Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১৯
সংকটাপন্ন ঢাকা মোহামেডান
ক্রীড়া প্রতিবেদক
সংকটাপন্ন ঢাকা মোহামেডান

ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডানের সংকটাপন্ন অবস্থা। ফুটবল, ক্রিকেট বা হকি— বড় তিন খেলাতেই সাফল্য নেই।

বিশেষ করে ফুটবলে দীর্ঘদিন ধরে লিগ শিরোপা পাচ্ছে না। ২০০২ সালে শেষবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। পেশাদার লিগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ঢাকা আবাহনী সর্বোচ্চ চারবার ট্রফি ঘরে তুললেও মোহামেডানের কাছে তা স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরাজিত রানার্সআপ হয়েছে কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। ১৪ বছর ধরে মোহামেডানের মতো বিখ্যাত দল লিগ পাচ্ছে না তা কি ভাবা যায়। গত কয়েক বছর ধরে ফুটবলে যে মানের দল গড়া হচ্ছে তাতে মোহামেডান কবে লিগ জিতবে বলা মুশকিল। অর্থাৎ লিগ শিরোপাটা এখন ঐতিহ্যবাহী সাদা-কালোদের কাছে স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। এবার লিগে এখন পর্যন্ত দলটির যে অবস্থা তা যদি কাটাতে না পারে তাহলে রেলিগেশনের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। মোহামেডানের মতো দল রেলিগেশনের ফাইট দেবে তা কি কেউ স্বপ্নে ভেবেছিল। কথা হচ্ছে কেন এই অবস্থা। এ ব্যাপারে দলের ডাইরেক্টর ইনচার্জ দেশের অভিজ্ঞ সংগঠক লোকমান হোসেন ভূইয়ার একটাই বক্তব্য, তারকা খেলোয়াড় এনে লাভ নেই। দলকে সাফল্য এনে দিতে পারে না তারা। তরুণদের নিয়ে দল গড়লে মোহামেডান লাভবান না হলেও দেশ উপকৃত হচ্ছে। নতুন খেলোয়াড়ের সন্ধান মিলছে। লোকমানের এই বক্তব্য হালকাভাবে দেখার উপায়ও নেই। কেননা, গত ৩-৪ বছরে মোহামেডান এমন কিছু খেলোয়াড় উপহার দিয়েছে যারা পরবর্তীতে জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য তারকা হয়ে উঠেছেন। কিন্তু মোহামেডান এভাবে চললে ঐতিহ্য কি ধরা রাখা যাবে?

১৪ বছর ধরে লিগ না জেতায় সমর্থকরা হতাশায় ভেঙে পড়েছেন। মাঠে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন তারা। সাবেক খেলোয়াড়রাও এই বিপর্যয়ে ক্ষুব্ধ। পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখা যায়, ফুটবলে মোহামেডানের বড় বিপর্যয় ঘটেছিল ১৯৭৪ সালে। সেবার তারা সুপার লিগে উঠতে ব্যর্থ হওয়ায় নবম স্থান দখল করে। এবার ৯ ম্যাচ চলে গেলেও জয়ের মুখ দেখেনি। যা কখনো ঘটেনি। ১৯৯২ সালে ঐতিহ্যবাহী এই দলের অধিনায়ক ছিলেন ছাইদ হাছান কানন। তিনি আক্ষেপ করে বললেন, দুর্বল ম্যানেজমেন্টের কারণে ফুটবলে করুণদশা নেমে এসেছে। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো যাবে কিনা তা নিয়ে আমি শঙ্কিত। লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হওয়ার পর নির্বাচিত কমিটির ঘোষণা ছিল তারা মোহামেডানকে এশিয়ার অন্যতম সেরা দলে পরিণত করবে। মতিঝিল ক্লাবে বহুতল ভবন নির্মাণ ছাড়াও অনেক পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল। বাস্তবে তার কোনোটাই দেখা মেলেনি। শুধু ফুটবল নয়, ক্রিকেট ও হকিতেও বিপর্যয় নেমে এসেছে। দাবা লিগে যে সুনাম ছিল সেটাও ম্লান হতে চলেছে।

আবাহনী একের পর এক ট্রফি জিতছে। শেখ জামাল ও শেখ রাসেলও সাফল্য পাচ্ছে। কিন্তু হতাশা যেন এখন মোহামেডানের সঙ্গী হয়ে পড়েছে। ওয়ান্ডারার্সও একসময় দেশের সেরা দল ছিল। টানা ব্যর্থতায় ক্রীড়াঙ্গনে এখন তারা অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। তাহলে কি মোহামেডানও সেই পথে এগোচ্ছে!’

up-arrow