Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১৭
চ্যালেঞ্জের মুখে বাফুফে
ক্রীড়া প্রতিবেদক
চ্যালেঞ্জের মুখে বাফুফে
সামনে থিম্পুতে ভুটানের বিপক্ষে বাঁচামরার লড়াই। তাই কঠোর অনুশীলনে ব্যস্ত ফুটবলাররা। ম্যাচ ঘিরে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন কতটা যে চিন্তিত গতকাল তার গ্যালারিতে উপস্থিতিই বলে দিচ্ছে —বাংলাদেশ প্রতিদিন

ক্রিকেটে একের পর এক সিরিজ জিতেছে টাইগাররা। অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপ হকিতে রানার্সআপ হয়ে নজর কেড়েছে যুবারা।

এএফসি ১৪ বাছাই পর্ব মহিলা ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। এসব সাফল্য ক্রীড়াঙ্গন আনন্দে ভাসলেও ফুটবলে পুরুষ জাতীয় দল ব্যর্থতার বৃত্তেই বন্দি হয়ে আছে। কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। জয় নিয়ে মাঠ ছাড়াটা যেন স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। অবস্থা এতটা সংকটাপন্ন যে মালদ্বীপও ছেলেখেলা খেলছে বাংলাদেশকে নিয়ে। অথচ এক সময় এই মালদ্বীপই মোহামেডান ও আবাহনীর সামনে দাঁড়াতে পারত না। ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে তারা কম গোল দেওয়ার জন্য অনুরোধ রাখত। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপাতো দূরের কথা সেমিফাইনালে খেলাটা বাংলাদেশের স্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

সত্যিই ফুটবলে দুঃসময় যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই অচলাবস্থা চলছে জাতীয় দলে। সামনে বাংলাদেশের বিশাল চ্যালেঞ্জ। ১০ অক্টোবর থিম্পুতে এশিয়ান কাপ প্রাক-বাছাই পর্বে ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে। ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার হোম ম্যাচে গোল শূন্য ড্র হয়। এখন বাছাই পর্বে খেলতে হলে ১০ অক্টোবর ম্যাচে ভুটানকে হারাতেই হবে। র্যাঙ্কিংয়ে অধঃপতন  মানের যতই অবনতি ঘটুক না কেন, ভুটানের চেয়ে বাংলাদেশ এখনো শক্তিশালী দল। সেক্ষেত্রে ভুটানের মাটিতেও বাংলাদেশকে ফেবারিট বলা যায়। এরপরও জয় নিয়ে সংশয়ে আছে ক্রীড়ামোদীরা। ফুটবল ইতিহাসে ভুটান এখনো বাংলাদেশকে হারাতে পারেনি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যে পারফরম্যান্স তাতে থিম্পুতে ভুটান জিতে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

বাফুফের কাছে ম্যাচটি আলাদাভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। এমনিতেই কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ভুটানের কাছে হারলেও পরিণতি কি যে হবে তা আগে থেকেই উপলব্ধি করছেন সালাউদ্দিন গংরা। কোচ সেইন্টফিটের ক্যাম্প ৩২ জন ফুটবলার অনুশীলনে ব্যস্ত রয়েছেন। এখান থেকে বাছাই করে ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দল গঠন হবে। দল গঠনে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে কোচকে। কিন্তু শোনা যাচ্ছে এবার খেলোয়াড় ডাকার পেছনে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন নিজে হস্তক্ষেপ করেছেন। বিশেষ করে অবসর নেওয়া মামুনুল ইসলামকে ফিরিয়ে আনার পেছনে বড় ভূমিকা রাখেন সালাউদ্দিন। একজন খেলোয়াড় জাতীয় দল থেকে অবসর নিলে তাকে আর ডাকা হয় না। কিন্তু মামুনুলের বেলায় ঘটল ব্যতিক্রমী ঘটনা।

ঢাকায় ভুটানের বিপক্ষে ইনজুরির কারণে কোচ সেইন্টফিট চূড়ান্ত দলে মামুনুলকে রাখেননি। অথচ মামুনুল বলেছেন, কোনো অবস্থায় তিনি ইনজুরি আক্রান্ত নন। কোচের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। মাঠে মামুনুলের অনুপস্থিতি ভালোভাবে টের পাওয়া যায়। বিষয়টি বাফুফে সভাপতি মেনে নিতে পারেননি। মিডিয়ার সামনে তার কোনো বক্তব্য না থাকলেও কোচকে বলেন, দলে এমনিতেই ভালোমানের খেলোয়াড়ের অভাব। এই অবস্থায় মামুনুলের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া ঠিক হয়নি। মূলত সালাউদ্দিন চাওয়াতেই ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন মামুনুল। চূড়ান্ত দলেও তিনি যে সুযোগ পাচ্ছেন তা নিশ্চিত বলা যায়।

থিম্পুুতে মামুনুল নামছেন। তার আগমনে দলের চেহারা কি পাল্টে যাবে? জয় নিয়ে দেশে ফিরতে পারবে কি ফুটবলাররা? ঘরের মাঠে খেলা, তাই ভুটান চাইবে জয় নিয়ে বাছাইপর্বে উঠতে। এতেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ১০ অক্টোবর জাতীয় দলের অগ্নিপরীক্ষায় বলা যায়। একই অবস্থা কোচ সেইন্টফিটেও। বাফুফে সহ-সভাপতি ও ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ বলেছিলেন, সেইন্টফিট ভালোমানের কোচ তারপরও আমরা তার সঙ্গে চুক্তি করেছি থিম্পু ম্যাচ পর্যন্ত। পরবর্তীতে মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হবে। কিন্তু থিম্পুতে যদি বাংলাদেশ হেরে যায় তাহলে কি সেইন্টফিটের কোনো গুরুত্ব থাকবে নাকি বিদায় ঘণ্টা বেজে যাবে। কোচ বলছেন, ঢাকায় আমরা দুর্ভাগ্যক্রমে জিততে পারেনি। থিম্পুতে জেতার ব্যাপারে আশাবাদী। লিগে স্ট্রাইকাররা গোল পাচ্ছেন। এটা নিঃসন্দেহে ভালো লক্ষণ। আশার বাণী শোনাচ্ছেন সেইন্টফিট। কিন্তু খেলোয়াড়রাতো তাদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারছে না। ডিফেন্স বা অপেন্স কোনো পজিশনে জ্বলে উঠতে পারছে না। থিম্পু ম্যাচ ঘিরে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গেছে বাংলাদেশ। ১০ অক্টোবর কি যে হয় এ নিয়ে টেনশনে আছে ফুটবলপ্রেমীরা।

up-arrow