Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২২
বিদেশি লিগে বাংলাদেশির দাপট
রাশেদুর রহমান
বিদেশি লিগে বাংলাদেশির দাপট

ওয়াসিম আকরামের মতো বিখ্যাত ক্রিকেটার ঢাকা লিগ খেলে গেছেন। তার গায়ে ছিল আবাহনীর জার্সি।

অন্যদিকে মোহামেডানে খেলেছেন অর্জুনা রানাতুঙ্গা ও জয়সুরিয়ার মতো তারকা ক্রিকেটার। বিপিএল খেলে মাঠ কাঁপিয়েছেন সাঙ্গাকারা, গেইল, আফ্রিদিরা। কেবল ক্রিকেটেই নয়, ফুটবলেও এক সময় বিদেশিরা বেশ নাম কুড়িয়েছেন ঢাকার মাঠে। ইরাকের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা সামির শাকির ও করিম মোহাম্মদের দুরন্ত ফুটবল দেখেছেন ঢাকা আবাহনীর ভক্তরা। ঢাকা মোহামেডানের ভক্তরা দেখেছেন নাইজেরিয়ার হয়ে বিশ্বকাপ খেলা এমেকা ও ইরানের নালজেগারের মতো তারকাকে। হকিতে মাঠ মাতিয়েছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি শাহবাজ আহমেদ আর ভারতের ধনরাজ পিল্লাই। ঢাকায় বিদেশি তারকাদের সরব উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। তবে বিদেশের মাঠে বাংলাদেশিরাও আলো ছড়িয়েছেন। বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে নাম কুড়িয়েছেন ক্রিকেট আর ফুটবলে। ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, মালদ্বীপ আর সুদূর ওয়েস্ট ইন্ডিজে মাঠ কাঁপিয়েছেন মোনেম মুন্না, সাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান আর সাবিনারা।

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অন্যতম সদস্য কাজী সালাউদ্দিন। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ফুটবলকে  চেনাতে ১৯৭৬ সালে হংকংয়ের পেশাদার লিগ খেলতে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশের প্রথম ফুটবলার হিসেবে তিনিই বিদেশের মাটিতে খেলে আসেন। হংকংয়ে এক মৌসুমে খুব একটা নাম করতে পারেননি। তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পথপ্রদর্শক ছিলেন কাজী সালাউদ্দিনই। তার পথ ধরে শেখ  মোহাম্মদ আসলাম, কায়সার হামিদরা খেলেছেন কলকাতা ইস্ট বেঙ্গল ও মোহামেডানের মতো নামকরা দলে। তবে ১৯৯০ সালের আগে বাংলাদেশের কোনো তারকাই বিদেশের মাটিতে খুব একটা সুনাম কুড়াতে পারেননি।

মোনেম মুন্নার নাম এখনো ইস্ট বেঙ্গলের ভক্তরা ভুলে যাননি।   কলকাতা নিউমার্কেটের এক দোকানের নামও রাখা হয় মুন্না ড্রেসিং হাউস। একজন ডিফেন্ডার হিসেবে তিনি আবাহনী ও জাতীয় দলের জার্সিতে খেলেছেন। নেতৃত্ব দেন দুই দলে। ইস্ট বেঙ্গলে খেলতে গিয়ে তিনি ডিফেন্ডার থেকে পুরো দস্তুর মিডফিল্ডার হয়ে পড়েছিলেন। মোনেম মুন্না ইস্ট বেঙ্গলের জার্সিতে জয় করেছিলেন আইএফএ শিল্ড, ডুরান্ড কাপ, রোভার্স কাপ এবং কলকাতা ফুটবল লিগ। ইস্ট বেঙ্গলে তিনি কিংবদন্তির মর্যাদা পেয়েছেন। এখনো ভারতীয় এই ক্লাব নিজেদের সর্বকালের সেরা ফুটবলারের মধ্যে অন্যতম মনে করেন মোনেম মুন্নাকে।

মোনেম মুন্নার পর দীর্ঘদিন বাংলাদেশের তারকারা বিদেশের মাটিতে খুব একটা নাম কুড়াতে পারেননি। অন্যদিকে ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন সাকিব আল হাসান। বিশ্বের সেরা লিগগুলোতে খেলে জয় করেছেন ভক্তদের মন, জিতেছেন অসংখ্য পুরস্কারও। ২০১০ সালে বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে উস্টারশায়ারের হয়ে ইংলিশ ক্রিকেটে খেলতে যান সাকিব। এরপর আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের জার্সি গায়ে  মাঠে নামেন তিনি। ২০১২ ও ২০১৪ সালে আইপিএলের শিরোপাও জিতেন সাকিব। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে বারবাডোজ এবং জ্যামাইকা তালাওয়াসের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার। জ্যামাইকা তালাওয়াসের হয়ে গত বছর জয় করেছেন ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ। এছাড়াও ইংলিশ ক্লাব লিস্টারশায়ার, অস্ট্রেলিয়ান ক্লাব অ্যাডিলেড স্ট্রাইকারস এবং মেলবোর্ন রেনেগেডসেও খেলেছেন সাকিব আল হাসান। সবখানেই সুনাম কুড়িয়েছেন। সাকিব আল হাসানের পথ ধরে আরও অনেকেই বিদেশি ক্লাবে খেলতে শুরু করেন। তবে সাকিবের মতো নাম কুড়িয়েছেন কেবল মুস্তাফিজুর রহমান।

বিশ্ব ক্রিকেটে কাটার মাস্টার হিসেবে পরিচিত মুস্তাফিজুর রহমান। তার অবিশ্বাস্য কাটারের আঘাত সহ্য করতে না পেরেই কুপোকাত হচ্ছে এখনো বিশ্বসেরা ক্রিকেটাররা। দক্ষিণ আফ্রিকা আর ভারতের মতো বিশ্বখ্যাত ব্যাটিং লাইনের দলও যমের মতো ভয় করে মুস্তাফিজকে। সাকিব আল হাসানের পথ ধরে তিনিও বিদেশের মাটিতে দেশের নাম উজ্জ্বল করেন। গতবছর আইপিএলে প্রথমবারের মতো  খেলতে নেমে ভারত কাঁপান তিনি। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের জার্সিতে শিরোপা জিতেছেন। তার বোলিং জাদুতে মুগ্ধ হয়েছেন বিশ্বসেরা ক্রিকেটাররা। আইপিএলে ১৬ ম্যাচে মোট ১৭ উইকেট শিকার করেছিলেন মুস্তাফিজ। এরপর তার ডাক আসে সুদূর ইংল্যান্ড থেকেও। অবশ্য সেখানে ইনজুরির কারণে পুরো লিগ খেলতে পারেননি। পাকিস্তানে লাহোর কালান্দারেও নাম লিখিয়েছেন তরুণ এ কাটার মাস্টার।

ক্রিকেটের জয় জয়কার চারদিকে। বাংলাদেশের ফুটবল যেন এখন মরা গাঙ। তবে এরই মধ্যে আশার আলো জ্বালাতে শুরু করেছে বাংলাদেশের মহিলা ফুটবলাররা। চারদিকে সৌরভ ছড়াচ্ছেন সাবিনা খাতুনরা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার পারফরম্যান্স দেখে ডাক আসে মালদ্বীপ থেকে। ২০১৫ সালে সেখানকার পুলিশ দলের জার্সিতে খেলতে শুরু করেন তিনি। বাংলাদেশের প্রথম নারী ফুটবলার হিসেবে বিদেশের মাটিতে খেলতে গিয়েই জয় করেন ভক্তদের মন। সাবিনা খাতুন মালদ্বীপ পুলিশ দলের জার্সিতে ৬ ম্যাচে গোল করেন ৩৭টি! এর মধ্যে এক ম্যাচেই করেছিলেন ১৬ গোল! তার গোল করার এই অবিশ্বাস্য ক্ষমতা দেখে অনেকেই তাকে ‘নারী মেসি’ খেতাব দিয়েছেন।

বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ক্রীড়া তারকারা বেশ নাম কুড়িয়েছেন গত কয়েক বছরে। মোনেম মুন্নার পথে ছুটে চলেছেন সাকিব, মুস্তাফিজ আর সাবিনারা। এই ধারায় নতুন নতুন আরও অনেক নাম যোগ হবে।   বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের সুনাম ছড়িয়ে পড়বে ক্রীড়া তারকাদের মাধ্যমেই। এ প্রত্যাশা সবার।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow