Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:০২
শুভদিনে শেখ রাসেলের জয়
ক্রীড়া প্রতিবেদক
শুভদিনে শেখ রাসেলের জয়
গোলের পর নাসিরকে নিয়ে সতীর্থদের উল্লাস

পরাজয়ের বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে এলো শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র। সিলেট থেকে জয় নিয়ে ফিরেও আরামবাগের কাছে পরাজয়ে বাড়তে থাকা আত্মবিশ্বাস অনেকটাই হারিয়েছিল শফিকুল ইসলাম মানিকের শিষ্যরা।

তবে গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শক্তিশালী শেখ জামালের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয় পেয়েছে তারা। শেখ রাসেলের জন্মদিনে ভক্তদের দারুণ উপহারই দিলেন আতিকুর রহমান মিশুরা।

শেখ জামাল লম্বা পাসেই বেশি খেলে। ওদের জার্মান স্টাইলের আক্রমণ রুখার জন্য শক্তিশালী রক্ষণভাগ ছাড়াও প্রয়োজন কাউন্টার আক্রমণের জন্য প্রস্তুত একটা বিশেষ উইং। কোচ শফিকুল ইসলাম মানিকের চিন্তায় বুঝি এমনটাই ছিল। শেখ জামালের লম্বা পাসের আক্রমণগুলো ইকাঙ্গা-মিশুদের বাধার সামনে বারবারই হোঁচট খেয়ে ফিরে এসেছে। অবশ্য শেখ রাসেলের আক্রমণভাগও ছিল সক্রিয়। প্রথমার্ধে নাসিরুল ইসলাম নাসিরের ওভারল্যাপগুলো চোখে পড়ার মতোই ছিল। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স বেশ কয়েকটা দারুণ সুযোগ তৈরি করে শেখ রাসেলের জন্য। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে কাউন্টার আক্রমণে দ্রুত বদলে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট। তবে ডানপ্রান্ত থেকে নাসিরের দারুণ ক্রসে পেনাল্টি বক্সের ভিতরে বল পেয়েও দারুণ সুযোগ নষ্ট করেন রুম্মন হোসেন। তবে ম্যাচের ১৬ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে  থেকে জামাল ভূইয়ার আলতো করে বাড়ানো বল পেয়ে শেখ জামালের গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে তার দুই পায়ের ফাঁক গলে ডানপ্রান্ত দিয়ে বল জালে পাঠান নাসির। শেখ রাসেল এগিয়ে যাওয়ার পর বেশ কয়েকটা জোরালো আক্রমণ করেও শেখ জামাল গোল করতে পারেনি। ওয়েডসন-ডার্লিংটন দারুণ কিছু সুযোগ তৈরি করেছিলেন। প্রথমার্ধে নাসির ডি বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট নিলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৩৩ মিনিটে শেখ জামালের রকিব সরকার দারুণ একটা শট নিলেও তা গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। প্রথমার্ধটা শেষ হয় এভাবেই।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের দিক থেকে এগিয়ে থাকে শেখ রাসেলই। শহীদ শেখ রাসেলের জন্মদিনে ভক্তদের জয় উপহার দিতে যেন মরিয়া হয়ে যান আতিকুর রহমান মিশুরা। ৪৯ মিনিটে ডি বক্সের ভিতরে গোলরক্ষকের বাধা পেয়ে মাটিতে পড়ে যান রুম্মন হোসেন। তবে রেফারি রুম্মনের পেনাল্টির আবেদন খারিজ করে দেন। এর পরই ঘটে সেই দুর্ঘটনা। ম্যাচের ৬২ মিনিটে ডি বক্সের ডান কোণ থেকে ডার্লিংটনের দুর্দান্ত ফ্রি কিক রুখে দেন শেখ রাসেলের গোলরক্ষক জিয়াউর রহমান। তবে এই ফ্রি কিক রুখতে গিয়ে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রায় ৭ মিনিট বন্ধ থাকার পর পুনরায় খেলা শুরু হয়। জিয়াউর রহমানের পরিবর্তে শেখ রাসেলের গোলপোস্ট সামলাতে মাঠে নামেন বিপ্লব। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে গোলপোস্ট ফাঁকা পেয়েও পেনাল্টি বক্সের ভিতর থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন রাজন মিয়া। ম্যাচের বাকি অংশে শেখ জামাল মরিয়া হয়ে চেষ্টা করলেও কোনো সফলতা পায়নি তারা।

এ জয়ে প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচে পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের স্থান ধরে রাখল শেখ রাসেল। ১১ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট সংগ্রহ করে ১১ নম্বরেই থাকল শেখ রাসেল। গতকাল মোহামেডানকে হারিয়েও উত্তর বারিধারা নিজেদের স্থান পরিবর্তন করতে পারেনি। ১১ ম্যাচ খেলে তাদের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট। ১৯ পয়েন্ট নিয়ে শেখ জামাল রয়ে গেল চার নম্বরেই। লিগে শীর্ষে অবস্থান করছে রহমতগঞ্জ। ১০ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ২২ পয়েন্ট।

up-arrow