে আসে অঘোষিত কারফিউ! এমন চিত্র যখন মিরপুর স্টেডিয়ামের, তখন ধারণার বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দুপুর সাড়ে তিনটায় লাক্সারি বাসে চড়ে স্টেডিয়ামে ঢুকে জস বাটলারের নেতৃত্বে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ৪টায় অনুশীলন শুরু করেন বাটলাররা। কিছুদিন আগে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় ভেস্তে যেতে বসেছিল সিরিজটি। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দিতেই সফরে আসে ইংল্যান্ড। ঢাকায় পা রাখার পর থেকেই নিরাপত্তায় মুড়িয়ে দেওয়া হয় ইংলিশ ক্রিকেটারদের। শোনা যায় সফরকারী  ক্রিকেট দলটিকে সর্বোচ্চ ১৮ ধাপের নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে কোনো ক্রিকেট দলকে এতটা নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি।

১ জুলাই হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় বিদেশিরা নিহত হওয়ার পর সিরিজের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে দুলছিল। ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের নীরবতায় সিরিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবাই যখন শঙ্কিত, তখনই নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখতে ঢাকায় আসে পরিদর্শক দল। চারদিন অবস্থানকালে পরিদর্শক দলকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এতে সন্তুষ্ট হয়ে বাংলাদেশ সফরে আসে ইংল্যান্ড। প্রথম দিন থেকেই নিরাপত্তায় ঢেকে দেওয়া হয়েছে সফরকারীদের।

নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে ঢাকায় আসেননি ইংল্যান্ডের নিয়মিত অধিনায়ক ইউয়ান মরগান। তবে পূর্ণ শক্তির দলই এসেছে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে। দলটিকে রাখা হয়েছে র‌্যাডিসন হোটেলে। যে ফ্লোরে থাকছেন বাটলাররা সেখানে নিরাপত্তা দিতে সাদা পোশাকে পুলিশ থাকছে ২৪ ঘণ্টা। এছাড়া দলটির গাড়িচালক, বল বয়দের সবার আদ্যেপান্তও জেনে নিয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী। ইংলিশ ক্রিকেট দলের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া প্রসঙ্গে বিসিবি সিইও নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া নিয়মনীতি মেনেই নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। আমরা শুধু সরকারের দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করছি। তাদেরকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশ সরকারই দিয়েছে। ’ বিসিবির নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান মেজর (অব.) ইমাম বলেন, ‘সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া আছে। আমরা সেটা দেওয়ারই চেষ্টা করছি। এখানে দেশের মান সন্মানের প্রশ্ন জড়িত। ’ বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে হঠাৎ করে ভিআইপি গ্যালারির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে ঢুকে পড়েন একজন দর্শক। দর্শক মাঠে ঢুকে জড়িয়ে ধরেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফিকে। পরে অবশ্য বিসিবির নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে সরিয়ে নেয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ভিআইপিতে অবস্থানকারী নিরাপত্তাকর্মীরা তখন কি করছিলেন? শোনা যায়, এসব নিরাপত্তাকর্মী বিসিবির পরিচালকদের আশীর্বাদপুষ্ট এবং মিরপুর এলাকার কমিশনারের লোকজন। এরা সবাই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। মাঠে প্রবেশকারী ওই দর্শক বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে। তার বিপক্ষে অবশ্য কোনো মামলা করেনি বিসিবি। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, নিরাপত্তাবাহিনী থাকার পরও একজন দর্শক যেভাবে মাঠে ঢুকে পড়েছেন, তখন নাক উঁচু ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল না আবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অবশ্য তৃৃতীয় ওয়ানডের ঘটনার পরই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে সরকার। যাতে কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

up-arrow