Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:৫৯
‘টস ছিল বড় ফ্যাক্টর’
মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম
‘টস ছিল বড় ফ্যাক্টর’

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরীর স্টেডিয়ামের উইকেট মানেই স্পিন স্বর্গ। বিগত সময়ে স্পিনারই গড়ে দিয়েছে ম্যাচের ভাগ্য।

অথচ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে দেখা গেছে এ উইকেটের দ্বৈত চরিত্র। ইংলিশ স্পিনাররা পুরো সুবিধা পেলেও সেই সুবিধা আদায় করতে ব্যর্থ হয় সাকিব-নাসিররা। টাইগার কান্ডারি মাশরাফিও ম্যাচ হারার জন্য দুষলেন স্পিনাররা ব্যর্থ এবং টস ভাগ্যকে। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বলেন, ‘ম্যাচের দুই ইনিংসে উইকেটের দুই রূপে দেখা গেছে। শিশিরের কারণেই পুরো উল্টে গেছে উইকেট। প্রথম ইনিংসে উইকেটে দারুণ স্পিন ধরেছে। বল গ্রিপ করেছে। মন্থর উইকেটে বল থেমে থেমে আসছিল। এতে ব্যাটসম্যানদের কাজটা কঠিন হয়ে উঠল। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে বল গ্রিপ-টার্ন করেনি। যে পরিমাণ শিশির পড়েছে, তার অর্ধেকও পড়লে আমি নিশ্চিত ২৭৮ রান তাড়ায় ম্যাচটি পুরোপুরি অন্যরকম হতে পারত। ’ টি২০’র যুগে ৩০০ রানের টাগের্ট তাড়া করে জেতার এখন সাধারণ ব্যাপার হলেও এ ভেন্যুর ক্ষেত্রে তা একেবারেই ভিন্ন। কারণ ভেন্যুতে অতীতে দ্বিতীয় ইনিংসের দলীয় সর্বোচ্চ রানের স্কোর ২৩৯। দলীয় ২২৭ বেশি রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড নেই কোনো দলের। তাই বাংলাদেশের দেওয়া ২৭৮ তো ‘হিমালয়’ সম বলা যেতেই পারে। বড় টার্গেট নিয়ে জিততে না পারার প্রসঙ্গে মাশরাফি মর্তুজা বলেন, ‘ইনিংস বিরতিতে মনে হচ্ছিল ২৭৭ রান অনেক বেশি, তিনশর মতো। আদিল রশিদের পাশাপাশি মঈন আলীও বেশ টার্ন পেয়েছে। আমাদের স্পিনাররা এমন টার্ন পেলে পারফেক্ট ম্যাচ হতে পারত। আমরা আনলাকি ছিলাম যে আমাদের স্পিনাররা ওদের স্পিনারদের মতো কন্ডিশন পায়নি। ওদের স্পিনাররা ১১০ ভাগ সুযোগ নিতে পেরেছে উইকেটের, আমাদের স্পিনাররা সুযোগ পেয়েছে ১০ ভাগ। পেসারদের দিয়ে কাজ চালাতে হয়েছে। পার্থক্যটা এখানেই হয়ে গেছে। ইংল্যান্ড ভালো খেলেছে, ওদের অভিনন্দন। ’ টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে, সম্প্রতি আফগানিস্তান এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে এসে ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গ তোলা হলে মাশরাফি বলেন, খেলা শেষ হওয়ার আগেই তা ছেড়ে না দেওয়া উচিত। মাইন্ড সেটআপটা এমন থাকা উচিত। এই ধরনের মাইন্ড সেটআপটা গুরুত্বপূর্ণ। শেষ বল পর্যন্ত মাইন্ড সেটআপটা থাকা দরকার। ক্রিকেটেতো অনেক কিছুই হতে পারে। ’ সামনে নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কাসহ দেশের বাইরের বিভিন্ন সফর প্রসঙ্গে মাশরাফি বলেন, ‘আমাদের এখন ভিন্ন চ্যালেঞ্জ আসছে। আগামী কয়েক মাস বেশিরভাগ খেলাই এখন দেশের বাইরে হবে। এজন্য আমাদের তৈরি হতে হবে। আমাদের আসল চ্যালেঞ্জ নিউজিল্যান্ড থেকেই শুরু হবে। ওই সিরিজ নতুন করে শুরু করতে পারলে অন্যরকম হবে। অবশ্যই লুজিং সাইডে থাকা সব সময় পেইনফুল। এটাই খেলার নিয়ম। ’

প্রথম ম্যাচটা জয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে গেলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে ম্যাচ হেরে যায় বাংলাদেশ। এমন ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপ রয়ে গেছে বাংলাদেশ অধিনায়কের। তিনি বলেন, এ ম্যাচে (তৃতীয় ম্যাচ) আমরা সর্বোচ্চটাই দিয়েছি। এ ম্যাচে এর চেয়ে বেশি দেওয়া যায় না। প্রথম ম্যাচটা একটু হিসাব করে খেলতে পারলে সিরিজটা হাতছাড়া হতো না।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ : ২৭৭/৬, ৫০ ওভার (মুশফিক ৬৭, সাব্বির ৪৯) আদিল রশিদ ৪/৪৩।

ইংল্যান্ড : ২৭৮/৬, ৪৭.৫ ওভার (ডেস্ককেট ৬৩, বিলিংস ৬২) মাশরাফি ২/৫২, শফিউল ২/৬১।   ফল : ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী।

up-arrow