Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০৫
সাফল্যে উড়ছে লাল-সবুজের পতাকা
ক্রীড়াঙ্গনে আশার আলো
ক্রীড়া প্রতিবেদক
সাফল্যে উড়ছে লাল-সবুজের পতাকা

ক্রীড়াঙ্গনে ক্রিকেটই ভরসা। এ নিয়ে কারও দ্বিমত নেই। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য বিবেচনা করলে ক্রিকেটের তুলনা চলে না। ওয়ানডে, টেস্ট বা টি-২০ তিন ফরম্যাটেই পারদর্শিতার ছাপ রাখছে টাইগাররা। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যও চোখে পড়ার মতো। সাকিব আল হাসান এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার। পুরো বিশ্বই তাকে এক নামে চেনে। পিছিয়ে নেই মুস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। অভিষেকেই তারা বিশ্বের নজর কেড়েছেন। ক্রিকেট ক্রিকেটই। এর সঙ্গে বাংলাদেশের অন্য খেলার তুলনা চলে না। এখন শুধু অপেক্ষা, কবে জিতবে বিশ্ব সেরার ট্রফি।

যাক ক্রিকেট এখন আলাদাভাবে জায়গা করে নিলেও আনন্দের সংবাদ হচ্ছে বাংলাদেশে অন্য খেলাতেও বিজয়ের পতাকা উড়ছে। বলা যায় ক্রীড়াঙ্গনে অন্ধকারের দুয়ার খুলে যাচ্ছে এসব সাফল্যে। ফুটবলে কয়েক বছর ধরে বড্ড নাজুক অবস্থা। পুরুষ জাতীয় দল ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসতে পারছে না। সাফে সেমিফাইনাল খেলাটা এখন স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। সেদিক দিয়ে মেয়েরা বরং অনেক এগিয়ে গেছে। বাঙালি মেয়েরা ফুটবলে লাথি মারবে এক সময় তা স্বপ্নই মনে হতো। সেই মেয়েরাই ৩০ লাখ শহীদের বিনিময়ে পাওয়া লাল সবুজের পতাকা উড়াচ্ছে। গত বছর এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ বাছাইপর্বে প্রতিপক্ষদের গোলের বন্যায় ভাসিয়ে কিশোরীরা অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এ বিজয়ের চলতি বছরে এশিয়ান বয়সভিত্তিক চূড়ান্তপর্বে মার্জিয়ারা লড়বে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে মামুনুলরা ব্যর্থ হলেও সাবিনা, স্বপ্নারা চোখ জুড়ানো নৈপুণ্য প্রদর্শন করে। গ্রুপ পর্বে আফগানিস্তান ও সেমিতে মালদ্বীপকে বিধ্বস্ত করে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠে। তবে দুর্ভাগ্যক্রমে ভারতের কাছে হেরে স্বপ্নের ট্রফি অধরাই থেকে গেছে। পারফরম্যান্স বলে দিচ্ছে ভালোভাবে নজর দিলে মহিলা ফুটবলাররা দেশকে বড় সাফল্য এনে দিতে পারবে।

হকিতে পাকিস্তান ও ভারতের আগের সেই গৌরবময় অবস্থান নেই। তবু তারা ডেঞ্জার। তাদের পেছনে ফেলবে বাংলাদেশ তা স্বপ্নেও ভাবা যেত না। এখন তা আর স্বপ্ন নয়, তার প্রমাণ মিলেছে গত বছর ঢাকায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়ান কাপে। পাকিস্তানকে টপকিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেন আশরাফুলরা। গ্রুপ পর্বে ভারতকেও পরাজিত করেছিল। কিন্তু ফাইনালে দুর্ভাগ্য পেয়ে বসে। ভালো খেলেও ভারতের কাছে ৪-৫ গোলে হেরে রানার্স আপের ট্রফি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। এই পারফরম্যান্সেই প্রমাণ মেলে হকিতে বাংলাদেশের অগ্রগতি। জাতীয় দলও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এএইচএফ কাপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে এশিয়া কাপে মূলপর্বে জায়গা করে নিয়েছেন জিমিরা। সেপ্টেম্বরে ঢাকাতেই হবে এশিয়া কাপ। তার আগে আগামী মাসে লড়তে হবে ওয়ার্ল্ড হকি লিগ। বিকেএসপিতে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। আশা করা যাচ্ছে দুই টুর্নামেন্টে জিমিরা ভালো খেলবে। ক্রিকেট, ফুটবল ও হকি ছাড়া অন্য খেলাকে অনেকে গুরুত্ব দিতে চান না। কিন্তু ভলিবল, আরচারি ও হ্যান্ডবল দেখিয়ে দিয়েছে তারাও কোনো অংশে কম যায় না। ভলিবলের কথা ধরা যাক, এক সময়ে ঘরোয়া আসরে এই খেলার জনপ্রিয়তার কমতি ছিল না। কিন্তু সেই ভলিবলের বড্ড দুর্দশা নেমে আসে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য ভাবাই যেত না। তা মিথ্যা প্রমাণ করেছেন খেলোয়াড়রা। গত বছর ঢাকায় বঙ্গবন্ধু এশিয়ান সেন্ট্রাল জোনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। রাউন্ড রবীন লিগে হারলেও সেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ তাজিকিস্তানকে ফাইনালে দাঁড়াতেই দেয়নি। এই ট্রফি জয়ে ভলিবল ঘিরে আশার আলো জেগেছে। অন্যদিকে রবিবার হকি মাঠে বাংলাদেশের আরচাররা যা করলেন তা ইতিহাসেই বলা যায়। প্রথমবারের মতো আয়োজিত ইসলামী সলিডারিটি আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপে ৯ সোনার মধ্যে ৬টিই জিতেছে বাংলাদেশ। এমন সাফল্য ক্রীড়ামোদীরা শুধু আনন্দিত নয় বিস্মিতও। হ্যান্ডবলে শিরোপা না এলেও গত বছর আই এইচ কাপে শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের পেছনে ফেলে পুরুষ ও মহিলা দল রানার্সআপ হয়েছে। যা প্রশংসা পাবার যোগ্য। একের পর এক সাফল্য ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। বন্ধ দুয়ার যখন খুলে গেছে আরও সাফল্যের দিকে চেয়ে থাকবে দেশবাসী।

up-arrow