Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০৪
বসুন্ধরা গলফে কিংবদন্তি মিলখা
মেজবাহ্-উল-হক
বসুন্ধরা গলফে কিংবদন্তি মিলখা
বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেন গলফ উপলক্ষে নতুনরূপে সেজেছে কুর্মিটোলা গলফ কোর্স ক্লাব। আজ থেকে চার দিনব্যাপী টুর্নামেন্টের পর্দা উঠছে। দেশ ও বিদেশের খ্যাতনামা গলফাররা এ আসরে অংশ নিচ্ছেন —রোহেত রাজীব

‘ভাগ মিলখা, ভাগ’ - ব্লক বাস্টার হিট এক হিন্দি সিনেমা। ভারতের কিংবদন্তি স্প্রিন্টার মিলখা সিংয়ের জীবনী নিয়ে তৈরি। উপমহাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে ইউরোপ আমেরিকাতেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে ছবিটি। জীবনে বাধা-বিঘ্ন, বিপত্তি আসবেই, তবে সঙ্কটের মধ্যে থেকেও কিভাবে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছাতে হয় তার এই বাস্তব কাহিনী- ‘ভাগ মিলখা, ভাগ’!

সেই মিলখা সিংয়ের ছেলে জীব মিলখা সিং বাংলাদেশে এসেছেন বসুন্ধরা গলফ মাতাতে। বাবার পরিচয় না দিলেও চলে। ৪৫ বছর বয়সী জীব মিলখা সিং নিজেই এক জীবন্ত কিংবদন্তি। বাবার মতো তিনি নিজেও ‘পদ্মশ্রী’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।

উপমহাদেশের গলফ ইতিহাসে জীব মিলখা সিং এক মহানায়ক। তিনি প্রথম ভারতীয় গলফার হিসেবে ১৯৯৭ সালে ইউরোপিয়ান ট্যুরে খেলার সুযোগ পান। শুধু তাই নয়, ইউরোপিয়ান ট্যুরের চার চারটি শিরোপা জিতেছেন তিনি। জাপান গলফ ট্যুরের শিরোপা জিতেছেন চারটি। এশিয়ান ট্যুরের শিরোপা জিতেছেন ছয়টি। এছাড়া গলফের বড় বড় আরও সাতটি শিরোপা রয়েছে তার শোকেসে। এবার এশিয়ান ট্যুরের সাত নম্বর শিরোপার খোঁজে এসেছেন বাংলাদেশে।

গতকাল দুপুরে দেখা যায়, কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের লবিতে জীব মিলখাকে ঘিরে আছেন চিরাগ কুমার, শুভঙ্কর শর্মা, কোলিন যোশী, মুখেশ কুমারের মতো ভারতীয় তারকা গলফাররা। তরুণ গলফারদের নানা রকম টিপস দিচ্ছেন তিনি।

পাশের কোর্সে পাটিং অনুশীলন করার সময় বাংলাদেশের সেরা গলফার সিদ্দিকুরের সঙ্গে তার কুশল বিনিময় হলো। সেখানেই কথা হলো জীব মিলখার সঙ্গে।

 কেমন লাগছে বাংলাদেশ? মিলখা বলেন, ‘ঢাকায় আমি প্রথমবারের মতো এসেছি। এখানে আসতে পেরে আমি আনন্দিত। আমি এখানে আসার ব্যাপারে একদম শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাংলাদেশে এখন অনেক ভালো ভালো গলফার রয়েছেন। যারা পিজিএ ট্যুরে ভালো করেছেন। এশিয়ান ট্যুর বাংলাদেশের গলফের অনেক বড় টুর্নামেন্ট। ’

