Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১১
উইকেটের পেছনেও সেরা মুশফিক
মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম
উইকেটের পেছনেও সেরা মুশফিক

ক্রিকেটের ‘তীর্থ’ লডর্সে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিষেক হয় টাইগার কাণ্ডারি মুশফিকুর রহিমের। এরই মধ্যে পাল্টে গেছে অনেক কিছু। সেই সময় টেস্ট দলের নবীনতম সদস্য আজ বাংলাদেশের টেস্ট দলের অধিনায়ক। এক দশক পর ফের দৃশ্যপটে সেই ইংল্যান্ড। চরিত্র একই হলেও চিত্রনাট্যের স্ক্রিপ্ট ও স্থান একেবারেই ভিন্ন। নিজের অভিষেক প্রতিপক্ষ ইংলিশদের পেয়েই চট্টগ্রামে আরেকটা রেকর্ড নিজের করে নিলেন মুশফিক। এবার খালেদ মাসুদ পাইলটের সরিয়ে টেস্ট ক্রিকেটের ডিসমিসালের রেকর্ড নিজের করে নিলেন মুশফিক। ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মুশফিকের টেস্ট অভিষেক ম্যাচে খেলেন ব্যাটসম্যান হিসেবে। ক্যারিয়ারের প্রথম দুই টেস্টে মুশফিককে শুধু দেখা যায় ব্যাটসম্যানের ভূমিকায়। ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কা সফরের সময় টেস্টে উইকেটের পেছনে দাঁড়ানো শুরু করেন মুশফিক। সেই সফরে লঙ্কানদের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টের পর বাদ পড়েন মাসুদ। দ্বিতীয় টেস্টে উইকেটরক্ষক হিসেবে অভিষেক ঘটে মুশফিকের। ওই  টেস্টে অসাধারণ কিপিংয়ের পাশাপাশি ৮০ রানের দুর্দান্ত একটি ইনিংস খেলেন মুশফিক। এরপরই মাসুদের ক্যারিয়ারের যবনিকা ঘটে। এরপর থেকে শুরু মুশফিক অধ্যায়। তার ক্যারিয়ারের শুরুর দুই টেস্টে এবং চট্টগ্রাম টেস্টের আগে সর্বশেষ তিন টেস্ট কিপিং করেননি তিনি। এছাড়া ৭৬ ইনিংসে তিনি গ্লাভস হাতে নামে। তার হাতে ডিসমিসাল ৮৮টি উইকেট। মুশফিকের ৮৮ ডিসমিসালের মধ্যে ৭৭টি ক্যাচ, ১১টি স্ট্যাম্পিং। মাসুদের ৮৭ ডিসমিসালের মধ্যে ক্যাচ ছিল ৭৮টি, স্ট্যাম্পিং ৯টি। ইনিংস প্রতি ডিসমিসালে এগিয়ে রয়েছেন মাসুদ। ৬১ ইনিংসে ৮৭ ডিসমিসাল ছিল মাসুদের। ছাড়িয়ে যেতে মুশফিকের লাগল ৭৬ ইনিংস। চট্টগ্রাম টেস্টের আগে ৮৬ ডিসমিসাল দিয়ে শুরু করেন মুশফিক। টেস্টের প্রথম দিন মিরাজের বলে মঈন আলী ক্যাচ নিয়ে স্পর্শ করেন মাসুদকে। দ্বিতীয় দিন সকালে ছাড়িয়ে যান মাসুদকে। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে উইকেটের পেছনে মুশফিকের রহিমের ক্যাচ, স্টুয়ার্ট ব্রডের উইকেট ইতি টানল ইংল্যান্ডের ইনিংস। ওই ক্যাচই মুশফিককে নিয়ে মাসুদকে ছাড়িয়ে যান মুশফিক। মুশফিক-মাসুদ ছাড়াও মূল উইকেটকিপার হিসেবে টেস্টে বাংলাদেশের কিপিং মাত্র তিনজন। ২ টেস্টে ৪ ডিসমিসাল মোহাম্মদ সেলিমের। ৩ টেস্টে লিটন দাসের ডিসমিসাল ৩টি। ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে মাসুদের চোটে একটি  টেস্টে মূল উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছিলেন ওপেনার মেহরাব হোসেন। নিয়েছিলেন একটি ক্যাচ। এছাড়া মাঝে মধ্যে কিপিং করেছেন রাজিন সালেহ, শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ, ইমরুল কায়েস, মাহমুদুল্লাহ। দেশের উইকেটরক্ষকদের মুশফিক সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেও সর্বকালের সেরাদের মধ্যে তিনি এখনো অনেক পিছিয়ে।

 

বাংলাদেশের সর্বাধিক ডিসমিসাল

নাম     ম্যাচ   মোট ডিসমিসাল   ক্যাচ   স্ট্যাম্পিং

মুশফিক        ৪৯*   ৮৮     ৭৭      ১১

মাসুদ ৪৪      ৮৭     ৭৮     ৯

সেলিম           ২         ৪         ৩         ১

লিটন ৩         ৩         ৩

*চট্টগ্রাম টেস্টের ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস পর্যন্ত

এই পাতার আরো খবর
up-arrow