Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৪৯
প্রস্তুতি ম্যাচে ধৈর্যের পরীক্ষা
মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম
প্রস্তুতি ম্যাচে ধৈর্যের পরীক্ষা
হাফ সেঞ্চুরির পর ব্যাট উঁচিয়ে দর্শকদের অভিনন্দনের জবাব দিচ্ছেন শাহরিয়ার নাফিস — বাংলাদেশ প্রতিদিন

ম্যাচের গায়ে প্রস্তুতির মোড়ক লাগানো থাকলেও সৌম্য, নাফিস, রুবেলদের জন্য ম্যাচটি ছিল বিশেষ কিছু। কারণ এ ম্যাচে যারা ভালো করবেন তাদের টেস্ট দলে থাকার দাবিটা জোরালো হবে। একইভাবে নিজেদের চেনানোর সুযোগ ছিল এবাদত হোসেন, আবু জাহেদ এবং সাদমানসহ জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়ার তরুণদের। কাগজে-কলমে দুদিনের ম্যাচ হলেও খারাপ আউট ফিল্ডের কারণে প্রথম দিনের খেলা বাতিল হওয়ায় ম্যাচটি কার্যত একদিনের ম্যাচে পরিণত হয়। দুদলেই ব্যাটিং করার সুযোগ পায় ৪৫ ওভার করে। স্বল্প দৈর্ঘ্যর এ ম্যাচে ভালোভাবেই প্রস্তুতি সেরেছেন সৌম্য, নাফিসরা। দুদলের ব্যাটসম্যানরা প্রস্তুতি সারার পাশাপাশি ম্যাচের ভাগ্যে লেখা হয়েছে ড্র।   

এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের প্রস্তুতি ম্যাচে চেনা রূপে দেখা গেছে রান খরাতে থাকা সৌম্য সরকারকে। তাকে দেখা গেছে ডাউন দ্য উইকেটে এসে বাউন্ডারি মারতে। আবার দেখা গেছে বলের ধরন অনুযায়ী রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে। যা ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিলেন সৌম্য। তার ৯৫ বলে ৩৩ রানের ইনিংসে ছিল ২ ছক্কা ও ২ চার। একইভাবে ৭৯ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলে টেস্ট দলে ফেরার দাবি জানালেন ২০১৩ সালে সর্বশেষ টেস্ট খেলা নাফিস। পরে ব্যাটসম্যানদের সুযোগ দিতে দুজনে ড্রেসিংরুমে ফিরে গেলে শেষের দিকে ৪৫ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলেন এ ম্যাচের অধিনায়ক  সাব্বির রহমান।

এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় জো রুট। বিসিবি একাদশের হয়ে এক প্রান্তে নতুন বল নেন এবাদত হোসেন। আরেক প্রান্তে নতুন বল হাতে নেন জাতীয় দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার। শুরুতে আক্রমণাত্মক ঢঙে খেলে যান ডাকেট। মন্থর উইকেটে খেলেছেন দারুণ সব শট। ৬৩ বলে ৫৯ করার পর স্বেচ্ছায় মাঠ ছাড়েন তিনি। ইনিংসের ১৫তম ওভারে বোলিংয়ে আসেন সাব্বির। তবে প্রথম ওভারেই দেন ১১ রান। তবে নিজের তৃতীয় ওভারে মাত্র দুই রান দিয়ে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ইংলিশদের এ ম্যাচের অধিনায়ক জো রুটকে। আরেকপাশে থাকা ডানহাতি ওপেনার হামিদ কট বিহাইন্ড হয়েছেন সাব্বিরের লাফিয়ে ওঠা একটি বলে। এর মাঝে জুনিয়র জিওফ বয়কট বলে পরিচিত পাওয়া হামিদ করেন ৫৬ বলে ১৬।  ২ উইকেটে ৮৭ রান নিয়ে লাঞ্চে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। লাঞ্চের পর খানিকটা ব্যাটিং অনুশীলন করে নেন গ্যারি ব্যালান্স ও মঈন আলী। রান করার চেয়ে উইকেটে সময় কাটানোতেই বেশি মনোযোগ দেন বাঁহাতি এই দুই ব্যাটসম্যান। দেড় ঘণ্টা উইকেটে ছিলেন ব্যালান্স। আর ৭৪ মিনিট ছিলেন মঈন। শেষ দিকে সাব্বিরের বলে কামরুল ইসলাম রাব্বির হাতে ধরা পড়েন মঈন। শেষ পর্যন্ত জনি বেরিস্ট্রো (২) ও গ্যারি ব্যালান্স (২৭) অপরাজিত ছিলেন। ইনিংসে বিসিবি একাদশের হয়ে মোট আটজন বোলার হাত ঘুরালেও উইকেট পেয়েছেন সাব্বিরই। বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের আগামীর কাণ্ডারি এবাদত ও আবু জায়েদ অসাধারণ বোলিং করেছেন। জায়েদ ৬ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ১৭ রান। এবাদতের ৬ ওভার থেকে এসেছে ২৭।

ম্যাচ শেষে সৌম্য সরকার বলেন, সময়টা ভালো যাচ্ছিল না। নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য দীর্ঘক্ষণ মাঠে থাকার পরিকল্পনা ছিল। সে চেষ্টায় সফল হয়েছি। নাফিস ভাই ভালো ব্যাটিং করেছেন। ওনাকে সঙ্গ দিয়ে গিয়েছি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস : ৪৫ ওভারে ১৩৭/৪ (ডি.) ডাকেট রিটায়ার্ড আউট ৫৯, ব্যালান্স ২৭ (অপরাজিত), সাব্বির ২৭/৩ 

বিসিবি একাদশ প্রথম ইনিংস : ৪৪ ওভারে ১৩৬/৪ (শাহরিয়ার রিটায়ার্ড আউট ৫১, সৌম্য রিটায়ার্ড আউট ৩৩, শান্ত ১১, সাব্বির ৩০, মোসাদ্দেক ০; ব্রড ০/২০, ব্যাটি ২/৩১, ফিন ০/২৬, আনসারি ০/২৩, রশিদ ০/১০, মঈন ০/২২, বল ০/১)।

up-arrow