Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৪৫
এখনো তারা উপেক্ষিত
জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
এখনো তারা উপেক্ষিত
ওয়াজেদ গাজী - গোলাম রাব্বানী হেলাল - হাবিবুল বাশার সুমন

জাতীয় পুরস্কার ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকদের বড় প্রাপ্তি। যোগ্যতার স্বীকৃতি মেলে দেশসেরা এই পুরস্কার থেকে। ১৯৭৯ সাল থেকে ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য জাতীয় পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রতিবারই প্রশ্ন উঠে বাছাই নিয়ে। কারা কারা পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে নাম চাওয়া হয় ফেডারেশনের কাছ থেকে। এরপর তা চূড়ান্ত করে জাতীয় পুরস্কারের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি। কোনো সন্দেহ নেই অনেক যোগ্য ব্যক্তিকে এই পদক দিয়ে সম্মান দেখান হয়েছে। কিন্তু তালিকার পাতা উল্টালে এমন কিছু নাম চোখে পড়বে যারা জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন কি না— এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে তবু টনক নড়েনি ক্রীড়া পরিষদ বা মন্ত্রণালয়ের।

ঘোষণা ছিল প্রতি বছরই জাতীয় পুরস্কার দেওয়া হবে। বাস্তবে তা কখনো দেখা যায়নি। এবার চার বছর পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হলো। ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিহাস লিখতে হলে কোনোভাবেই শহীদ শেখ কামালের নাম আড়ালে রাখা যাবে না। দেশের অন্যতম সেরা ক্লাব ঢাকা আবাহনী তার হাত দিয়েই গড়া। ১৯৭৫ সালে ঘাতকদের হাতে তিনি শহীদ হন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে ক্রীড়া উন্নয়নে শেখ কামাল যে ভূমিকা রেখে গেছেন তা কি ভুলবার মতো। অথচ তিনিই কি না এত দিন ছিলেন আড়ালে। এবারে তাকে মরণোত্তর পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। দেরিতে হলেও তার যোগ্যতার মূল্যায়ন করা হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মহল ধন্যবাদ পেতেই পারেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে শেখ কামালের সঙ্গে একাধিক সংগঠককে পুরস্কৃত করা হয়েছে। যারা নানা কারণে বিতর্ক হয়ে আছেন। সে ক্ষেত্রে ক্রীড়া পরিষদের কি উচিত ছিল না সংগঠক হিসেবে এবার শুধু শেখ কামালকে পুরস্কৃত করা। এতে তাকে আলাদা ভাবে সম্মান প্রদর্শন করা যেত। অস্বীকার করা হলেও ক্রীড়া পুরস্কার বিতরণ নিয়ে রাজনীতির খেলা চলে। তাই বঙ্গবন্ধুর পুত্র বলে বিএনপি সরকার আমলে শেখ কামালকে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার দেওয়া হয়নি। কিন্তু আওয়ামী লীগ আমলে এতদিন তার মতো সংগঠক উপেক্ষিত ছিলেন কেন?

আসা যাক কিসের ওপর ভিত্তি করে ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকদের জাতীয় পুরস্কার দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলো কমিটির কাছে নাম পাঠায়। তারপর পারফরম্যান্স অভিজ্ঞতা সবকিছু যাচাই বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হয়। কিন্তু অভিযোগ আছে কমিটিকে সন্তুষ্ট করতে পারলেই যোগ্যতা না থাকার পরও কেউ কেউ জাতীয় পুরস্কার পাচ্ছেন। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করা হচ্ছে। সব কিছু যদি যোগ্যতার বিচারে করা হয় তাহলে অনেক যোগ্য ব্যক্তি এখনো উপেক্ষিত কেন? এক্ষেত্রে বেশ কজনার নাম না বললে নয়। আলী ইমাম ছিলেন ৬০ ও ৭০ দশকে সফল ফুটবলার। কোচ হিসেবেও ছিলেন সফল। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল গড়ার পেছেনে বড় ভূমিকা রাখেন। ১৯৮৯ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এতদিনেও জাতীয় পুরস্কার দিয়ে তাকে সম্মান জানান হয়নি। ওয়াজেদ গাজী কলকাতার বিখ্যাত মোহামেডানের খেলোয়াড় ছিলেন। ৬০ দশকে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। খেলেছেন বিজেএমসি ও ঢাকা মোহামেডানে। ফুটবলার ও কোচ হিসেবে ছিলেন পুরোপুরি সফল। কত তারকা খেলোয়াড় তার প্রশিক্ষণে তৈরি হয়েছে হিসাব মেলানো মুশকিল। তিনি কি জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন না।

নাজির হোসেন ফুটবলে যিনি ছোট নাজির বলেই পরিচিত। রক্ষণভাগে তাকে চীনের প্রাচীর বলা হতো। লোকাল ও জাতীয় দলে আস্থার সঙ্গে খেলেছেন। দুর্ভাগ্য বলতে হয় দেশের এই কৃতী ফুটবলার আড়ালেই থেকে গেছেন। এ কে এম নওশেরুজ্জামান নওশের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলে খেলেছেন। জাতীয় দলের অপরিহার্য ফুটবলার ছিলেন। ঢাকা মোহামেডানের খেলে বেশ কবার সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। তিনিও বঞ্চিত। আবুল হোসেন, সম্রাট হোসেন এমিলি ও গোলাম রব্বানী হেলাল মাঠ কাঁপানো ফুটবলার হলেও তাদেরও কপালে জোটেনি জাতীয় পুরস্কার।

রামা লুসাই। ফুটবল ও হকির উজ্জ্বল নক্ষত্র। অথচ তিনিও বঞ্চিত জাতীয় পুরস্কার থেকে। বলা হচ্ছে দেশের বাইরে আছে বলে তাকে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে না। তাহলে এনায়েত,  সান্টু ও মঞ্জু আমেরিকা প্রবাসী হওয়ার পরও পুরস্কার পেলেন কীভাবে?

ব্যাডমিন্টনে মহিলা এককে এলিনা একাধিক বার চ্যাম্পিয়ন হলেও জাতীয় পুরস্কার পাননি। জাতীয় ক্রিকেট দলের সফল অধিনায়ক হাবিবুল বাশার এখনো পাননি জাতীয় পুরস্কার। বাংলাদেশে লন টেনিসের নাম আসলেই জ্যোতিষের লালের নাম আসবে। কত ট্রফি যে জিতেছেন তার হিসাব নেই। মারা গেছেন বেশ কয়েক বছর আগে। কিন্তু ক্রীড়াঙ্গনে তার অবদানের স্বীকৃতি মেলেনি এখনো।

বাংলাদেশের ক্রিকেট আজ যে অবস্থানে আছে সেখানে সাবের হোসেন চৌধুরীর অবদান কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না। সংগঠক হিসেবে তিনিও পাননি জাতীয় পুরস্কার। মনিরুল হক চৌধুরী, শেখ আকমল ও মনজুর কাদেরের নামও থেকে গেছে আড়ালে।

up-arrow