Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩৭
শেষ দিনে রোমাঞ্চের অপেক্ষা
মেজবাহ্-উল-হক
শেষ দিনে রোমাঞ্চের অপেক্ষা
বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেনের লড়াই এখন তুঙ্গে। জাজ জানেওয়াতানন্দ, শুভঙ্কর শর্মা ও সিদ্দিকুর রহমানের শিরোপা জেতার সম্ভাবনা রয়েছে। আজ কার হাতে উঠবে স্বপ্নের ট্রফি সেটাই দেখার অপেক্ষা —রোহেত রাজীব

কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের লবিতে বসে কফি পান করছিলেন জাজ জানেওয়াতানন্দ। সঙ্গে ছিলেন স্বদেশি ক্যাডি ডনও। থাই ভাষায় তারা গল্প করছেন, হাসছেন। দিনের খেলা শেষে অন্য গলফাররা যখন দ্রুত রুমে ফিরে বিশ্রাম নিচ্ছেন তখন শীর্ষে থাকা জাজ আড্ডায় মশগুল।

তিন রাউন্ড শেষে সব মিলিয়ে ১৩ আন্ডার পার খেলেছেন থাইল্যান্ডের এই তরুণ গলফার। দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে শীর্ষে ছিলেন। তবে গতকাল দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতীয় গলফার শুভঙ্করের সঙ্গে তার ব্যবধান আরও বেড়ে গেছে। সে কারণেই যেন অনেকটা নির্ভার। তবে এটাও ঠিক গলফের মতো অনিশ্চয়তার খেলায় এক রাউন্ড আগেই স্বস্তিতে ভোগার উপায় নেই। ১৮ হোলের খেলায় যে কোনো এক হোলেই বিপদ ঘটে যেতে পারে। তা ছাড়া এমন নয় যে ২০ বছর বয়সী এই গলফার অনেক শিরোপা জিতেছেন! আজ জিতলে এটিই হবে এশিয়ান ট্যুরে তার প্রথম শিরোপা।

এমন পরিস্থিতিতে একজন গলফারের অনেক বেশি টেনশন হওয়ার কথা। কিন্তু জাজের তা হচ্ছে না। তাহলে এই জাজ কি অন্য ধাঁচে গড়া মানুষ! মোটেও না। তিনিও রক্তে-মাংসে গড়া মানুষ। তারও আবেগ-অনুভূতি আছে। মানসিক দৃঢ়তা সম্পর্কে জানতে চাইলে পাশে বসা ক্যাডি ডনকে দেখিয়ে দিয়ে জাজ বলেন, ‘সে সব কিছু জানে। ’ তারপর ডন যখন কথা বলতে যাচ্ছিলেন তখন তাকে থামিয়ে দিয়ে জাজ নিজেই বলা শুরু করলেন, ‘আমি বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেনে অংশ নেওয়ার আগে ব্যাংককে দুই সপ্তাহের ট্রেনিং করেছি মানসিক দৃঢ়তা বাড়ানোর জন্য। সেটা খুবই কাজে দিচ্ছে। এ জন্য আমি এখানে অনেক বেশি নির্ভার থাকতে পারছি। আমার টেনশন হচ্ছে না। লক্ষ্য একটাই— শিরোপা জিততে হবে। সেটা যেভাবেই হোক। ’ জাজ বাংলাদেশে এসেছেন ১০-১২ দিন আগে। এখানকার কোর্সের নাড়ি-নক্ষত্র সব দেখে নিয়েছেন। তা ছাড়া এই জাজ কিন্তু এশিয়ান ট্যুরের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে (১৪ বছর ৭১ দিন) পেশাদার গলফার হয়েছেন।

 

গলফে ভালো করতে হলে কৌশলের পাশাপাশি মানসিকভাবে দৃঢ় হতে হয়। তাহলে চাপ কম থাকে, ভালো খেলা সহজ হয়ে যায়। গতকাল বেশি টেনশন করতে গিয়েই একটি ট্রিপল বগি, একটি ডাবল বগি ও একটি বগি খেয়ে পিছিয়ে পড়েছেন শুভঙ্কর। সব মিলিয়ে ৯ আন্ডার পার খেললেও গতকাল পারের চেয়ে তিনি এক শট বেশি খেলেছেন।

তিনে রয়েছেন সিদ্দিকুর রহমান। আগের দিন ছিলেন পাঁচে। গতকাল ৩ আন্ডার পার খেলে নিজেকে দুই ধাপ ওপরে নিয়ে গেছেন দেশসেরা গলফার। কাল সব মিলিয়ে ৬টি বার্ডি পেয়েছেন তিনি। তবে তিনটি বগিও খেতে হয়েছে। তা না হলে দিন শেষে লিডারবোর্ডের দুই নম্বরে থাকতেন তিনি।

তৃতীয় রাউন্ডে সিদ্দিকুরের শুরুটা হয়েছিল খুবই বাজেভাবে। দিনের প্রথম শটই ফেয়ারওয়ের বাইরে ফেলে দেন। তারপর বগি খেতে হয়। দ্বিতীয় হোলেও বেশি টেনশন করতে গিয়ে বগি খেয়ে বসেন। গ্রিনে বল থাকার পরও ‘পার’ করতে পারেননি। তবে এরপরই ঘুরে দাঁড়ান দেশসেরা গলফার। তারপর ৫টি বার্ডি পেয়ে লড়াইয়ে ফেরেন। এক সময় লিডারবোর্ডের দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন সিদ্দিকুর। কিন্তু ১৫ নম্বর হোলে বেশি টেনশন করার কারণে আবারও বগি খেয়ে যান। তবে শেষ হোলে বার্ডি পেয়ে তিনে থেকেই দিনের খেলা শেষ করেছেন। সিদ্দিকুর বলেন, ‘শুরুটা খারাপ বলব না; এটাই খেলার অংশ; বরং এটা আমাকে পরে আরও গতি দিয়েছে। আমার মনে হয়, আমি ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। আরও একদিন আছে। শেষ দিনের রোমাঞ্চের জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। ’

এখন সিদ্দিকুরের সামনে কেবল শুভঙ্কর ও জাজ। এখনো শিরোপার স্বপ্ন দেখছেন দেশসেরা গলফার। তিনি বলেন, ‘শেষ দিনে কাভার করা সম্ভব, আমাকে এক্সপশনালি ভালো খেলতে হবে। কেননা, তারাও ভালো খেলবে। এটা পুরোটাই রিদমের ওপর নির্ভর করে। আমরা খেলোয়াড়রা বড়ির রিদম বুঝতে পারি। রিদম, সুইং সব কিছু ঠিক চলছে, তাহলে ডু অর ডাই চেষ্টা কেন নয়?’

বাংলাদেশের আরেক গলফার দুলাল হোসেনও দারুণ খেলেছেন। ২২তম থেকে উঠে এসেছেন ১২তম স্থানে। গতকাল পারের চেয়ে ৩ শট কম খেলেছেন তিনি। সব মিলিয়ে ৪ আন্ডার পার খেলেছেন। তারপরও নিজের খেলায় সন্তুষ্ট নন তিনি। দুলাল বলেন, ‘যে লক্ষ্য ছিল, তা হয়নি। ৭-৮ পারের নিচে লক্ষ্য ছিল, কিন্তু হলো তিনটা। শেষ শটটা হোলের কাছে এসে ঘুরে যাচ্ছে। আসলে এটা দুর্ভাগ্য। চাপ নেওয়ার কারণে নয়। চারটা হোলে এরকম হয়েছে। সেটা না হলে কিন্তু আমি পারের চেয়ে ৭ শট কম খেলতাম আজ (গতকাল)। ’

সিদ্দিকুরকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেনের ম্যাচ রেফারি ও বাংলাদেশ প্রফেশনাল গলফারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএ) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর মাহমুদুর রহমান চৌধুরী, ‘আমি মনে করি এখনো সুযোগ আছে। কেননা এই কোর্সে সিদ্দিকুরের ৭-৮ আন্ডার পার খেলার অভিজ্ঞতা আছে। তাই সিদ্দিকুর যদি আরও সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে পারেন, আর জাজ ও শুভঙ্কর খারাপ করে তবে চ্যাম্পিয়ন হওয়া অসম্ভব নয়। আমি সিদ্দিকুরকে নিয়ে এখনো আশাবাদী। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow