Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:২১
ফিনিশার নাসিরকে আর কত উপেক্ষা
মেজবাহ্-উল-হক
ফিনিশার নাসিরকে আর কত উপেক্ষা

নাসির হোসেনকে বলা হয় ‘দ্য ফিনিশার’। এক সময় ছিলেন সাত নম্বর ব্যাটিং অর্ডারে ‘অঘোষিত’ বিশ্বসেরা। লেট অর্ডারে ব্যাট করতে নেমেও ওয়ানডেতে যার গড় ৩২.৩৭। বাংলাদেশের অনেক জয়ের নেপথ্য নায়ক নাসির। সেই নাসির এখন বাংলাদেশ দলে উপেক্ষিত।

ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফর্ম করে নাসির বারবার ১৪ সদস্যের দলে জায়গা করে নেন, কিন্তু কি যেন এক অজ্ঞাত কারণে ‘দ্য ফিনিশার’কে একাদশে নেওয়া হয় না। অথচ বাংলাদেশ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডেতে হেরে গেল কিনা এক ফিনিশারের অভাবেই।

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডেতে পরিষ্কার দেখা গেল নাসির হোসেনের অভাব। জিততে জিততেও হেরে গেল বাংলাদেশ লোয়ার অর্ডারে একজন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান না থাকার কারণে। ৪ উইকেটে ২৭১ রান, সেখান থেকে ২৮৮ রানে অলআউট। হাতে ছয় উইকেট থাকার পরও শেষ ৫২ বলে জয়ের জন্য মাত্র ৩৯ রান করতে পারেনি টাইগাররা।

গত টি-২০ বিশ্বকাপে দেখা গেছে, প্রথম ওয়ানডেতে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে এক ম্যাচে নেওয়ার পর আর কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি নাসিরকে। এক সঙ্গে দুই ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানি সাময়িক নিষিদ্ধ হওয়ার পরও টিম ম্যানেজমেন্টের বিবেচনায় আসেনি এই অলরাউন্ডার।

বরং বেঙ্গালুরুতে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ দেশ থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল শুভাগত হোম ও সাকলাইন সজীবকে। যে ম্যাচে জিততে জিততেও অবিশ্বাস্যভাবে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচের প্রসঙ্গ উঠলে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিমকে কাঠগড়ায় ওঠানো হয়! কিন্তু শেষ বলে শুভাগত হোম উইকেটে থাকার পরও যে এক রান নিতে পারেনি। আর সাকলাইন সজীব যেন বেধড়ক মার খেলেছিলেন তা অগোচরেই থেকে যায়। ওই ম্যাচেও শুভাগত হোমের জায়গা উইকেটে অভিজ্ঞ নাসির থাকলে কি পরিস্থিতি অন্য রকম হতে পারত না!

নাসির বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে থেকেও খেলতে না পারার যন্ত্রণা মেটান গত প্রিমিয়ার লিগে দাপুটে পারফরম্যান্স দিয়ে। ১২ ম্যাচে ব্যাট করে ৭৫.৪২ গড়ে করেছেন ৫২৮ রান। স্ট্রাইক রেটও একশর কাছাকাছি (৯৬.৮৮)। প্রাইম দোলেশ্বরের হয়ে লিগে ৯ ছক্কার পাশাপাশি ৪৫টি বাউন্ডারিও হাঁকিয়েছিলেন নাসির। বল হাতেও দেখিয়েছেন দাপট। নিয়েছেন ১৪ উইকেট। তাই বিশ্বকাপে নাসিরকে বসিয়ে রাখলেও তাকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজে দলে না নিয়ে উপায় ছিল না! কিন্তু একাদশে যথারীতি উপেক্ষিত নাসির।

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরজেও ১৪ সদস্যের দলে রাখা হলো নাসিরকে। নাসিরের ব্যাটে ধার আছে কিনা সেজন্য বিসিবি একাদশের হয়ে প্রস্তুতি ম্যাচে পরখ করে নেওয়া হলো। সেখানেও সফল নাসির। মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে নেমে ৪৫ বলে খেললেন ৪৬ রানের দৃষ্টিনন্দন এক ইনিংস।