গলফ খেলা এমন হঠাৎ করে নতুন কোনো কোর্সে গিয়ে ভালো করা সম্ভব নয়। আগে কোর্স সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা নিতে হয়। তাই আগের দিন রাতে এসে গতকাল ভোরেই চলে এসেছেন কুর্মিটোলায়। এখানকার কোর্স দেখে ভীষণ আত্মবিশ্বাসী, ‘আমি আজ (গতকাল) গলফ কোর্স ঘুরে ঘুরে দেখেছি। ১৮ হোলেই গিয়েছি। খুব ভালো লেগেছে। এটা একটা চ্যালেঞ্জিং গলফ কোর্স। তা ছাড়া এখানকার কন্ডিশনও এখন দারুণ। আমি ভালো করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। আমি আমার মতো করে খেলতে পারলে আশা করি ভালো করব। ’

ইউরোপিয়ান ট্যুরের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘ইউরোপের সঙ্গে এখানকার কন্ডিশনের অনেক পার্থক্য। সেখানে অনেক ঠাণ্ডা। কখনো বৃষ্টি হচ্ছে, তুষারপাত হচ্ছে। অন্যরকম এক পরিবেশ। কিন্তু এশিয়ার কন্ডিশন সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে বেশ গরম। আর্দ্রতা তেমন নেই। বেশ চ্যালেঞ্জিং। ইউরোপেও চ্যালেঞ্জিং। এখানে এখন অনেক তরুণ গলফাররা ভালো করছেন। শিরোপা জিততে হলে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হবে। ’

জীব মিলখার এখন লক্ষ্য একটাই বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেনের শিরোপা জয়লাভ করা। তবে গলফারদের নিয়েও তিনি বেশ উচ্ছ্বসিত। এদেশের গলফের খোঁজ খবরও রাখেন। এ দেশের গলফারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ গলফে ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। আমার জানা মতে, সিদ্দিকুর রহমান অনেক ভালো করছেন। এখানে অনেক ভালো তরুণ গলফার রয়েছে। তবে তাদের আরও ভালো করতে হলে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে। ’

বাবা কিংবদন্তি অ্যাথলেট, আর আপনি গলফকে বেছে নিয়েছেন কেন? এমন প্রশ্নে স্মিত হেসে মিলখা বলেন, ‘আমিও অ্যাথলেটিকসে চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমার প্রথম ভালোবাসা ছিল গলফ। আমার বাবাই গলফ কোর্সের সঙ্গে আমাকে প্রথমে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। তখন আমার বয়স ছিল ৯ বছর। তারপর অপ্রত্যাশিতভাবেই আমি গলফের প্রেমে পড়ে যাই। আমার বাবা-মাও এখন গলফ খেলেন। আমি বাবা-মার সঙ্গে চন্ডিগড়েই থাকি। ’ বাবা মিলখা সিংই তার মেন্টর। ভালো বন্ধুও। জীব বলেন, ‘আমার বাবা এখনো আমাকে উৎসাহ দেন। বলে দেন কখন কি করতে হবে। তিনি সব সময় বলেন, জীবনে বড় হতে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে। সাফল্য এমনি এমনি আসে না। আমার মাও আমাকে উপদেশ দেন। তারা আমার খুব ভালো বন্ধু এবং আমার মেন্টর। ’ ‘ভাগ মিলখা, ভাগ’ সিনেমা সম্পর্কে বলেন, ‘সিনেমাটি আমি যখন দেখি তখনই কাঁদি। সেখানে পরিচালক রাকেশ ওম প্রকাশ দুটি ঘটনা তুলে ধরেছেন। তার মধ্যে একটি হচ্ছে, আমার বাবার সত্যবাদিতা। তিনি সব সময় যে সত্য বলতে পছন্দ করে সেটি তুলে ধরা হয়েছে। ছবিটি এক কথায় অসাধারণ। এই ছবিতে সাধারণ মানুষ ও প্রত্যেক অ্যাথলেটের জন্য এক বার্তা দেওয়া হয়েছে, জীবনে অনেক বেশি কষ্ট করলে সাফল্য আসবেই। এটা সবার জন্যই শিক্ষণীয় যে, যখন খারাপ সময় যাবে তখন কীভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে হবে?’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow