Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২০
বাংলাদেশের সেরা সিদ্দিকুর
মেজবাহ্-উল-হক
বাংলাদেশের সেরা সিদ্দিকুর
সিদ্দিকুরের হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পাশে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। চ্যাম্পিয়ন ট্রফি হাতে জাজ জানেওয়াতানন্দ (ডানে) —রোহেত রাজীব

সিদ্দিকুর রহমানের সামনে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি ছিল। তবে দুটি সমীকরণকে ঘিরে- এক. সিদ্দিকুরকে ভালো খেলতে হবে, দুই. খারাপ করতে হবে থাই গলফার জাজকে।

কিন্তু সিদ্দিকুর তার নিজের কাজটা ঠিকই করেছেন। অন্যদিকে জাজও ভালো খেলেছেন। তাই শেষ পর্যন্ত রানারআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো দেশসেরা গলফারকে।

গতকাল কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে সবার মুখেই ছিল প্রথম দিনের জন্য হাহাকার। আলোচনায় সিদ্দিকুরের ‘ট্রিপল বগি’। প্রথম দিন চার নম্বর হোলে সিদ্দিকুরের শট গাছের ডালে না লাগলে হয়তো শিরোপা তার হাতেই উঠত। হয়তো সিদ্দিকুরের মনে আক্ষেপ আছে। কেননা ওই চার নম্বরে হোলে গতকালও ‘বার্ডি’ পেয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় রাউন্ডেও ওই হোলে ছিল ‘বার্ডি’।

প্রথম দিনে যদি ‘ট্রিপল বগি’ না হয়ে বার্ডি হয়ে যেত! স্থানীয় অন্য গলফাররাও একই আফসোস করছেন। বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেনের প্রথম দুই আসরে স্থানীয় গলফারদের মধ্যে সেরা সাখাওয়াত হোসেন সোহেল বলেন, ‘প্রথম দিনের জন্য খুবই খারাপ লাগছে। আমি নিজে ভালো করতে না পারলেও সিদ্দিকুর জিতলে ট্রফিটা দেশেই থাকত, খুব ভালো লাগত। তারপরেও রানারআপ হওয়াও অনেক বড় অর্জন। ’

তবে প্রথম দিনের ওই দুর্ঘটনাকে খেলার অংশ হিসেবেই দেখছে সিদ্দিকুর, ‘এটা আসলে খেলার অংশ। ওই দিন আসলে বল গাছে লেগে বাজে জায়গায় চলে গেছে। এ নিয়ে আমার কোনো দুঃখ নেই। কেননা, এই টুর্নামেন্টেই অনেক উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে খেলেছি। অনেক বাজে শট খেলেও আমি বার্ডি পেয়েছি, যেমন হোল নাম্বার সাতে। তো সব মিলিয়ে এটা আমার জন্য দারুণ একটা সপ্তাহ। ’

গতকাল সব মিলে সিদ্দিকুর ছয়টি বার্ডি পেয়েছেন। তবে একটি বগিও খেতে হয়েছে। চার রাউন্ড মিলে ১৩ আন্ডার পার। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে খুশি তিনি। সিদ্দিকুর বলেন, ‘আমি অনেক খুশি যে, প্রথম দিনটা যদিও ভালো ছিল না কিন্তু পরে আমি ভালোভাবে ফিরে এসেছি। নিজেদের কোর্সে দ্বিতীয় পজিশন, সব মিলিয়ে আমি খুশি। ’

চার রাউন্ড মিলে পারের চেয়ে মোট ১৭ শট কম খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন থাইল্যান্ডের গলফার জাজ জানেওয়াতানন্দ। সিদ্দিকুর রানারআপ। পারের চেয়ে ১১ শট কম খেলে তৃতীয় হয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গলফার ডজ কেমার। সেরা অ্যামেচার গলফারের পুরস্কার পেয়েছেন আকবর হোসেন।

তৃতীয় রাউন্ড শেষে সিদ্দিকুরের অবস্থান ছিল লিডারবোর্ডের তিন নম্বরে। শীর্ষে থাকা জাজের সঙ্গে তার পার্থক্য ছিল ৫ আন্ডার পার। দুইয়ে ছিলেন ভারতের শুভঙ্কর শর্মা। মানসিক চাপের কাছে হেরে গতকাল চতুর্থ স্থানে শেষ করেছেন।

অনেক পিছিয়ে থাকলেও গতকাল শিরোপা জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন সিদ্দিকুর। তবে জাজ অনেক বেশি ভালো খেলায় তা শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। সিদ্দিকুর বলেন, ‘আজ আমি অনেক আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। আমি দ্বিতীয় হোলে বার্ডি, চতুর্থ হোলে বার্ডি করেছি। পঞ্চম হোলে সহজ বার্ডি সি করেছি। এরপর সাত নম্বর হোলে, ৯ নম্বরে মিস করলাম। আজ যদি আমার পাটিংগুলো সেভাবে হতো, তাহলে আমার সুযোগ ছিল। তবে তা নিয়ে কোনো আফসোস নেই। জাজ খুব ভালো খেলেছে। ও আসলে শিরোপার যোগ্য। ওকে আমি অভিনন্দন জানাই। ’

রানারআপ হলেও এই টুর্নামেন্ট তাকে সামনে আরও ভালো খেলতে সহায়তা করবে বলে জানান, ‘নতুন বছরে এটা আমার দ্বিতীয় টুর্নামেন্ট। এ বছরের বাকি টুর্নামেন্টগুলোয় এটা আমাকে আসলেই অনুপ্রাণিত করবে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় হওয়া আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। ’

চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় জাজ প্রাইজমানি হিসেবে পেয়েছেন সাড়ে ৪৪ লাখ টাকা। রানারআপ হয়ে সিদ্দিকুর রহমান পেয়েছেন সাড়ে ২৭ লাখ টাকা।

বাংলাদেশি গলফারদের মধ্যে ৫ আন্ডার পার খেলে যৌথভাবে ১৫তম হয়েছেন দুলাল হোসেন। গতকাল পারের চেয়ে মাত্র ১ আন্ডার পার খেলতে পেরেছেন। তবে আরও খারাপ হতে পারত তার। কেননা ১৩ নম্বর হোলে তিনি ট্রিপল বগি খেয়েছিলেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, পরের হোলেই আবার ঈগল (ডাবল বার্ডি) পেয়েছেন। দুলাল বলেন,  ‘আজকে শটগুলো ভালো হয়েছে কিন্তু পাটিং খুব খারাপ হয়েছে। এত ভালো শট হবে, হোলের খুব কাছাকাছি যাবে আমি ভাবতেও পারিনি। কিন্তু অনেক পাট মিস করেছি। সাত নম্বর হোলে তিনটা শট বেশি খেলেছি। এ কারণেই পিছিয়ে গেছি। ’

বাংলাদেশ প্রোফেশনাল গলফারস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএ) গত বছর যে ৯টি স্থানীয় টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছিল তার মধ্যে চারটির শিরোপা জিতেছেন দুলাল। তাই ১৫তম অবস্থানে থেকে শেষ করে খুশি হতে পারেননি। আক্ষেপের সুরে দুলাল বলেন, ‘আসলে আমি যে পর্যায়ের খেলোয়াড়, খারাপ হলেও আমার সেরা পাঁচে থাকা দরকার ছিল। আশাও করেছিলাম। কিন্তু পাটিং না হওয়ায় তা হয়নি। দুর্ভাগ্য। ’ বাংলাদেশের অন্য গলফারদের মধ্যে ২৬তম হয়েছেন জামাল হোসেন মোল্লা, ৩৮তম মোহাম্মদ নাজিম, যৌথভাবে ৪৭তম রবিন মিয়া ও বাদল হোসেন।  

এই পাতার আরো খবর
up-arrow