Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২০
জনপ্রিয় হয়ে উঠছে গলফ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
জনপ্রিয় হয়ে উঠছে গলফ
বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেনের শেষ দিনে কুর্মিটোলা গলফ কোর্সে দর্শকের ঢল নেমেছিল —বাংলাদেশ প্রতিদিন

গলফ খেলা বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে এক সময় তা ভাবাই যেত না। এলিটদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এই খেলা।

সাধারণ দর্শকরাও এখন গলফ নিয়ে মাতোয়ারা হয়ে উঠছেন। অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশে গলফের আবির্ভাব। ৬০ দশকে ছুটির দিনে রমনা পার্ক বা পিলখানায় গলফ হতো। ৭০ দশকে ক্যান্টমেন্টের ভিতরে এই খেলা শুরু হয়। তবে গলফ যে একটা খেলা তা অনেকের কাছেই অজানা ছিল। সত্যি বলতে কী গলফ পরিচিতি হয়ে ওঠে কিছুদিন আগে। সিদ্দিকুর রহমান আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় ক্রীড়াঙ্গনে গলফ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। মিডিয়াতেও এই খেলার গুরুত্ব পেতে থাকে।

গলফ এক জায়গায় সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু দেশের শীর্ষ শিল্প প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ বাংলাদেশের গলফকে জনপ্রিয় করার পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে। অনেক আগে থেকেই গলফের নানা টুর্নামেন্টে স্পন্সর করছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু এশিয়ান ট্যুরের দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশের গলফের চেহারা পাল্টে যায়। বাংলাদেশে গলফের এশিয়ান ট্যুরের আসর হবে তা ছিল স্বপ্ন। কিন্তু বসুন্ধরা গ্রুপ এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিয়েছে। ২০১৫ সালে বসুন্ধরা গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকায় প্রথমবারের মতো বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেন এশিয়ান ট্যুরের আসর বসে। সেই থেকে নতুনভাবে পরিচিত হয়ে ওঠে বাংলাদেশের গলফ। ১৯৮৫ সালের কথা মনে আছে? সেবার ঢাকায় প্রথমবার আয়োজিত হয় এশিয়া কাপ হকি। টুর্নামেন্টে হকির দুই পরাশক্তি ভারত-পাকিস্তান অংশ নেওয়ায় হকি নতুনভাবে জেগে ওঠে। জনপ্রিয়তা এত তুঙ্গে উঠে যে গ্রাম-গঞ্জে গাছের ডাল দিয়ে কিশোররা বুঝক আর না বুঝক হকি খেলা শুরু করে দেয়।

এমন জোয়ার এখন গলফকে ঘিরেও। ২০১৫ সালে সংরক্ষিত এলাকা কুর্মিটোলায় বাংলাদেশ ওপেনের আসর বসায় গলফ ঘিরে রীতিমতো উৎসাহ-উদ্দীপনা শুরু হয়ে যায়। একটা স্টিক নিয়ে গলফ খেলছেন অনেকেই। গলফের নিয়ম-কানুন এখন সাধারণ ক্রীড়ামোদীদের কাছে সহজ হয়ে উঠছে। ক্রিকেট, ফুটবল ও হকির পাশাপাশি গলফ নিয়েও এখন অনেকে মাতোয়ারা। টানা তিন বার বসুন্ধরা গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকায় বাংলাদেশ ওপেন অনুষ্ঠিত হলো। দুই আসরে দর্শক ছিল চোখে পড়ার মতো। এবার তৃতীয় টুর্নামেন্ট ঘিরে যে দর্শকের সমাগম ঘটে তা ফুটবলকে হার মানিয়েছে। গলফ ঘিরে হাজার হাজার দর্শক তা ভাবাই যেত না। বিশেষ করে গতকাল তৃতীয় বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেনের যে ধরনের দর্শকের ঢল নামে তা দেখে বিদেশি গলফাররাও অবাক হয়ে যান। সিদ্দিকুরের শিরোপা জেতার সম্ভাবনা ছিল তাই দেশসেরা এই গলফারকে উৎসাহ জোগাতে সকাল থেকেই দর্শকরা কুর্মিটোলা গলফ কোর্সে ছুটে আসেন। শেষ পর্যন্ত সিদ্দিকুরের ট্রফি জেতা না হলেও দর্শকরা প্রাণভরে লড়াই উপভোগ করেছেন।

বসুন্ধরা শুধু গলফ কেন অধিকাংশ খেলাতেই পৃষ্ঠপোষকতা করছে। ক্রীড়াঙ্গনে অবকাঠামো নির্মাণের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশের গলফকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করে তুলেছে বসুন্ধরা গ্রুপই। গতকাল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন বাংলাদেশ ওপেন আয়োজনের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন করে এই গ্রুপ বাংলাদেশের গলফকে পরিচিত করে তুলেছে। এ থেকে দেশে নতুন নতুন গলফার বের হবে। আশা রাখি বড় ধরনের সাফল্যও আসবে। বিদেশি গলফাররা অতিথেয়তায় মুগ্ধ। চ্যাম্পিয়ন থাইল্যান্ডের জাজ জানেওয়াতানন্দ বলেন, ট্রফি জিতে আমি খুশি। বসুন্ধরা গ্রুপকে ধন্যবাদ জানাই এমন টুর্নামেন্টে পৃষ্ঠপোষকতা করায়। এখানে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখলাম তা যদি ধরে রাখা যায় তাহলে বাংলাদেশের গলফ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। সিদ্দিকুর রহমান বলেন, নিঃসন্দেহে বসুন্ধরা গ্রুপ গলফে বড় অবদান রাখছে। বাংলাদেশে এশিয়ান ট্যুর হওয়ার পর গলফ ঘিরে আগ্রহটা বাড়ছে। অনেকে এখন গলফকেই খেলা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। এটা দেশের জন্য কম প্রাপ্তি নয়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow