Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:২১
আমাদের কন্ডিশনে আমরা ফেবারিট
আমাদের কন্ডিশনে আমরা ফেবারিট
মোসাদ্দেক হোসেন

দীর্ঘ বিরতির পর আফগানদের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশ ছিল ছন্দহীন। তৃতীয় ম্যাচে ফিরেছে আবার স্ব-ফর্মে। তাই ইংল্যান্ড সিরিজের আগে আত্মবিশ্বাসে লেগেছে বাড়তি হাওয়া। তবে ইংল্যান্ডও ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কাকে হোয়াইটওয়াশ ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে বাংলাদেশে এসেছে। তারপরেও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশকেই ফেবারিট বললেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। গতকাল শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে মিডিয়ার মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। তারই চুম্বুক অংশ প্রতিবেদনে তুলে ধরেছেন মেজবাহ্-উল-হক

 

প্রথম ম্যাচে প্রথম বলে উইকেট। দ্বিতীয় ম্যাচে দ্বিতীয় বলে উইকেট। বোলিংয়ে গোল্ডেন আর্ম হয়ে যাচ্ছে কি?

আমি অলরাউন্ডার হিসেবে দলে সুযোগ পেয়েছি। আমার প্রথম পার্টটা ছিল ব্যাটিং। দ্বিতীয় পার্ট বোলিং। ব্যাটিংয়ের সময় কি হয়েছে তা পুরোপুরি ভুলে গিয়েছিলাম বোলিংয়ের সময়। তখন আমার মনে হয়ে আমার কাজ শুধু বোলিং আর ফিল্ডিং। বোলিংয়ের সময় আমার যে কাজটা ছিল সেটাই করার চেষ্টা করেছি। সেটাই মাঠে করেছি।

প্রথম ম্যাচে বল হাতে দেওয়ার সময় ক্যাপ্টেন কিছু বলেছিল কি না?

মাশরাফি ভাই আমাকে শুধু এটাই বলেছেন যে জায়গায় বোলিং কর, ডট বল করার চেষ্টা করিস। তো আমি শুধু ডট বোলিং করার চেষ্টাই করেছি। ওই সময়ে আমি সাকসেস ছিলাম।

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে যেখানে জাতীয় দলের অন্য ক্রিকেটাররা কিছুটা অস্বস্তিবোধ করছিলেন, সেখানে আপনি ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলেছেন। সাহস কোথায় পেয়েছেন?

অভিষেক ম্যাচে মাঠে নামার আগেই কোচ আমাকে বলে দিয়েছে, তোমার অভিষেক ম্যাচ, তুমি পারফরম্যান্স নিয়ে কোনো চিন্তা কর না। তুমি শুধু খেলাটাকে উপভোগ কর। আবাহনীতে যেমন খেলেছ, সেভাবেই চেষ্টা কর। পারফরম্যান্সটা কোনো বিষয় নয়, তুমি শুধু উপভোগ কর। আমিও সেভাবেই চেষ্টা করেছি।

প্রথম ম্যাচটা ভালো খেলায় কি আপনার আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে এখন?

আসলে প্রিমিয়ার লিগ শেষ করার পর থেকে আমার মনে হয়েছে আমি আত্মবিশ্বাসী। আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত আছি। এটা খুব ভালো হয়েছে যে আমি আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পেয়েছি। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে খেলার কারণে এখন আমার আত্মবিশ্বাসটা আগের চেয়ে একটু বেশি।

ইংল্যান্ড দলের বিরুদ্ধে খেলার ব্যাপারে মানসিকভাবে কতটা প্রস্তুত আপনি এবং ইংল্যান্ড দলকে কীভাবে দেখছেন?

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলার জন্য আজ থেকে মানসিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কীভাবে খেলব না খেলব, কীভাবে চেষ্টা করব সেটা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছি। তবে কি করব না করব তা এখনই বলতে পারছি না। কি করব না করব সেটা খেলার আগের দিন সিদ্ধান্ত নেব।

ইংল্যান্ডের সিরিজটি কেমন হবে?

ইংল্যান্ড আফগানিস্তানের চেয়ে ভালো দল। আশা করছি, আমাদের সঙ্গে খুবই প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হবে। আমরা যেহেতু ছয়টা সিরিজ টানা জিতেছি, তাই সিরিজ জয়ের টার্গেট নিয়েই খেলতে নামব।

ইংল্যান্ড দুর্দান্ত খেলে বাংলাদেশে এসেছে, আর বাংলাদেশ শেষ ম্যাচটি ছাড়া বাকি দুটি ম্যাচে ভালো করতে পারেনি...

সিরিজটি কঠিন হবে কিনা? আমার মনে হয়েছে, আমরা দীর্ঘ ৯-১০ মাস পর খেলতে নেমেছিলাম। সেখানে প্রথম দুই ম্যাচে প্রভাব পড়েছিল। তবে শেষ ম্যাচে আমরা ভালো ভাবে কামব্যাক করেছি। এটা আমাদের জন্য খুবই প্লাস পয়েন্ট যে, ইংল্যান্ড সিরিজের আগে আমরা এমন একটা ভালো ম্যাচ খেলতে পেরেছি।

নিজের ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে আপনার ভাবনা...

আমি যখন প্রিমিয়ার লিগে ভালো ব্যাট করছিলাম, তখন মনে হয়েছিল আন্তর্জাতিক লেভেলে খেললে আমার ওই সময়ই ব্যাট করতে হবে। আমার মানসিক প্রস্তুতিই সে রকম ছিল যে, আমাকে হয়তো লোয়ার অর্ডারে ব্যাটিং করা লাগতে পারে। সে জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম।

ইংল্যান্ডের বোলার সম্পর্কে...

ওদের দুই একজন বোলার ইনজুরড আছে। সে কারণে তারা আসতে পারেনি। যারা এসেছে সবাই আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়। তারা রেগুলার খেলছে। আমি আসলে টিভিতে খেলা দেখেছি। তাতে যতটুকু বোঝা যায় ততটুকুই বুঝেছি। আমাদের কন্ডিশনে আসলে আমরা অনেক ফেবারিট। এটা বিশ্বাস করি যে, আমাদের কন্ডিশনে আমরা ভালো করব।

আফগানদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে হারের পর মানসিক অবস্থা এক রকম ছিল, তৃতীয় ম্যাচে জয়ের পর অন্য রকম। এখন কেমন?

আফগানিস্তান সিরিজ শেষ করার পর সেটা আর কারও মাথার মধ্যে নেই। ড্রেসিং রুমে যখন আলোচনা হয় তখন বুঝতে পেরেছি, সে কথা কারও মাথায় নেই। সবার টার্গেট ইংল্যান্ড সিরিজ নিয়ে। সবাই ব্যক্তিগতভাবে পরিকল্পনা করছে কে কি করবে। আমারও পরিকল্পনা আছে, আমি সুযোগ পেলে কি করব না করব। আমি সেভাবেই প্রাকটিস করছি। আমার পরিকল্পনাটা তখনই সাকসেস করতে পারব যখন আমি মাঠে ভালো খেলব।

দুই সিরিজের মাঝে ছয় দিনের গ্যাপ...

সিরিজের পর দুই তিন দিন গ্যাপ থাকলে আমাদের জন্য হয়তো প্রেসার হয়ে যেত। ছয়-সাত দিনের মতো গ্যাপ পেয়েছি, সেটা আমাদের জন্য খুবই ভালো হয়েছে। আমাদের কিছু খেলোয়াড় প্র্যাকটিস ম্যাচও খেলছে। প্রতিপক্ষকে জানার জন্য আরও ভালো হবে। প্র্যাকটিস ম্যাচের ভিডিও ক্লিপগুলো দেখলে আমরা বুঝতে পারব তাদের দুর্বলগুলো কোথায়। কোথায় তাদের বিরুদ্ধে বোলিং বা ব্যাটিং করলে আমদের ভালো হবে।

উইকেট কেমন হলে ভালো হয়?

আমরা সবাই চাচ্ছি, যে স্পোর্টিং উইকেট হয়। ব্যাটিং-বোলিং সব কিছুই যেন ভালো হয়।

up-arrow