Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪২
রান পেলেন মুশফিক সৌম্য
হায়দরাবাদে প্রস্তুতি ম্যাচ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
রান পেলেন মুশফিক সৌম্য

ভারতীয় উইকেটগুলো স্পিনারদের স্বর্গ। বিশেষ করে হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের তিন টেস্ট ইতিহাস তেমনটাই বলছে।

উইকেটটির চরিত্র কেমন হতে পারে, সেটা আগাম আঁচ করা যায় পরিসংখ্যান ঘেঁটে। কিন্তু ৯ ফেব্রুয়ারি টেন্ট শুরুর আগে গতকাল যে দুদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ শুরু হয়েছে, তাতে কিন্তু স্পিনারদের কষ্ট করতে হয়েছে। পেসারদের দাপটে অসহায় ছিলেন ব্যাটসম্যানরা। বিশেষ করে ভারতের দুই পেসার চাসমা মিলিন্দ ও অনিকেত চৌধুরীর গতি, সুইং ও বাউন্সকে সামলাতে বেশ পরিশ্রম করতে হয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। চৌধুরীর গতি ও বাউন্সের বিপক্ষে লড়াই করে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ২২৪। দিন শেষে ১ উইকেটে ৯১ রান তুলেছে ভারত ‘এ’। হার্ড ও বাউন্সি উইকেটে টাইগারদের পক্ষে বুক চিতিয়ে লড়াই করে হাফসেঞ্চুরির ইনিংস খেলেছেন সৌম্য সরকার ও অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তবে ব্যাটিং কিংবা বোলিং কোনটাই করেননি সাকিব আল হাসান।  

সেকেন্দ্রাবাদ জিমখানা মাঠের উইকেটে শুরু থেকে বাউন্স ছিল।

সেই বাউন্সের বিপক্ষে তাল সামলাতে পারেননি দুই বাঁ হাতি ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। দুজনেই ফিরে যান দ্রুত। তামিম সাজঘরে ফিরেন ১৩ রানের ব্যক্তিগত ইনিংস খেলে। ইনজুরির জন্য ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট মিস করা ইমরুল সাজঘরে ফিরেন দ্রুত ব্যক্তিগত ৪ রানে। ৪৪ রানে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর সৌম্য একাই খেলতে থাকেন ওয়ানডে স্টাইলে প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে ৭৩ বলে খেলেন ৫২ রানের নানন্দিক ইনিংস। ইনিংসটিতে ছিল ৯টি বাউন্ডারি ও একটি ওভার বাউন্ডারি। ক্রাইস্টচার্চে ইমরুলের জায়গায় সুযোগ পাওয়া সৌম্য খেলেছিলেন ৮৭ রানের চোখ জুড়ানো ইনিংস। ৭২ রানে মুমিনুলের বিদায়ের কিছুক্ষণ পর সাজঘরে ফিরেন সৌম্য। বাংলাদেশের ইনিংসে বড় কোনো জুটি গড়েনি। শুধুমাত্র অধিনায়ক মুশফিক ও সাব্বির রহমান ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৭১ রান। সাব্বির ৩৩ রানে আউট হন। মুশফিক ৫৮ রানে সাজঘরে ফিরলেও পুরোপুরি ছন্দে থাকার ইঙ্গিত দেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েলিংটন টেস্টে ১৫৯ রানে অসাধারণ একটি ইনিংস খেলেছিলেন টাইগার অধিনায়ক। সাবেক অধিনায়ক সাকিবের সঙ্গে ৩৫৯ রানের জুটিও গড়েছিলেন। সেটা বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে যে কোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি। মুশফিক গতকাল উইকেটের বাউন্স ও প্রতিপক্ষ বোলারদের সুইং, গতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে ১০৬ বলে ৫৮ রানের ইনিংস খেলেন। যাতে ছিল ৮টি চার ও একটি ছক্কা। শেষ দিকে দারুণ ফর্মে থাকা লিটন দাস অপরাজিত থাকেন ২৩ রানে। স্বাগতিক বোলারদের পক্ষে চৌধুরী ১২ ওভারের স্পেলে ২৬ রানের খরচে নেন ৪ উইকেট। বাংলাদেশ ৬৭ ওভারে ৮ উইকেটে ২২৪ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে।

স্বাগতিক দল ২১ ওভার ব্যাটিং করে। পরিচিত উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে দ্রুতলয়ে ব্যাটিং করেন ওপেনার পাঞ্চল ও আইয়ির। পাঞ্চল ৪০ রানের অপরাজিত ইনিংসটি খেলেন ৬২ বলে ৬ চারে। অধিনায়ক মুকুন্দ সাজঘরে ফিরেন ব্যক্তিগত ১৬ রানে। বাংলাদেশের পক্ষে একমাত্র উইকেটটি নেন শুভাশীষ রায়। ৫ ওভারের স্পেলে ১১ রানের খরচে তিনি আউট করেন মুকুন্দকে। গতকাল প্রথম দিন টাইগারদের পাঁচ বোলার বোলিং করেন। স্পিড স্টার তাসকিন আহমেদ ৬ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। সাকিবের সঙ্গে মাঠে নামেননি পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি। আজ দ্বিতীয়দিন বাংলাদেশের বোলাররা ১৩৩ রানে এগিয়ে থেকে বোলিং করবেন। তবে এটা নিশ্চিত সেকেন্দ্রাবাদ জিমখানা মাঠের উইকেটের সঙ্গে হায়দরাবাদের উইকেটের মিল থাকবে না নিশ্চিত।  

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: প্রথম ইনিংস, ২২৪/৮, ৬৭ ওভার (ডি.) ( তামিম ইকবাল ১৩, ইমরুল কায়েশ ৪, সৌম্য সরকার ৫২, মুমিনুল হক, ৫, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ২৩, মুশফিকুর রহিম ৫৮, সাব্বির রহমান ৩৩, লিটন দাস ২৩*। মিলিন্দ ১/২৬, চৌধুরী ৪/২৬, শঙ্কর ১/৩২, নাদিম ১/৩৮, কুলদ্বীপ  যাদব ১/৩২)।

ভারত ‘এ’: প্রথম ইনিংস ৯১/১, ২১ ওভার ( পাঞ্চল ৪০,* মুকুুন্দ ১৬, আয়ির ২৯*। মফিউল ০/১৭, তাসকিন ০/২৫, শুভাশিষ ১/১১, মেহেদি মিরাজ ০/২৭, তাইজুল ০/৭)।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow