Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:২৫
সৌম্য আছেন নেই শাহরিয়ার
চার নতুন মুখ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
সৌম্য আছেন নেই শাহরিয়ার

সর্বশেষ এক মাসের মধ্যে খেলা শাহরিয়ার নাফিসের পাঁচ ইনিংস— ৭৬, ৭২, ৪৮, ৪০* ও ৫১*। প্রথম চার ইনিংস চলতি জাতীয় লিগে বরিশাল বিভাগের হয়ে, আর শেষেরটি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের হয়ে।

তারপরও টেস্ট দলে জায়গা হয়নি শাহরিয়ারের।

১৪ সদস্যের দলে সুযোগ পেয়েছেন ম্যাচের পর ম্যাচ ব্যাট হাতে ব্যর্থ সৌম্য সরকার। যার সর্বশেষ পাঁচ ইনিংস— ০, ২০, ১১, ৭ ও ৩৩*। প্রথম তিন ইনিংস আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে জাতীয় দলের হয়ে। পরের দুটি ইনিংস বিসিবি একাদশের হয়ে প্রস্তুতি ম্যাচে।

জাতীয় দলের নিয়মিত ওপেনার হওয়ার পরও গত এক বছরে সৌম্যের কোনো হাফ সেঞ্চুরিও নেই। ঘরোয়া লিগেও ব্যর্থতার ষোলকলাপূর্ণ করেছেন সৌম্য। প্রিমিয়ার লিগে ১৫ ম্যাচে মাত্র একটি হাফ সেঞ্চুরি। গড় মাত্র ২৩.২৬— ঘরোয়া লিগে জাতীয় দলের নিয়মিত এক ওপেনারের এই অবস্থা! তারপরও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে দলের পর টেস্টেও সৌম্য!

প্রিমিয়ার লিগের ১০ ম্যাচেই শাহরিয়ার নাফিসের একটি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে। শুধু তাই নয়, চলতি জাতীয় লিগে তো তার ব্যাটে ম্যাচে রানের ফোয়ারা। তিন ম্যাচে ৭৮.৬৬ গড়ে করেছেন ২৩৬ রান। আর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে খেলেছেন ৫১ রানের ইনিংস। গত এক বছরে ফিটনেস নিয়েও ব্যাপক পরিশ্রম করেছেন। তারপরও নির্বাচকদের মন গলাতে পারেননি শাহরিয়ার।

শাহরিয়ারের মতো যেন উপেক্ষার শিকার হয়েছেন পেসার আল আমিন হোসেনও। তাকেও নেওয়া হয়নি টেস্ট দলে। ওয়ানডে দলে থাকলেও একাদশে সুযোগ না পাওয়া আল আমিনকে টেস্টের জন্যই বিশ্রামে রাখা হচ্ছে, এমন কথা শোনা গেছে। কিন্তু একাদশ তো দূরের কথা প্রথম টেস্টের ১৪ সদস্যের দলেও নেই ঝিনাইদহের এই পেসার।

অবশ্য ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্টে পেস নিয়ে আলাদা কোনো পরিকল্পনা নেই বিসিবির। তা না হলে দলে মাত্র দুজন পেসার থাকবেন কেন?

ওয়ানডে দলের পর চমক হিসেবে টেস্টে জায়গা পেয়েছেন শফিউল ইসলাম। আরেক পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি জায়গা পেয়েছেন প্রথমবারের মতো। সব মিলে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট দলে নতুন মুখ চারটি। রাব্বি ছাড়াও রয়েছেন সাব্বির রহমান, নুরুল হাসান সোহান ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

সব মিলিয়ে গত বছরের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশের সর্বশেষ টেস্ট স্কোয়াড থেকে পরিবর্তন পাঁচটি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেই দলে থাকা জুবায়ের হোসেন, লিটন দাস, মোহাম্মদ শহীদ, নাসির হোসেন ও রুবেল হোসেন বাদ পড়েছেন। তাসকিন আহমেদকে নেওয়ার কথা থাকলেও কোচের আপত্তির কারণে তাকে দলে রাখা হয়নি। সুযোগ পেয়েছেন স্পিনিং অলরাউন্ডার শুভাগত হোম।

চলতি বছরের শুরুর দিকে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১২টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৪১ উইকেট নিয়েছেন। ব্যাট হাতে ৪০.৩০ গড়ে করেছেন ৫২৪ রান। ৫টি হাফ সেঞ্চুরিও রয়েছে তার। সে কারণেই মিরাজকে দলে রেখেছেন নির্বাচকরা। ওয়ানডের নিয়মিত মুখ সাব্বির রহমানের টেস্টে সুযোগ পাওয়াটা প্রত্যাশিতই ছিল। রাব্বি অনেক দিন থেকেই ঘরোয়া লিগে নিয়মিত পারফর্ম করছেন। গত বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-২০ সিরিজের দলে থাকলেও আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়নি তার। ৪৭টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে তার উইকেট ১০৩টি। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্টেই জাতীয় দলের জার্সি গায়ে উঠতে পারে রাব্বির।

আরেক নতুন মুখ নুরুল ইসলাম সোহান দারুণ উইকেট কিপিং করেন। টি-২০ দলের হয়ে তার জাতীয় দলে অভিষেকও হয়েছিল। ৬ ম্যাচ পরেই আবার বাদ পড়েছেন। তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে উজ্জ্বল তিনি। ৪৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৪১.৮১ গড়ে করেছেন ২৪২৫ রান। ৫ সেঞ্চুরির সঙ্গে ১৩টি হাফ সেঞ্চুরিও রয়েছে তার। গত সপ্তাহে জাতীয় লিগে খুলনা বিভাগের হয়ে দারুণ একটি সেঞ্চুরিও হাঁকিয়েছেন। তারই পুরস্কার হিসেবে ডাক পেয়েছেন টেস্ট দলে।

মজার বিষয় হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দল পেস বোলিংয়ে মনোযোগী হলেও টেস্টে ইংলিশদের স্পিন দিয়েই কাবু করার কৌশল করছে। সে কারণে দলটি স্পিন নির্ভর করা হয়েছে। নির্বাচকরা যেন একাদশে তিন স্পিনার খেলানোর ইঙ্গিতই দিয়েছেন। তা ছাড়া ১৪ সদস্যের দলে কেন মাত্র দুজনই পেসার নেবেন। শুভাগত হোমকে দলের ফেরানোর পেছনেও রহস্য হচ্ছে তার স্পিন সামর্থ্য।

প্রথম টেস্টের বাংলাদেশ দল

মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, সাব্বির রহমান, সৌম্য সরকার, তাইজুল ইসলাম, শুভাগত হোম চৌধুরী, শফিউল ইসলাম, কামরুল ইসলাম রাব্বি, নুরুল হাসান।

up-arrow