Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৪৩
টাইগারদের দৃষ্টি এখন টেস্টে
মেজবাহ্-উল-হক
টাইগারদের দৃষ্টি এখন টেস্টে
টেস্টে অধিনায়ক মুশফিকের ব্যাট কি কথা বলবে

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে অখুশি হওয়ার কোনো কারণ নেই। শেষ চার সিরিজের মধ্যে বাংলাদেশ মাত্র একটি সিরিজ হেরেছে। দুই বছরে মাত্র একটি হার। সর্বশেষ দুই সিরিজে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ড্র করেছে। আর জিম্বাবুয়েকে ‘বাংলাওয়াশে’র কৃতিত্ব রয়েছে টাইগারদের। শেষ আট ম্যাচে মাত্র একটিতে হেরেছেন টাইগাররা। তিন ম্যাচে জয় এবং ড্র চারটিতে। তবে বাস্তবতার নিরিখে দেখলে আসলে এটি হচ্ছে পরিসংখ্যানের ‘দুষ্টচক্র’!

ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজটি ড্র হয়েছিল বৃষ্টির কারণে। তা ছাড়া ১৪ মাসে কোনো টেস্ট খেলেনি বাংলাদেশ। আর দীর্ঘদিন টেস্ট না খেলার পরও বাংলাদেশ এমন এক দলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে যে ইংল্যান্ড গত ১৪ মাসে খেলেছে ১৯ টেস্ট; যার মধ্যে মাত্র ৫টি হার। ১৪ ম্যাচের মধ্যে ৯টিতেই জিতেছেন ইংলিশরা। এই দলের সামনে বাংলাদেশ কতটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে সব প্রতিকূলতা মাথায় রেখেই টেস্টের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ।

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কঠিন সিরিজ খেলতে মাঠে নামার আগে টাইগারদের অনুপ্রাণিত করতে পারে গত দুই বছরের পারফরম্যান্স। ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়েকে তিন ম্যাচেই উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচে জয়ের ব্যবধানেও একটা বড় তফাত ছিল— প্রথম ম্যাচে ৩ উইকেটে, দ্বিতীয় ম্যাচে ১৬২ রানে এবং তৃতীয় ম্যাচে জয় ১৮৬ রানে।

বাংলাদেশে দুই বছরের মধ্যে যে মাত্র একটি টেস্ট ম্যাচ হেরেছে তা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। তবে একই সিরিজে প্রথম ম্যাচে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে দাপটের সঙ্গে লড়াই করে ড্র করেছিলেন টাইগাররা। ২০১৫ সালের এপ্রিল-মে মাসে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন তামিম ইকবাল। ২২৪ রানে স্বপ্নিল এক ইনিংস। টেস্টে এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোর। শুধু তাই নয়, নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম উইকেট জুটিতে ইমরুল কায়েসকে নিয়ে ৩১২ রানের মহাকাব্যিক জুটি গড়েছিলেন তামিম। বাংলাদেশের টেস্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের জুটি।

একই বছর ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজের একমাত্র ম্যাচটি প্রথম খেলার পর আর মাঠে গড়ায়নি। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধের দুটি ম্যাচই বৃষ্টির কারণে ড্র হলেও প্রথম ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের। কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমানের অভিষেক ম্যাচেই প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে আধিপত্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। যে তিন দিন খেলা মাঠে গড়িয়েছে তিন দিনই ছিল টাইগারদের দাপট। দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম দিনের পর আর মাঠে গড়ায়নি খেলা।

বাংলাদেশ এখন ওয়ানডেতে যতটা ভয়ঙ্কর, টেস্টে ততটা নয়। ওয়ানডেতে টাইগাররা যে কোনো দলকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সামর্থ্য রাখে। কিন্তু টেস্টে এখন বাংলাদেশ ‘শিশু’! আসলে আইসিসির এফটিপি (ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম) বাংলাদেশ শিশু বানিয়ে রেখেছে। যে দল যত বেশি খেলবে তাদের অভিজ্ঞতার ঝুলি তত বেড়ে যাবে। তা ছাড়া টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যে খুব মনোযোগী, তা বলার উপায় নেই।

একে তো অনেক দিন পর টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, তার ওপর টাইগারদের সেরা বোলার নেই। মুস্তাফিজুর রহমানকে ছাড়াই খেলতে হবে বাংলাদেশকে। তাই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের এই সিরিজ নিয়ে প্রত্যাশারও তেমন কিছু নেই। তবে যতটুকু আশা তা কেবল যেন ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিকেই।ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই টেস্টের সিরিজের প্রথম ম্যাচটি শুরু হবে ২০ অক্টোবর জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। এখনো দল ঘোষণা করেনি বিসিবি। তবে নির্বাচকরা চাচ্ছেন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচের ফল দুটি দেখার পরই সিদ্ধান্ত নিতে। টেস্ট দলে দেখা যেতে পারে বেশ কয়েকটি নতুন মুখ।

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে দারুণ বোলিং করেছেন মাশরাফি। কিন্তু তিনি তো আর টেস্ট খেলেন না। মুস্তাফিজও নেই। এই সিরিজে টেস্ট অভিষেক হতে পারে গতি তারকা তাসকিন আহমেদের। দ্বিতীয় প্রস্ততি ম্যাচের দলেও রাখা হয়েছে তাকে। অভিষেক হতে পারে সাব্বির রহমান ও মোসাদ্দেক হোসেনেরও।

তবে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে ইতিমধ্যেই আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন মোসাদ্দেক। প্রথম শ্রেণির ১৮ ম্যাচে একটি ডাবল সেঞ্চুরি ও সাতটি সেঞ্চুরি রয়েছে। ৭০.৮৯ গড়ে করেছেন ১৯৮৫ রান। সাব্বির রহমান অনেক দিন থেকেই জাতীয় দলে নিয়মিত পারফর্ম করছেন। তাই ইংলিশদের বিরুদ্ধে অভিষেক হতে পারে তারও। এ ছাড়া বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত গত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়া মেহেদী হাসান মিরাজও নির্বাচকদের বিবেচনার মধ্যে রয়েছেন। তবে টেস্টে ভালো করতে হলে ভরসা করতে হবে সিনিয়রদের ওপরই। ইমরুল কায়েস ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে দারুণ ব্যাটিং করেছেন। এ সফরেই ইংলিশদের বিরুদ্ধে দুটি সেঞ্চুরি (একটি ওয়ানডেতে, একটি প্রস্তুতি ম্যাচে) রয়েছে তার। আরেক ওপেনার প্রথম দুই ওয়ানডেতে সুবিধা করতে না পারলেও শেষ ম্যাচে রান পেয়েছেন। সাবিক আল হাসান ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও একটি করে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। তবে আশার খবর হচ্ছে, শেষ ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বড় ইনিংস খেলেছেন টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভালো খেলতে অপরাজিত ৬৭ রানের ইনিংসটা তাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে।

up-arrow