Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:২৮
সিরিজ জয়ের স্বপ্নে টাইগাররা চট্টগ্রামে
মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম
সিরিজ জয়ের স্বপ্নে টাইগাররা চট্টগ্রামে
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচ খেলতে নাসির তামিম মাশরাফিরা গতকাল চট্টগ্রামে পৌঁছান। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে কাল জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে —বাংলাদেশপ প্রতিদিন

সর্বশেষ টাইগাররা ‘পয়মন্ত’ ভেন্যু চট্টগ্রামে পা রেখেছিল গত বছরের জুলাইয়ে। ১৬ মাসে কর্ণফুলী নদীতে গড়িয়েছে অনেক জল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হয়েছে চট্টগ্রামের অনেক কিছুরই। কিন্তু টাইগারদের সেই চিত্র আর বর্তমান চিত্রের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই। সেই সময় দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ ১-১ সমতা নিয়ে বারো আউলিয়ার পবিত্র ভূমিতে পা রেখেছিল মাশরাফি বাহিনী। এবারও একই চিত্র। কিন্তু চিত্রনাট্যে দক্ষিণ আফ্রিকার জায়গায় এবারের প্রতিপক্ষ ক্রিকেটের জন্মদাতা ইংল্যান্ড। সেবার সৌম্য সরকার, তামিম এবং সাকিবের যৌথ নৈপুণ্যে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ জয় উল্লাসে মেতে উঠে টাইগাররা। এবার টাইগারদের ললাটে কী থাকছে তা নির্ভর করছে আগামীকালের ম্যাচের ওপর।

দেশের মাটিতে টানা সপ্তম একদিনের ম্যাচের সিরিজ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে সোমবার বিকালে চট্টগ্রামে আসে মাশরাফি বাহিনী। একই বিমানে করে আসেন জস বাটলাররাও। চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য আগামীকালের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ জিতলেই সিরিজ নিজেদের করে নেবে। একই সঙ্গে টিম অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে ভাগ বসাবে দেশের মাটিতে টানা সপ্তম সিরিজ জয়ের রেকর্ডে! তাই সবার চোখে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সিরিজ জয়ের রেকর্ডের যৌথ অংশীদার হওয়ার।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের বদলে যাওয়া শুরু হয় চট্টগ্রাম থেকেই। এ মাঠে অনুষ্ঠিত ১৮টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে ১০টিতে জিতেছে টাইগাররা। দুটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। এ মাঠে সর্বশেষ ১০ ম্যাচে আটটিতে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে টাইগারররা। একটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যে ম্যাচটি হারে সেটিতে পাকিস্তানকে ১৭৭ রানের মধ্যে অলআউট করেও ‘ব্ল্যাক আউটে’র জাঁতাকলে পড়ে দুঃখজনকভাবে ওই ম্যাচ হেরে বসে টাইগাররা। তবে টাইগারদের কাছে সবচেয়ে প্রেরণা হতে পারে প্রায় পাঁচ বছর এ মাঠে অপরাজেয় থাকা। ২০১১ সালের ৬ ডিসেম্বরের পর আর কখনো এ মাঠে হারেনি টাইগাররা। এরপর প্রত্যেক ম্যাচেই জয়ী বেশে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা। এ ভেন্যুতে টাইগারদের কাছে হার বরণ করে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলগুলোও।

২০১১ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে দুই উইকেটে হারানোর সুখকর স্মৃতি রয়েছে এ মাঠে। ইমরুল, তামিম, সাকিবের নৈপুণ্য রোমাঞ্চকর এক জয় পায় টাইগাররা। ওই ম্যাচে একাদশে থাকা সাতজনই রয়েছে বর্তমান দলে। বিশ্বকাপের ওই ম্যাচের জয়ের সারথি তামিম, সাকিব, ইমরুল, রিয়াদরা রয়েছেন দারুণ ফর্মে। তাই ওই ম্যাচটি টানা সপ্তম সিরিজ জয়ের টনিক হিসেবে কাজ করবে।

এ ভেন্যুতে একদিনের ম্যাচে সর্বোচ্চ তিন সংগ্রহকারীর একজন মুশফিক। টেস্টে রয়েছেন শীর্ষে। একদিনের ম্যাচে তামিম এবং সাকিবের পরই রয়েছেন বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং স্তম্ভ মুশফিক। কিন্তু গত কিছু দিন ধরে ব্যর্থতার চক্রে ঘুরপাক খেতে থাকা মুশফিকের রানে ফেরার টনিক হিসেবে কাজ করতে পারে এ ভেন্যু। কারণ এ মাঠে টেস্ট সেঞ্চুরিসহ অসাধারণ কিছু ইনিংস রয়েছে তার। এসব ইনিংসই মুশফিককে রানে ফেরাতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।

ঢাকায় দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ী হয়ে সোমবার বিকালে অনেকটা ফুরফুরে মেজাজে চট্টগ্রামে আসেন তামিম-মুশফিকরা। ক্রিকেটারদের আসার খবর পেয়ে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাস্তায় অপেক্ষা করতে থাকে দর্শক। বিমানবন্দর থেকে টিম হোটেলে যাওয়ার পথে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা উত্সুক ক্রীড়াপ্রেমীরা হাত নেড়ে ও স্লোগান দিয়ে অভিবাদন জানান স্বপ্নের নায়কদের।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow