Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৪৬
পারল না শেখ রাসেল
রাশেদুর রহমান
পারল না শেখ রাসেল
দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক আক্রমণ। তবু গোলের দেখা মেলেনি শেখ রাসেলের। আরামবাগের কাছে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের —বাংলাদেশ প্রতিদিন

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সবুজ চত্বরে ঘাস-কাটা যন্ত্রের কারসাজি হলো। সবুজ ঘাসের রং বদলে গেল অনেকটাই। দেখতে সবুজ কার্পেটের মতো মনে হয়। কেমন যেন একটা নতুনত্বের ছোঁয়া আছে এ মাঠে। গতকাল জেবি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে আরামবাগের মুখোমুখি হওয়ার আগে শেখ রাসেলও এক নতুন সূচনার প্রেরণা খুঁজছিল। পেশাদার লিগের সিলেট পর্বে মোহামেডানকে হারানোর সুখস্মৃতি নিয়ে ঢাকা ফিরেছিল শেখ রাসেল। সঙ্গে ছিল সামনের ম্যাচগুলোয় জয়ের প্রত্যয়; যা তাদের সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে যেতে পারত। কিন্তু হতাশ করলেন আতিকুর রহমান মিশুরা। ঢাকায় ফিরে সেই পরাজয়ের বৃত্তেই আটকে রইলেন তারা। কোচ শফিকুল ইসলাম মানিকের দৃঢ়প্রত্যয় কেবল শব্দের মধ্যেই রয়ে গেল। বাস্তব রূপ আর নিল না! আরামবাগের কাছে ১-০ গোলে হেরে গেছে শেখ রাসেল।

গতি নেই ফুটবলে। কেমন যেন একই স্থানে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে। ফুটবল এমন হয় নাকি! শেখ রাসেল-আরামবাগ ম্যাচের প্রথম দিকের দৃশ্য দেখে এমন মনে হতেই পারে দর্শকদের। তবে ধীরে ধীরে বাড়তে লাগল ফুটবলের উন্মাদনা। প্রাণহীন ম্যাচটা হঠাৎ করেই কেমন যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। প্রথমার্ধের ৩০তম মিনিটে শেখ রাসেলকে এগিয়ে দিতে পারতেন মিঠুন চৌধুরী। তবে তার দারুণ ভলি সতীর্থের পায়ে লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। প্রথমার্ধে শেখ রাসেলের আক্রমণ বলতে ওই একটাই। বাকিটা আরামবাগের এগিয়ে যাওয়ার গল্প। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে থিয়াগো টাইসনের দারুণ গোলে এগিয়ে যায় আরামবাগ। আবদুল্লাহর বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের একটু ওপর থেকে ব্রাজিলিয়ান এই মিডফিল্ডারের বাঁ পায়ের শট প্রতিপক্ষের মিডফিল্ডার মোনায়েম খান রাজুর গায়ে লেগে গোলবার গলে জাল স্পর্শ করে। প্রথমার্ধের গল্পটা ওখানেই থেমে যায়। আরামবাগের গোলের পর শেখ রাসেলও প্রথমার্ধে আর তেমন কোনো আক্রমণ করতে পারেনি।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে প্রায় পুরোটা সময় বল নিয়ন্ত্রণে রেখেছে শেখ রাসেল। দারুণ সব আক্রমণ করেছেন শাখাওয়াত হোসেন রনি, মিঠুন চৌধুরী আর রুম্মন হোসেনরা। তবে গোলের দেখা পায়নি শেখ রাসেল। ম্যাচের ৫৭তম মিনিটেই সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল শেখ রাসেল। শাখাওয়াত হোসেন রনির ভলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তা আর হয়নি। ৬৭ মিনিটেও শাখাওয়াত সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে তার দুর্দান্ত শট রুখে দেন আরামবাগের গোলরক্ষক পাপ্পু হোসেন। একের পর এক ব্যর্থ আক্রমণ শেখ রাসেলের সমর্থকদের হতাশ করতে থাকে। ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে ক্যামেরুনের ডিফেন্ডার ইকাঙ্গা ডি বক্সের ভিতরে বল পেয়েও লক্ষ্যভ্রস্ট শট করে সুযোগ নষ্ট করেন। এর ২ মিনিট পর ক্যামেরুনের স্ট্রাইকার পল এমিলের শট সাইডবারের বাইরে দিয়ে চলে যায়। বদলি খেলতে নামা মিঠুন চৌধুরীর ব্যক্তিগত কয়েকটি আক্রমণ সফলতার মুখ দেখেনি। আরামবাগের ডিফেন্স লাইনে বার বারই বাধা পেয়েছে শেখ রাসেলের আক্রমণভাগ। রুম্মন হোসেনও ম্যাচজুড়ে বেশ কয়েকটা দুরন্ত আক্রমণ চালান ডান দিক থেকে। তবে তিনিও ব্যর্থ হন। মোনায়েম খান রাজু দ্বিতীয়ার্ধের ৮৬তম মিনিটে ডি বক্সের ডান কোণ থেকে ফ্রি কিক শট করেছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় পুরোটা সময় শেখ রাসেলের আক্রমণ রুখতেই ব্যস্ত থাকে আরামবাগের ডিফেন্স লাইন। তবে শেষ দিকে আরামবাগের সাজিদ দারুণ এক সুযোগ নষ্ট করেন। তার বাইসাইকেল শট গোলবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে বড় পরাজয়ের কবল থেকে বেঁচে যায় শেখ রাসেল। এ পরাজয়ে নিচের দিকেই রয়ে গেল শেখ রাসেল। ১০ ম্যাচ খেলে ৭টিতেই হেরেছে কোচ শফিকুল ইসলাম মানিকের দল। একমাত্র জয়টি এসেছে মোহামেডানের বিপক্ষে। ড্র করেছে দুই ম্যাচে। ৫ পয়েন্ট নিয়ে শেখ রাসেলের বর্তমান অবস্থান ১১ নম্বরে। এদিকে গতকালের জয়ে আরামবাগ ১৪ পয়েন্ট নিয়ে উঠে গেল ৬ নম্বরে। মৌসুমের তৃতীয় জয় পেয়েছে তারা।

up-arrow