Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ জানুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩৫
প্রথম টেস্ট শুরু আজ
পেসারদের হাতেই ম্যাচের ভাগ্য
মেজবাহ্-উল-হক
পেসারদের হাতেই ম্যাচের ভাগ্য
ওয়েলিংটনে সবুজ ঘাসে খেলা। ব্যাটসম্যানদের সতর্ক হয়ে খেলতে হবে। সেই আলাপটাই কি সেরে নিচ্ছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা —বিসিবি

নিউজিল্যান্ডের উইকেটে সবুজ ঘাস—নতুন কোনো ঘটনা নয়! তবে ব্লাক ক্যাপসরা মাঝে মধ্যে স্পোর্টিং উইকেটও তৈরি করে থাকেন। এটা নির্ভর করে প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা ও দুর্বলতার ওপর।

ওয়ানডে ও টি-২০তে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ শক্তিশালী হওয়ার কারণে কিউইরা উইকেটে সবুজ ঘাস রাখেনি। কিন্তু টেস্টে ভিন্ন চিত্র।

মাশরাফি তো নেই-ই, মুস্তাফিজেরও ইনজুরি। তাসকিনের অভিষেক। সব মিলিয়ে পেস আক্রমণের দিক থেকে নিউজিল্যান্ডের চেয়ে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। এই সুযোগটা কাজে লাগাতেই উইকেট সবুজ করে রেখেছে স্বাগতিকরা। ‘উইকেট’— এই অস্ত্র দিয়েই ঘরের মাঠে আগের সিরিজে পাকিস্তানকে নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে নিউজিল্যান্ড। টেস্টে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ শক্তিশালী হওয়ার কারণে ওই সিরিজের প্রথম টেস্টে তারা উইকেটে ব্যাটসম্যানদের জন্য কোনো সুবিধাই রাখেনি। সিরিজের প্রথম টেস্টে ওয়েলিংটনে তারা এমন উইকেট বানিয়েছিলেন দুই ইনিংস মিলে পাকিস্তানের কোনো ব্যাটসম্যান হাফ সেঞ্চুরি করতে পারেননি। রান পেতে কিউই ব্যাটসম্যানদেরও রীতিমতো সংগ্রাম করতে হয়েছে। সে ম্যাচে অভিষিক্ত কলিন ডি গ্রান্দোমের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ম্যাচে উড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয় টেস্টেও পেস সহায়ক উইকেট তৈরি করে জয় তুলে নেয়। কিউই পেসার টিম সাউদি একাই নিউজিল্যান্ডের বড় জয় নিশ্চিত করেন। যদিও সে ম্যাচে ইনজুরির কারণে নিউজিল্যান্ডের সেরা বোলার ট্রেন্ট বোল্ট ছিলেন না, তারপরেও জয় পেতে কোনো সমস্যা হয়নি। পেসাররাই ছিলেন ম্যাচের ত্রাতা। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সিরিজেও পেসারদের হাতেই থাকবে টেস্টের ভাগ্য।

প্রথম টেস্টে টিম সাউদির সঙ্গে মাঠে নামছেন ইনজুরি থেকে ফেরা ট্রেন্ট বোল্ট। দুই পেসারকে খেলাই বড় চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য। সঙ্গে নেইল ওয়াগনার ও কলিন ডি গ্রান্দোমের মিডিয়াম পেসের ভয় তো থাকছেই। এই চার পেসারকে ভরসা করেই মাঠে নামছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। বেসিন রিজার্ভে আসল লড়াই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান ও নিউজিল্যান্ডের পেসারদের মধ্যে। বাংলাদেশের ইনিংসে প্রধান ভরসা তিন ব্যাটসম্যান—মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। তাছাড়া এর আগে বেসিন রিভার্জে খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে এই তিন সিনিয়র ব্যাটসম্যানের।

বিদেশের মাটিতে টেস্টে হাজার রানের কোটা পার করা ব্যাটসম্যান কেবল দুজনই রয়েছেন বর্তমান দলে— মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবালের। সব মিলে এই সংখ্যা বাংলাদেশে চারজন। এর আগে ১ হাজার করেছিলেন হাবিবুল বাশার সুমন ও মোহাম্মদ আশরাফুল।

বাংলাদেশ দলে এখন সেরা ব্যাটসম্যান তামিম। সব শেষ টেস্টে ঘরের মাঠে তার সেঞ্চুরিও রয়েছে। টেস্টে সবচেয়ে বেশি আট সেঞ্চুরির মালিকও তিনি। চল্লিশের উপরে গড় রান। তবে প্রথম টেস্টে তামিম খেলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় ছিল কারণ তৃতীয় টি-২০তে ক্যাচ ধরতে গিয়ে আঙুলে ব্যথা পেয়েছিলেন। তবে সে শঙ্কা কেটে গেছে। মুশফিকও ইনজুরি থেকে ফিরেছেন। তবে এখনো শতভাগ সুস্থ নন টাইগার দলপতি। তারপরেও খেলতে হবে বলে মুশফিক নিজেই জানিয়েছিলেন, ‘আমি এখন সুস্থ। তবে বলব না একশ ভাগ ফিট। কারণ হ্যামট্রিংয়ের ইনজুরি পুনরাবৃত্তি হয়। তবে এটুকু বলতে পারি এই টেস্টের জন্য আমি ফিট। ’ সাকিব হচ্ছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। বিশ্বের বিভিন্ন সেলিব্রেটি টুর্নামেন্টে খেলার কারণে বাইরের কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেন। এছাড়া ইমরুল কায়েস ও মাহমুদুল্লাহও রয়েছেন। কিউইদের মাটিতে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হলে ব্যাটিংয়ে ভালো করার বিকল্প নেই। ওয়ানডে ও টি-২০তে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করার পর নিউজিল্যান্ড যে টেস্টে খুব স্বস্তিতে আছেন এমনও নয়! কেননা লাল বল আর সাদা বলের খেলায় অনেক পার্থক্য। যদিও বাংলাদেশের চেয়ে অভিজ্ঞতায় তারা অনেক এগিয়ে। তা ছাড়া ঘরের মাঠে খেলা। তবে কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন মনে করেন, উইকেটের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। ওয়ানডে ও টি-২০তে ফ্লাট উইকেট বানিয়ে টাইগারদের ঘায়েল করার পর এবার খেলতে হবে সবুজ উইকেটে। উইলিয়ামসন বলেন, ‘ওয়ানডে ও টেস্ট খেলার মধ্যে অনেক পার্থক্য। মানসিকভাবে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। হঠাৎ করে টি-২০ খেলার পর টেস্টে মনোসংযোগ ফিরিয়ে নিয়ে আসা কঠিন কাজ। তবে এখন আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে, টেস্টের ম্যাজাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের স্বাভাবিক পারফরম্যান্সটা প্রদর্শন করা। ’ পাঠক যখন এই প্রতিবেদন পড়ছেন তখন বেসিন রিজার্ভে প্রথম দিনের খেলা চলছে কিংবা শেষ! কেননা খেলা শুরু হওয়ার কথা আজ ভোর ৪টায় (বাংলাদেশ সময়)। আবহাওয়ার রির্পোট অনুযায়ী, প্রথম দিন ওয়েলিংটনে বৃষ্টি ও প্রচণ্ড বাতাস হওয়ার কথা! একই রকম পূর্বাভাস রয়েছে চতুর্থ দিনের জন্যও।

up-arrow