Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৫৮
মুশফিকের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
মুশফিকের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ

বাংলাদেশের টেস্ট অভিষেক হয়েছিল ভারতের বিপক্ষে। ২০০০ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই টেস্টে সৌরভের নেতৃত্ব দেওয়া ভারত প্রত্যাশিতভাবেই ৯ উইকেটে জয় পেয়েছিল। বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন নাইমুর রহমান দুর্জয়। এরপর দুই দেশ আরও টেস্ট খেললেও সব কটি হয়েছে বাংলাদেশে। ভারতের মাটিতে অনেক টুর্নামেন্টে খেললেও ওয়ানডে বা টেস্ট সিরিজ খেলাটা স্বপ্নই থেকে যাচ্ছিল। এবার তা পূরণ হতে চলেছে। ৯ ফেব্রুয়ারি হায়দরাবাদে শুরু হচ্ছে দুই দেশের একমাত্র টেস্ট। ২০১৫ সালে এই শিডিউল নির্ধারিত করা হয়। প্রথমে সিদ্ধান্ত ছিল ২০১৬ সালে আগস্টে কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেনে এই টেস্ট হবে। পরে সময় পিছিয়ে হায়দরাবাদে ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়। ভারতীয় মিডিয়াতেই উল্লেখ করা হয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এই টেস্ট আয়োজনে ততটা আগ্রহী ছিল না। কিন্তু ভারত সরকারের হস্তক্ষেপে হায়দরাবদে বাংলাদেশের টেস্ট খেলাটা চূড়ান্ত হয়। শোনা যায় এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখেন সৌরভ গাঙ্গুলী।

ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলাটা এমনিতেই গুরুত্বের। তারপর আবার এই প্রথম তাদের মাটিতে লড়বে। এক্ষেত্রে ক্রিকেটারদের অনুভূতিটাই থাকবে অন্যরকম। টেস্টের আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচেও অংশ নেবে টাইগাররা। মঙ্গলবার টেস্টে স্বাগতিকদের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে। গতকাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ঘোষণা করল ১৫ সদস্যের নাম। নিউজিল্যান্ড সফরে ইনজুরির কারণে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, ইমরুল কায়েস ও মুমিনুল হক দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারেননি। ক্রিকেটে এমন অবস্থা কখনো বাংলাদেশে হয়নি। ইনজুরির কারণে সংশয় ছিল ভারত সফরে তিন তারকার মধ্যে কেউ বাদ পড়েন কি না। কিন্তু ফিটনেস পরীক্ষায় পাস হওয়ায় মুশফিক, ইমরুল ও মুমিনুল ৩ জনই ভারতে উড়ে যাচ্ছেন। এটা ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য নিঃসন্দেহে সু-সংবাদ। তাদের ছাড়া ভারতের বিপক্ষে লড়াই করাটা মুশকিল হয়ে পড়ত। তবে ভারত সফরে যাচ্ছেন না বিস্ময় বালক কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। ইনজুরি থাকায় তাকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাননি নির্বাচকরা। নিউজিল্যান্ডে যাওয়া নুরুল হাসান, রুবেল হোসেন ও নাজমুল হোসেন শান্ত দল থেকে বাদ পড়েছেন।

২০১৫ সাল থেকে ক্রিকেটে তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশ দক্ষতার ছাপ রাখছিল। গত বছর ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায়। কিন্তু টেস্টে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে। চট্টগ্রামে দুর্ভাগ্যক্রমে প্রথম টেস্ট হারলেও ঢাকা টেস্টে ঠিকই ইংলিশদের কুপোকাত করে ছাড়ে। ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে সুখ-স্মৃতি নিয়ে টাইগাররা উড়ে যায় নিউজিল্যান্ডে। বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজে দুইবার হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল কিউরা। তারপরও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশ সিরিজ জিতবে এই প্রত্যাশা কেউ করেননি। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে কোনো দলই সুবিধা করতে পারে না। তবে প্রত্যাশা ছিল লড়াই করবে টাইগাররা। তিন ফরম্যাটে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। তবে টেস্টে ভালো করার আভাস দিয়েছিল। প্রথম টেস্টে সাকিবের ডাবল ও মুশফিকের সেঞ্চুরির কৃতিত্বে প্রায় ৬০০ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। এমন চমকপ্রদ ব্যাটিং দেখে অনেকে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে ওঠেন। জয় না হোক অন্তত ড্র করবে এমনি ধারণা ছিল সবার। অথচ দ্বিতীয় ইনিংসে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে হেরে যায়। দ্বিতীয় টেস্টে মুশফিক, ইমরুল ও মুমিনুল না থাকলেও প্রথম ইনিংসটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে আর দাঁড়াতে পারেনি। এমন হারের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ।

টেস্টে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে ভারত। কিছুদিন আগে ঘরের মাঠে প্রথম টেস্টে ড্র করলেও পরের চার টেস্টে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে কোহলিরা। টেস্টে এক নম্বর র‌্যাঙ্কিংয়ের দলের বিরুদ্ধে খেলবেন মুশফিকরা। ভারত কয়েক বছর ধরে ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে চাপে থাকে। ২০১৫ সালে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেন মাশরাফিরা। হায়দরাবাদে এক মাত্র টেস্টে সেই চমক দেখাবে কি?

ফর্ম যতই তুঙ্গে থাকুক না কেন ভারত কিন্তু বড্ড সিরিয়াস থাকবে। ২০১৫ সালে ওয়ানডে হারের লজ্জা এখনো কোহলিদের মনে আছে। সেই প্রতিশোধটা নিতে চাইবে টেস্টে। ভারত টেস্টে ফিরেছেন লিটন দাস ও শফিউল ইসলাম। লিটন ব্যাটসম্যান হলেও কিংপিংয়ে কথা চিন্তা করে দলে ফিরেন। কেননা নিউজিল্যান্ডে মুশফিক ও ইমরুল এক সঙ্গে ইনজুরিতে পড়ায় কিপিং নিয়ে বেশ সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। শফিউলকে রাখা হয়েছে মুস্তাফিজের বিকল্প হিসেবে। তবে নিউজিল্যান্ডে ভালো বোলিং করার পর রুবেল হোসেন কেন বাদ পড়লেন? নির্বাচকদের বক্তব্য রুবেল নিউজিল্যান্ডে জায়গা পেয়েছিলেন শফিউল চোট পাওয়ায়। ও সুস্থ হওয়ায় রুবেলকে বাদ দেওয়া হয়। তবে যে দল গড়া হয়েছে তারা টেস্টে ফাইট দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এখন হায়দরাবাদে টাইগার কি করবে সেটাই অপেক্ষা।

বাংলাদেশ স্কোয়াড

মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক, সাব্বির রহমান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম রাব্বি, সৌম্য সরকার, তাসকিন আহমেদ, শুভাশীষ রায়, লিটন দাস ও শফিউল ইসলাম।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow