Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৫৭
সিদ্দিকুরের লড়াইয়ে ফেরা
মেজবাহ্-উল-হক
সিদ্দিকুরের লড়াইয়ে ফেরা
গাছের ডালে লেগে বল ফেয়ারের বাইরে চলে যায়, আর এতেই হতাশা নেমে আসে সিদ্দিকুরের। কিন্তু বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেনে প্রথম দিনের শেষ বিকালে লড়াইয়ে ফিরেছেন দেশসেরা এই গলফার —রোহেত রাজীব

কুর্মিটোলা গলফ কোর্সে বিপজ্জনক হোল হচ্ছে ৪নং ও ১৭নং। ফেয়ারের (সবুজ মাঠের মতো জায়গা) মাঝে রয়েছে গাছ। গলফারকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে খুব সাবধানে খেলে গাছ পার করতে হয়। শট নিতে একটু এদিক সেদিক হলেই ঘটে যায় বিপত্তি। গাছে লেগে ফেয়ারের বাইরে গেলেই দুই শট পেনাল্টি। তৃতীয় বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেনের প্রথম দিনে এই ৪নং হলেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে যান দেশসেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমান। গাছের ডালে লেগে বল ফেয়ারের বাইরে চলে যায়। হতাশায় মাথায় হাত দেন সিদ্দিকুর।

সব মিলে ৪নং হোলে তিন শট বেশি খেলতে হয়। দুর্ঘটনায় পড়ে খেতে হয় ‘ট্রিপল বগি’। মজার বিষয় হচ্ছে, এক বিপজ্জনক হোলে বিপদে পড়লেও আরেক বিপজ্জনক হোল থেকে ঠিকই বার্ডি আদায় করে নিয়েছেন সিদ্দিকুর। শুধু ১৭নং হোলেই নন, শেষের টানা তিন হোলেই বার্ডি পেয়েছেন তিনি। দিনের শুরুতে যেমন বিপদে পড়েছিলেন, শেষের ক্যারিশমায় আবার লড়াইয়ে ফিরেও এসেছেন।

প্রথম রাউন্ড শেষে পারের সমান শট খেলে যৌথভাবে ২৯তম স্থানে রয়েছেন সিদ্দিকুর। বিপদে পড়েও লড়াইয়ে ফিরতে পারায় দারুণ খুশি দেশসেরা গলফার, ‘সত্যিই আমি খুব ভালো খেলছি। বলতে গেলে ধ্বংসের মধ্য দিয়ে আমার শুরু হয়েছিল। এটা আসলে দুর্ভাগ্য। তবে আমি আবার দারুণভাবে লড়াইয়ে ফিরেছি। সব মিলে দিন শেষে আজকের পারফারম্যান্সে আমি খুশি। এখনো তিন রাউন্ড বাকি আছে। খুব কিছুই আশা করছি এখনো। ’

৪নং হোলের দুর্ঘটনা সম্পর্কে সিদ্দিকুর বলেন, ‘এখানে আমার কোনো ভুল ছিল না। আমি ভালো শটই মেরেছি। কিন্তু গাছের ডালে লেগে সমস্যা হয়েছে। ট্রিপল বগি খেতে হয়েছে। এছাড়া আমার আর কোনো বগি হয়নি। ’ গতকাল সিদ্দিকুরের সঙ্গে পুরো কোর্সই ঘুরেছেন তার সহধর্মিণী অরনি। ক্যাডি হিসেবে ছিলেন ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম। আরেক ছোট ভাই শফিকুল ইসলামও ১৮ হোলই ঘুরেছেন ভাইয়ের সঙ্গে। ৪নং হোলে সিদ্দিকুর ‘ট্রিপল বগি’ খাওয়ার পরও স্ত্রী অরনি মনে মনে ভেঙে পড়েছিলেন। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি বলেন, ‘খুবই খারাপ লাগছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভালো করায় এখন অনেকটা স্বস্তি। এখন আমি তাকে নিয়ে আশাবাদী। ’

বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেনের প্রথম রাউন্ড শেষে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন ভারতের শুভঙ্কর শর্মা ও থাইল্যান্ডের জাজ জানেওয়াতানন্দ। দুজনেই পারের চেয়ে ৭ শট কম খেলেছেন। পারের চেয়ে ৫ শট কম খেলে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন থাইল্যান্ডের পানুফল পিতায়ারত।

সিদ্দিকুর অনেকটা পিছিয়ে পড়লেও এখনো শিরোপার আশা ছেড়ে দিচ্ছেন না। গলফের চার দিনে অনেক উত্থান-পতন হয়। তাই যারা প্রথম দিন ভালো খেলেছে পরের তিন রাউন্ডও যে ভালো খেলবেন এমন নয়। তাই আশায় বুক বেঁধে আছেন সিদ্দিকুর, ‘এখনো তিনটা রাউন্ড আছে। আমি মনে করি না এটা আমার জন্য খুব কঠিন হবে। আমি যদি আমার নিজের খেলাটা খেলতে পারি তাহলে ভালো কিছু সম্ভব। আমাদের কোর্স কিন্তু গতবারের চেয়ে অনেক চ্যালেঞ্জিং। ওরা দুজন যে আজকে ৭ আন্ডার পার খেলছে হয়তো দেখা যাবে শেষ পর্যন্ত এটা আর থাকবে না। ’

গতকাল শুধুমাত্র ৪নং হোল ছাড়া সব মিলে দারুণ খেলেছেন সিদ্দিকুর। ড্রাইভ, সুইং সবই ভালো হয়েছে। সে কারণেই আত্মবিশ্বাসী তিনি, ‘আমি যেভাবে বল মারছি এতে আমি খুবই খুশি। আমার শুধুমাত্র পাটিংটা একটুখানি খারাপ হচ্ছে। এটা যদি ভালো করতে পারি তাহলে আমার মনে হয় দিনে ৪-৫ আন্ডার পার খেলা কঠিন হবে না। ’

বাংলাদেশের গলফারদের মধ্যে পারের চেয়ে এক শট কম খেলে যৌথভাবে ১৫তম স্থানে রয়েছেন জামাল হোসেন মোল্লা, মোহাম্মদ নাজিম ও রবিন মিয়া। পারের সমান শট খেলে সিদ্দিকুরের সঙ্গে যৌথভাবে ২৮তম স্থানে রয়েছেন দুলাল হোসেন, বাদল হোসেন, মোহাম্মদ সায়ুম ও মোয়াজ মনজু।

বাংলাদেশের স্থানীয় টুর্নামেন্টের সেরা গলফার সজীব আলী পারের চেয়ে দুই শট বেশি খেলে ৬০তম স্থানে রয়েছেন। দিনটি সবচেয়ে বাজে ছিল বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেনের প্রথম দুই আসরে স্থানীয় গলফারদের মধ্যে সেরা সাখাওয়াত হোসেন সোহেলের। পারের চেয়ে ৫ শট বেশি খেলে তিনি রয়েছেন ১০৩তম স্থানে। এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের ৩৯ জন গলফারের অধিকাংশের জায়গা হয়েছে লিডারবোর্ডের নিচের দিকে। সব মিলে দিনটি ছিল বাংলাদেশিদের জন্য হতাশার।

অবশ্য খারাপ হওয়ার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। স্থানীয় গলফাররা সারা বছরে যে কোর্সে খেলেন, এশিয়ান ট্যুরের সময় তা বদলে যায়। পাটিং গ্রিনের গতি অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হয়। যে কারণে নিজের চিরচেনা কোর্সটি স্থানীয় গলফারদের কাছে হয়ে যায় বড় অচেনা।

স্থানীয়দের বাজে পারফরম্যান্সের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমি কাউকে দোষারোপও করছি না। এটা ছিল আমাদের স্থানীয় গলফারদের জন্য পুরোপুরি আলাদা কন্ডিশন। গত এক বছরে আমরা কখনো কুর্মিটোলায় এমন কন্ডিশন পাইনি। যার কারণে আমাদের অন্যান্য গলফারদের জন্য একটু অসুবিধা হচ্ছে। এমনকি আমারও একটু অসুবিধা হয়েছে। কারণ আমি এখানে খেলে অভ্যস্ত হলেও এই কন্ডিশনে খেলে অভ্যস্ত না। এজন্য মনে হয় সবার একটা অভিযোগ আছে। কিন্তু কি আর করার। এই লেবেলের টুর্নামেন্টে এমন কন্ডিশনেই খেলতে হবে। ’

up-arrow