Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:২৯
ভুটানের কাছেও শোচনীয় হার
ফুটবলে এ কী লজ্জা!
বাংলাদেশ ১ : ৩ ভুটান
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ফুটবলে এ কী লজ্জা!

চট্টগ্রামে কাল ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলেই সিরিজ জিতে নেবে টাইগাররা। ক্রিকেটে এখন বাংলাদেশের জয়টা মামুলি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফুটবলে দৃশ্যটা ঠিক তার উল্টো। ব্যর্থতার বৃত্তেই বন্দী হয়ে আছে। কোনো অবস্থায় ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। মালদ্বীপের কাছে কিছুদিন আগে প্রীতি ম্যাচে গোলের বন্যায় ভেসে যায়। ফুটবলে গর্ব করার মতো একটা ব্যাপারই ছিল ভুটানের কাছে না হারা। সেই গর্বটাও খর্ব হয়ে গেল। গতকাল থিম্পুতে এশিয়ান কাপ প্রাক-বাছাই পর্বে অ্যাওয়ে ম্যাচে মামুনুলরা ভুটানের কাছে ১-৩ গোলে হেরে যায়। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে চরম ব্যর্থতার পরিচয়  দিলেও গ্রুপ পর্ব ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে ৩-১ গোলে সান্ত্বনার জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। নিজেদের মাঠে মধুর এক প্রতিশোধ নিল ভুটানিরা।

ঢাকায় প্রথম পর্বে দুই দলের ম্যাচ গোল শূন্য ড্র হয়েছিল। তাই অ্যাওয়ে ম্যাচে বাংলাদেশ যদি ১-১ ড্র করত তাহলে বাছাই পর্বে উঠে যেত। কিন্তু তা আর হলো না, হেরে শুধু বাছাই পর্ব নয় দীর্ঘ সময়ের জন্য আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ হারাল মামুনুলরা। ভুটান কখনো বাংলাদেশকে হারাতে পারেনি। অথচ ফুটবলের যে সংকটাপন্ন অবস্থা তাতে জয় তো বটেই ড্র করতে পারবে কি না তা নিয়ে সংশয় ছিল। শেষ পর্যন্ত তাই হয়েছে, যে ভুটান একসময় গোলের বন্যায় ভেসে যেত। কম গোল দেওয়ার অনুরোধ রাখত। তারাই কি না কাল বাংলাদেশকে নিয়ে ছেলেখেলা খেলল। মামুনুলরা মাঠে এতটা কোণঠাসা ছিল যে গোলের ব্যবধান যদি অর্ধডজনেও ঠেকত তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকত না।

এই হারের পর ফুটবলে লজ্জার আর কিছু কি বাকি থাকল। জনপ্রিয় এই খেলা লাইফ সাপোর্টে আছে এ কথা শুনলেই বাফুফের কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বলেন খেলায় কি হারজিত নেই। এখন কি বলবেন সালাউদ্দিন গংরা। বিদেশে জাতীয় দলের অবস্থা যখন করুণ হয়ে উঠে তখন ফেডারেশনের কর্মকর্তারা ব্যর্থতার দায়ভার স্বীকার করে পদত্যাগ করেন। বাফুফেতে সেই দৃশ্য কি দেখা যাবে?

দলের শক্তি বাড়াতে সালাউদ্দিন এবার দল গঠনে হস্তক্ষেপ করেছিলেন। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফেরার পর দৃঢ় কণ্ঠে এমিলি বলেছিলেন ভুটানকে নিয়ে অযথাই আমরা ভয় পাচ্ছি। ১-৩ গোলে হারের পর কী যুক্তি দাঁড় করাবেন? নিজ মাঠে জয়ের জন্য ভুটান ছিল মরিয়া। যার প্রমাণ মিলে পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়া। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে চমৎকার হেডে জিগমি দর্জি গোল করেন। অথচ রক্ষণভাগ একটু সতর্ক থাকলেই গোল ঠেকানো যেত। এরপর সময় যত গড়িয়েছে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়েছে মামুনুলরা। ২১ মিনিটে অবশ্য তপু বর্মণ গোল করলেও তা অফ সাইডে বাতিল হয়ে যায়। পাঁচ মিনিট পরই চেনচো স্বাগতিকদের পক্ষে দ্বিতীয় গোল করেন। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। ৬৩ মিনিটে মিশুর গোলে ব্যবধান কমে কিন্তু শেষ রক্ষা আর হয়নি। ৭৬ মিনিটে চেনচো পুনরায় গোল করলে ভুটানের স্মরণীয় জয় নিশ্চিত হয়ে যায়।

up-arrow