Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১৬
আগ্রাসী ইমরুলের সাইক্লোন সেঞ্চুরি
মেজবাহ্-উল-হক
আগ্রাসী ইমরুলের সাইক্লোন সেঞ্চুরি
ফতুল্লায় প্রস্তুতি ম্যাচে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ইমরুল চমৎকার ব্যাটিং প্রদর্শন করেন। তার সেঞ্চুরি ওয়ানডেতে আসনটি অনেকটা পাকাপোক্ত হয়ে গেল —বাংলাদেশ প্রতিদিন

কী আগ্রাসী ব্যাটিং! ৮১ বলে সেঞ্চুরি। ছক্কা-চারের ফুলঝুড়িতে সাজানো ৯১ বলে ১২১ রানের নান্দনিক ইনিংস।

কখনো স্কোয়ার লেগ, কখনো ফাইন লেগ কখনো বা মিড উইকেট, লং অন, লং অফ দিয়ে একের পর এক বল পাঠিয়ে দিচ্ছেন মাঠের বাইরে। ভাবছেন ক্রিস গেইল বা এবি ডি ভিলিয়ার্সের কোনো ইনিংসের বর্ণনা দেওয়া হচ্ছে? মোটেও না। গতকাল ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে এই সাইক্লোন ইনিংসটি খেলেছেন জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস।  

ইংলিশ ফিল্ডারদের যেন রীতিমতো নাভিশ্বাস  তুলে ফেলেছিলেন। এই টাইগাররা গতকাল যতক্ষণ উইকেটে ছিলেন মনে হচ্ছিল ক্রিস ওয়াকস, ডেভিড উইলিরা যেন অজপাড়া গাঁয়ের বোলার। ইমরুল কায়েস যতক্ষণ উইকেটে ছিলেন মনে হচ্ছিল ক্রিস ওয়াকস, ডেভিড উইলি, আদিল রশিদ, মঈন আলীরা যেন অজপাড়া গাঁয়ের বোলার।

আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে যে ইমরুলের স্ট্রাইকরেট ৬৫.৭১, সেই ইমরুল কাল ব্যাট করলেন ১৩২.৯৬ স্ট্রাইকরেট বজায় রেখে। সেঞ্চুরি করেছেন ‘সাইক্লোন’ গতিতে। ইংলিশ বোলারদের যেন কাঁদিয়ে ছাড়লেন এই টাইগার ব্যাটসম্যান। ছয়টি বিশাল ছক্কা সঙ্গে হাঁকিয়েছেন ১১টি বাউন্ডারি। ইমরুলের ব্যাটে ভর করেই গতকাল ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে ৩০৯ রানের পাহাড়সম স্কোর করে বিসিবি একাদশ। তারপরেও কালকের প্রস্তুতি ম্যাচে হেরে যায় বিসিবি একাদশ। ইংলিশ অধিনায়ক জস বাটলার ও মঈল আলীর হাফ সেঞ্চুরিতে ২৩ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেটে জিতে যায় ইংল্যান্ড।

গতকাল ইমরুলের ঝড়টা বড় সবচেয়ে বেশি গেছে ইংলিশ বোলার আদিল রশিদের ওপর দিয়ে। এই লেগ স্পিনারের ১৪ বল থেকে ইমরুল নিয়েছেন ৩০ রান। আদিলের বলে দুটি ছক্কা ও দুটি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন। ?এক ছক্কায় বল মিড উইকেট দিয়ে গিয়ে পড়েছে গ্যালারির কাছে। আরেক ছক্কায় বল মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছেন স্কোয়ার লেগ দিয়ে। গতকাল অন্য ব্যাটসম্যানরাও কোনো রকম সমীহ দেখাননি আদিল রশিদকে। নিজের কোটার ১০ ওভারে আদিল রশিদ দিয়েছেন ৭৬ রান।

অফ স্পিনার মঈন আলীকেও ছাড় দেননি ইমরুল। তার বলেও মিড উইকেট দিয়ে একটি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়েছেন। ইংলিশ স্পিনার সাত ওভারে ৪১ রান দিয়েছেন। কিন্তু কোনো উইকেটও পাননি। তাকে দিয়ে সাত ওভার বোলিং করানোর পর তার হাতে আর বল তুলে দেওয়ার সাহস পাননি অধিনায়ক জস বাটলার।

ইমরুলের কাছে পাত্তা পায়নি পেসাররাও। ডেভিড উইলিকে তো একে একে তিন তিনবার উড়িয়ে মেরেছেন। কাল এই পেসারকে মেরেই ছক্কা-বৃষ্টি শুরু করেছিলেন ইমরুল। চতুর্থ ওভারেই উইলির বল স্কোয়ার লেগ দিয়ে সীমানা ছাড়া করেন। ২৯তম ওভারে দুই দুটি ছক্কা হাঁকান এই ইংলিশ পেসারের বলে। একটি ফাইন লেগ দিয়ে আরেকটি স্কোয়ার লেগ দিয়ে। ওই ওভারেই আউটও হয়ে যান ইমরুল। তবে তার বলেই সবচেয়ে বেশি তিনটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। ফতুল্লায় কাল ইমরুল শুরুই করেছিলেন আগ্রাসীভাবে। ইনিংসের প্রথম বলেই লং অফ দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রানের খাতা খোলেন। প্রথম ওভারেই পয়েন্ট দিয়ে আরেকটি বাউন্ডারি মারেন তিনি।

প্রস্তুতিটা ভালোই হয়েছে মুশফিকুর রহিমেরও। অনেক দিন থেকে ব্যাটিংয়ে সুবিধা করতে পারছিলেন না। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচে ১৮.৬৭ গড়ে করেছেন মাত্র ৫৬ রান। তাই আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে ইংলিশদের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে অংশ নেন মুশফিক। যদিও বিসিবি একাদশে তার নাম ছিল না। তবে ব্যাট করতে নেমে ৫১ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন তিনি। কোনো ছক্কা না থাকলেও ৫টি বাউন্ডারি মেরেছেন। মুশফিকের ব্যাটে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। নাসির হোসেনও দারুণ ব্যাটিং করেছেন। ব্যাটিং অর্ডারের ৫ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৪৫ বলে খেলেছেন ৪৬ রানের ইনিংস।    

আগের সিরিজে আফগান স্পিনাররা ভুগিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। তখন মনে হয়েছিল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা স্পিনের বিরুদ্ধে ঠিকমতো খেলতেই পারেন না। কিন্তু গতকাল প্রস্তুতি ম্যাচে প্রদর্শিত হলো উল্টো চিত্র! দুই স্পিনার ব্যর্থ হওয়ার পর হয়তো ইংলিশদের আত্মবিশ্বাসেও চোট লেগেছে। কেননা দুই স্পিনার আদিল রশিদ ও মঈন আলীকে নিয়ে উপমহাদেশ জয়ের স্বপ্ন দেখছে ইংল্যান্ড। দুজনকেই নাস্তানাবুদ বানিয়ে গতকাল হতাশ করেছেন ইমরুল-মুশফিকরা। ইংল্যান্ডের প্রধান স্ট্রাইক বোলার ক্রিস ওয়াকসের প্রথম ওভার থেকেই আসে ১৪ রান। যে বোলারই এসেছেন তাকে টাইগার ব্যাটসম্যানদের কাছে নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে। তবে ইমরুল কায়েসের দাপুটে দিনে ব্যর্থ সৌম্য সরকার। জাতীয় দলের এই ওপেনার ১৩ বল খেলে করেছেন মাত্র ৭ রান। যেন ব্যর্থতার গণ্ডি থেকে বের হতেই পারছেন না। তবে সৌম্যর ধারাবাহিক ব্যর্থতা এবং ইমরুলের আগ্রাসী ইনিংসে যেন অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গেল ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালের সঙ্গী কে হতে যাচ্ছেন? কালকের প্রস্তুতি ম্যাচের পর যেন নির্বাচকদের কাজটাও সহজ হয়ে গেল।

up-arrow