নাসির আশায় বুক বেঁধে ছিলেন, হয়তো এবার ভাগ্যের শিকা ছিঁড়বে! কোথায় কি? ইংলিশদের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের একাদশেও নেই। নাসিরকে যদি একাদশে বিবেচনাই করা না হবে তাহলে কেন তাকে ১৪ সদস্যের দলে রাখা হয়।

যেখানে নাসিরের মতো পরীক্ষিত ক্রিকেটার দলে সুযোগ পায় না, সেখানে মোশাররফ হোসেনের মতো ক্রিকেটার দলে এনে ‘বিলাসিতা’ দেখান নির্বাচকরা! যে মোশাররফই কিনা ব্যাট হাতে লোয়ার অর্ডারে নেমে ১৮ বলে করেন ৭ রান। বল হাতে ওভার প্রতি ৭.৬৬ গড়ে তিন ওভারে দিলেন ২৩ রান। তারপর দুটি সহজ ক্যাচ মিস।

অবশ্য মোশাররফের ফিল্ডিং মিসের জন্য বিসিবির ফিল্ডিং কোচ রিচার্ড হ্যালসলকে দোষ দেওয়ার উপায় নেই! কেননা তিনি ছাত্র হিসেবে মোশাররফকে কয় দিনই বা পেয়েছেন। এই মোশাররফ তো প্রাথমিক দলেও ছিলেন না। ঈদের আগে প্রাথমিক দলের ২০ সদস্যের ভার্সনের ছিলেন না। কিন্তু কি দেখে যে নির্বাচকরা তাকে টেনে নিয়ে এলেন দলের বাইরে থেকে!

অনেক সময় এমন হয় যে, এক্সট্রা অর্ডিনারি কোনো ক্রিকেটারকে সুযোগ দিতে প্রাথমিক দলের বাইরে থেকে ডাকা হয়। তাই বলে এমন একজনকে ডাকা হলো যিনি কিনা হারের প্রধান কারণ হয়ে গেলেন।

হ্যাঁ, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২১ রানের এই হারের দায় অনেকটা মোশাররফের ওপরই বর্তায়। বল করতে গিয়ে মাত্র ৩ ওভারেই দিয়েছেন ২৩ রান। তার ওভারেই হয়েছে দুটি বিশাল ছক্কা। ফিল্ডিংয়ে মিস করেছেন দুটি সহজ ক্যাচ। মোশাররফের দয়ায় ৭১ রানে (৬৯ রানে স্টোকসের ক্যাচ মিস করেছেন মাহমুদুল্লাহ) নতুন জীবন পাওয়া স্টোকস শেষ পর্যন্ত খেললেন ১০১ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় ক্যাচটি মিস করেছেন ডাকেটের। যদিও এই ইংলিশ অভিষিক্ত ব্যাটসম্যান মোশাররফের মিসের পর দলীয় আর মাত্র এক রান যোগ করতে পেরেছিলেন। তারপরেও বার বার এমন সহজ ক্যাচ মিস দৃষ্টিকটূই দেখায়।

ব্যাটিংয়ে মোশাররফ ১৮ বলে খেলেন অপরাজিত ৭ রানের ইনিংস। দলের প্রয়োজনে যা সত্যিই হাস্যকর এক ইনিংস। এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, মোশাররফের মধ্যে কি এমন এক্সট্রা অর্ডিনারি কিছু দেখতে পেয়েছিলেন নির্বাচকরা, যে কারণে প্রাথমিক দলে না থাকার পরও ৩৫ বছর বয়সী এক স্পিনারকে হঠাৎ ডেকে আনা হলো! আর নাসির হোসেনের মধ্যে কি এমন ‘বাজে’ কিছু খুঁজে পেয়েছেন, যে কারণে প্রস্তুতি ম্যাচে মারকুটে একটা ইনিংস খেলার পরও তাকে উপেক্ষা করা হয়। আর কত উপেক্ষার শিকার হতে হবে নাসিরকে?

এই পাতার আরো খবর
up-arrow