Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:০৯
মুশফিকদের মনে ড্রয়ের মন্ত্র
মেজবাহ্-উল-হক, চট্টগ্রাম থেকে
মুশফিকদের মনে ড্রয়ের মন্ত্র
টেস্টে ব্যাটিংয়ে জ্বলে উঠতে হবে। দুই নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও হাবিবুল বাশার এ কথাই কি বলছেন মুমিনুল ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে —বাংলাদেশ প্রতিদিন

‘মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়’। স্বপ্ন দেখতে কারও বাধা নেই।

স্বপ্ন দেখার কোনো সীমারেখাও নেই। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে স্বপ্নের হাত ধরে কণ্টকাকীর্ণ সিঁড়ি বেয়েই মানুষ একসময় সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে যায়। স্বপ্নই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে! কিন্তু টেস্ট নিয়ে কী স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল? নাকি দীর্ঘ বিরতির পর স্বপ্ন দেখতেই ভুলে গেছেন মুশফিকরা।

না হয় দীর্ঘ ১৫ মাস পর টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ, কিন্তু ক্রিকেটাররা তো আর খেলার বাইরে ছিলেন না। তা ছাড়া খেলাটাও হচ্ছে ঘরের মাঠেই। চেনা দর্শক, চেনা পরিবেশ! বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুবিধা, ম্যাচটি হচ্ছে প্রচণ্ড গরমে। ইংলিশদের নাভিশ্বাস বের করে দেওয়ার জন্য চট্টগ্রামের ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাই যথেষ্ট। তার পরও কেন রক্ষণাত্মক মনোভাব নিয়ে মাঠে নামছেন টাইগাররা। কেন মুশফিকদের মনে কেবলই ড্রর মন্ত্র!

যদিও কাল সংবাদ সম্মেলনে বেশ তর্জন-গর্জন করেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক, কিন্তু টেস্টের একাদশ আর উইকেট দেখে তা ফসকা গেরোই মনে হচ্ছে! মুশফিক বলেন, ‘ইংল্যান্ড টেস্ট সিরিজে পরিষ্কার ফেবারিট। তবে এটাই শেষ কথা নয়। ওয়ানডে সিরিজেও আমরা ফেবারিট ছিলাম, কিন্তু হেরেছি। গুরুত্বপূর্ণ হলো একটা দল সেশন বাই সেশন কতটা ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে পারে। সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রথম ইনিংস হবে গুরুত্বপূর্ণ। যে লিড পাবে বা শুরুতে ম্যাচের লাগাম ধরতে পারবে, তারাই পুরো নিয়ন্ত্রণ করবে। আমরা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে মুখিয়ে আছি। আমাদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। আশা করি, আমরা কঠিন লড়াই করতে পারব। ’ টাইগার ক্যাপ্টেন এ কথাও বলেছেন, ‘অসম্ভব কিছুই নয়। ’ তবে টেস্ট দল ও উইকেটের কন্ডিশন মুশফিকের কথাকে সায় দেয় না। এমন উইকেটে খেলা হচ্ছে, জহুর আহমেদ চৌধুরীর যে তিন নম্বর উইকেটে আগের চার ম্যাচের তিন ম্যাচই হয়েছে ড্র। আর এক ম্যাচেই জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। মনে হতে পারে, বাংলাদেশ এমন উইকেট বানিয়ে তো হোম কন্ডিশনের ফায়দা আদায় করে নেবে, এতে সমস্যা কোথায়?

সমস্যা এখানেই যে, এমন পিচে ব্যাটসম্যানরা উপহার না দিলে তাদের উইকেট নেওয়া বোলারের জন্য দুঃসাধ্য ব্যাপার। এমন উইকেটে খেলা মানে আগে থেকে ড্রর কথা চিন্তা করে মনে মনে আত্মসমর্পণ করেই মাঠে নামা।

২০১৩ সালের অক্টোবরে এ উইকেটে প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের করা ৪৬৯ রান টপকে লিড নিয়েছিল বাংলাদেশ। সোহাগ গাজীর সেই রেকর্ডের ম্যাচ, সেঞ্চুরির পর ইনিংসে ৬ উইকেট। মুমিনুল হকের ১৮১ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস। দুই দলের প্রথম দুই ইনিংস খেলতেই শেষ হয়ে গিয়েছিল সাড়ে তিন দিন। তারপর যথারীতি ড্র।

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কা ৫৮৭ রান করার পর বাংলাদেশ করেছিল ৪২৬ রান। প্রথম দুই ইনিংসেই শেষ চার দিন। সে ম্যাচও ড্র। একই বছরের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের জোড়া সেঞ্চুরিতে ৫০৩ রান করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে জিম্বাবুয়েও খেলে বড় ইনিংস। দুই ইনিংস খেলতে তিন দিন শেষ হওয়ার পরও স্পিনারদের দাপটে জিতেছিল বাংলাদেশ। সেটা ছিল ব্যতিক্রম। সব শেষ দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একই ভাবনা থেকে উইকেট তৈরি করলেও বৃষ্টির কারণে উইকেট বদলে গিয়েছিল, তারপর বৃষ্টির কারণেই ড্র।

টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনাটি আরও পরিষ্কার হয়ে যাবে আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশ দেখার পর। যে দলে পেসার খেলানো হবে মাত্র একজন। সে ক্ষেত্রে কামরুল হাসান রাব্বির অভিষেকের সম্ভাবনা খুবই কম। শফিউল ইসলামই ভরসা। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে থাকছেন কেবল এক তাইজুল ইসলাম। আর বাকি নয়জনই তো ব্যাটসম্যান। টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনা দেখে মনে হয়, সম্ভব হলে তারা ১১ জনই ব্যাটসম্যান নামাতেন। কারণ এখানে বোলারদের দরকার নেই। ম্যাচ ড্রর জন্য ব্যাটসম্যানরাই যথেষ্ট।

কোচ চন্ডিকা হাতুরাসিংহের কাছেও ড্রই মুখ্য, জয়টা তার কাছে ‘বোনাস!’ গুরুর এমন কথায় শিষ্যদের কাছে ইতিবাচক, নেতিবাচক দুই বার্তাই যেতে পারে। এক. জয়ের জন্য বাড়তি চাপ না থাকায় ক্রিকেটারদের সেরা খেলাটা উজাড় করে দেবেন। দুই. জয়ের চিন্তা না থাকায় ক্রিকেটার ম্যাচটির গুরুত্ব অনুধাবন করতে ব্যর্থ হবেন! দ্বিতীয় কারণটির সম্ভাবনাই বেশি!

আবার ভাগ্য সহায় হলে ভিন্ন কিছুও ঘটতে পারে! তবে সে যা-ই ঘটুক না কেন টেস্ট আঙিনায় ১৬ বছর পার করার পরও কেন চিন্তা ভাবনায় এমন দীনতা! এমন ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ড্র করলেও কি টেস্টে ড্রর আসল স্বাদ পাবে বাংলাদেশ?

আবার ওয়ানডে সিরিজের শেষ ওয়ানডে ম্যাচের মতো হিতে বিপরীতও হতে পারে! যদি ইংল্যান্ড টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করে টাইগারদের সামনে পাহাড়সম এক টার্গেট দাঁড় করিয়ে দেয় তখন যে মানসিক চাপ নিতে না পেরে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়বে না তার গ্যারান্টি দেবে কে?

এখন একটাই প্রার্থনা— টসে যেন বাংলাদেশ না হারে!

up-arrow