Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৭ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৩৮
এক ম্যাচে মিস ছয় ক্যাচ
মেজবাহ্-উল-হক
এক ম্যাচে মিস ছয় ক্যাচ
স্ট্রোকসকে আউট করার পর বাংলাদেশ দলের উল্লাস। মিরপুর স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে ৩০৯ রান সংগ্রহ করে। ক্যাচ মিসের কারণে ইংলিশরা চ্যালেঞ্জিং স্কোর ছুড়ে দেয় —রোহেত রাজীব

বেন স্টোকস তখন প্রবল পরাক্রমশালী! তার ব্যাট যেন খোলা তরবারি। রীতিমতো বাংলাদেশের বোলারদের তুলাধোনা করছেন! তিন ‘ম’ মোশাররফ, মোসাদ্দেক ও মাহমুদুল্লাহর বলে হাঁকিয়েছেন গুনে গুনে চারটি বিশাল ছক্কা।

হাঁকিয়েছেন পাঁচটি বাউন্ডারিও। ব্যক্তিগত ৬৯ রানের মাথায় ইংলিশ ব্যাটসম্যান তাসকিনের স্লোয়ার বুঝতে না পেরে মিড উইকেটে তুলে দিলেন ক্যাচ। কিন্তু সহজ ক্যাচটি লুফে নিতে পারলেন না ফিল্ডার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়েও শেষ মুহূর্তে রিয়াদের হাত ফসকে বল মাটিতে পড়ে যায়। সেই শুরু... তারপর একে একে আরও পাঁচ ক্যাচ মিস হয়ে যায়। বাংলাদেশের ফিল্ডারদের ক্যাচ মিসের দিনে ৩০৯ রানের স্কোর করে ইংল্যান্ড।

ভাগ্যই বটে স্টোকসের। ৩০তম ওভারে নতুন জীবন পাওয়ার পর ৩১তম ওভারেও বেঁচে গেলেন। তাসকিনের বলে ডিপ কাভারে স্টোকসের সহজ ক্যাচটি ধরতে পারেননি মোশাররফ হোসেন। দু-দুবার সুযোগ পাওয়ার পর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটা করেই ফেললেন স্টোকস। খেললন ১০০ বলে ১০১ রানের নান্দনিক এক ইনিংস।

স্টোকসের ক্যাচ ছাড়ার পর যেন অস্বস্তিবোধ করছিলেন মোশাররফ। সে কারণেই কিনা ব্যাকওয়াড স্কোয়ার লেগে ডাকেটের ক্যাচটিও তার হাত ফসকে বেরিয়ে গেল। অবশ্য আগের ওভারেও ডাকেটের ক্যাচ মিস হয়েছে। মাশরাফির স্লোয়ার বুঝতে না পেরে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু ডিপ স্কোয়ার লেগে চার ফিল্ডার দৌড়ে বলের কাছাকাছি গিয়েও ক্যাচটি লুফে নিতে পারেননি। এমন ক্যাচ ধরতে পারলে নিঃসন্দেহে সেটি অন্যতম সেরা ক্যাচগুলোর একটি হতো। কিন্তু বাংলাদেশের চার ফিল্ডার যেন ড্রাইভ দেওয়ার সাহসই পেলেন না। বল পড়ে যায় নো-ম্যানসল্যান্ডে।

তবে দু-দুবার নতুন জীবন পাওয়ার পরও দলীয় খাতায় বাড়তি এক রানের বেশি যোগ করতে পারেননি অভিষিক্ত এই ইংলিশ ব্যাটসম্যান। কিন্তু তার আগেই তো তুলে নিয়েছেন মেডেন হাফ সেঞ্চুরি। ৭৮ বলে ৬০ রানের এক সতর্ক ইনিংস।

গতকাল ক্যাচ মিসের দলে তাসকিন আহমেদ ও মোসাদ্দেক হোসেনও নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ৪৮তম (৪৭.৩ ওভার) ওভারে শফিউলের করা শট বলে স্কোয়ার লেগে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক বাটলার। কিন্তু মাশরাফি ও তাসকিনের কেউ-ই তা লুফে দিতে পারেননি। নতুন জীবন পেয়ে শফিউলের ওই ওভারের পরের তিন বল থেকেই ১৪ রান নেন বাটলার। সব মিলিয়ে ওই ওভার থেকে আসে ১৯ রান। ৩৭ রানে যে বাটলারের আউট হওয়ার কথা শেষ পর্যন্ত তিনি করেন ৬৩।

৪৯তম ওভারে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন ওয়াকস। মিড উইকেটে তামিম ও মোসাদ্দেকের মধ্যে ক্যাচটি কে ধরবেন তা নিয়ে ভাবতে ভাবতে বল মাটিতে পড়ে যায়।

তবে এমন ক্যাচ মিসের দিনেও ফিল্ডিংয়ের আপন আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছেন সাব্বির রহমান। ম্যাচের সপ্তম ওভারে যেন একটি নিশ্চিত বাউন্ডারি আটকে দেন। তারপর মিড অফ থেকে সরাসরি থ্রোতে স্টাম্প ভেঙে দিয়ে রানের খাতা খোলার আগেই বেয়ার স্ট্রকে ড্রেসিং রুমের পথ দেখিয়ে দেন। দুই ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান জেসন রয় ও বেন স্টোকসের বিদায়ঘণ্টাও বেজেছিল সাব্বিরের দুর্দান্ত দুই ক্যাচে।

সাকিবের বল ছক্কার উদ্দেশেই মেরেছিলেন রয়। অনেক উপরে উঠেছিল বল। প্রথমে মনে হচ্ছিল ছক্কাই হয়ে যাবে। কিন্তু না, লং অফে বাউন্ডারি লাইনে দাঁড়িয়ে দুর্দান্তভাবে বল তালুবন্দী করেন সাব্বির রহমান। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগেই ৪০ বলে ৪১ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নিতে হয় ইংলিশ ওপেনারকে।

সেঞ্চুরির পর স্টোকস নতুন করে টাইগার বোলারদের ওপর স্ট্রিম রোলার চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মাশরাফির স্লোয়ারে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বল উপরে তুলে দেন। ভাবছিলেন আগের দুবারের মতো হয়তো রক্ষা পেয়ে যাবেন। কিন্তু মোশাররফ কিংবা মাহমুদুল্লাহ নন, ডিপ মিড উইকেটে দাঁড়িয়ে ছিলেন সাব্বির। ভুল হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না! দুর্দান্ত ক্যাচ।

গতকাল মিরপুরে ইংল্যান্ড বড় স্কোর করেছে চতুর্থ উইকেটে দুই ব্যাটসম্যান ডাকেট ও স্টোকসের ১৫৩ রানের অসাধারণ জুটির কল্যাণে। অথচ ক্যাচ মিস না করলে এই জুটিটা ১০৮ রানেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। সেখানে বাড়তি আসে ৪৫ রান। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাটলার ও ওয়াকসের ৬৩ রানের জুটিটাও ৩১ রানেই ভেঙে যেতে পারত। কিন্তু ক্যাচ মিসের খেসারত হিসেবে এই জুটিতেও আসে বাড়তি ৩২ রান। একটু ভাবুন তো, এই বাড়তি (৪৫+৩২) ৭৭ রান না হলে কেমন হতো ইংলিশদের ইনিংস! শেষ পর্যন্ত ২১ রানে হেরে ক্যাচ মিসের খেসারত দিল বাংলাদেশ।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ইংল্যান্ড : ৩০৯/৮, ৫০ ওভার (স্টোকস ১০১, বাটলার ৬৩, ডাকেট ৬০, রয় ৪১; মাশরাফি ২/৫২, সফিউল ২/৫৯; সাকিব ২/৫৯)

বাংলাদেশ : ২৮৮/১০, ৪৭.৫ ওভার (ইমরুল ১১২*, সাকিব ৭৯*, মাহমুদুল্লাহ ২৫; সাব্বির ১৮, তামিম ১৭, বেল ৪/৫১, রশিদ ৪/৪৯,)

ফল : ইংল্যান্ড ২১ রানে জয়ী।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow