Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২৩
বাংলাদেশ বলেই সতর্ক কোহলিরা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশ বলেই সতর্ক কোহলিরা

টেস্টে এখন দারুণ ফর্মে ভারত। র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে রয়েছে তারা।

কিছুদিন আগে পাঁচ সিরিজের ম্যাচে প্রথমটি ড্র করলেও পরের চারটিতে ইংল্যান্ডকে দাঁড়াতেই দেননি কোহিলারা। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং তিন ডিপার্টমেন্টেই পারদর্শিতার চাপ রাখছেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। এ অবস্থায় ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে হায়দরাবাদে শুরু হওয়া একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে তারাই ফেবারিট। কিন্তু প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ বলেই প্রস্তুতিতে নেই কোহিলারা। অনেক দিন পর দুই দেশ টেস্টে মুখোমুখি হবে। কিন্তু ওয়ানডে ও টি-২০ লড়াই হয়েছে। ২০১৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। মুস্তাফিজের সেই অসাধারণ বোলিং ভারত কি ভুলে গেছে? তা ছাড়া বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ প্রায় জিতেই গিয়েছিল। জয় এখন হাতের মুঠোয় তখুনি ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বহীনতার কারণে ভারতের কাছে হেরে যায়।

আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে  স্নায়ু চাপে থাকত ভারত। শচীনের মতো বিখ্যাত ব্যাটসম্যান নাভার্সনেন্সে রান আউট হয়ে যেতেন। এখন বাংলাদেশ মানেই বাড়তি চাপে থাকা। অধিকাংশ ক্রিকেট বিশ্লেষকই হায়দরাবাদ টেস্টে ভারতকে ফেবারিট বলছেন। তা ছাড়া কয়েকদিন আগে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টাইগাররা ওয়ানডে, টি-২০ ও টেস্টে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। তবু ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটাররা বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। নবজোত সিধু কথায় কথায় বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে সমালোচনা করেন। ২০০০ সালে বাংলাদেশ টেস্ট খেলার স্বীকৃতি পাওয়ার পর সিধু বলেছিলেন, আইসিসি টেস্টের সৌন্দর্য নষ্ট করে ফেলল। বাংলাদেশ টেস্ট খেলবে কোন যুক্তিতে। এবার সেই সিধুর মুখে ভিন্ন সুর। তিনি বলেন, শক্তির বিচারে অবশ্যই আমি ভারতকে এগিয়ে রাখব। কিন্তু বাংলাদেশকে হারাতে হলে সব ডিপার্টমেন্টেই সমানভাবে জ্বলে উঠতে হবে। তা না হলে কি ঘটে বলা মুশকিল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ হারলেও সাকিবরা সমানভাবে লড়াই করেছেন। প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসে সাকিবের ডাবল ও মুশফিকের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ রানের পাহাড় গড়ে। ভারতের ক্রিকেটাররা নিশ্চয় বিষয়টি মাথায় রাখবে। ইংল্যান্ডকে দ্বিতীয় টেস্ট দাঁড়াতেই দেয়নি। দুর্ভাগ্য পিছু না নিলে সিরিজই জিতে যেত বাংলাদেশ। অন্যরা কি ভাবছেন জানি না, আমি কিন্তু বাংলাদেশকে কোনোভাবেই হালকা চোখে দেখছি না।

১৯৮৩ সালে বিশ্বকাপ জয়ী ভারতের অধিনায়ক কপিল দেব বলেন, সেদিন টিভিতে এক সাংবাদিক বললেন, মুস্তাফিজ না থাকায় ভারতের চাপটা কমে গেল। জানি না কোন যুক্তিতে তিনি এ কথা বললেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটতো এখন আর কোনো ব্যক্তির পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভরশীল নয়। পুরো দলের টিম স্পিরিটই আলাদা। একের পর এক খেলোয়াড় বের হয়ে আসছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের কথা ধরা যাক, অল্প বয়সে মেহেদী কি বলটাই না করল। সাকিব ও সাব্বির চমৎকার খেলেন। সুতরাং মুস্তাফিজ নেই বলে কি ভারত জিতে যাবে এই নিশ্চয়তা দেওয়া যায়। ইদানীং লক্ষ্য করছি বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে গেলে ভারতীয় ক্রিকেটাররা মানসিক চাপে ভোগে। এই চাপ যদি হায়দরাবাদে পেয়ে বসে তাহলে বিপদ। কোনো সন্দেহ নেই টেস্টে কোহিলরা ফেবারিট। তা ব্যাট-বলে প্রমাণ দিতে হবে তা না হলে ফল হতাশারও হতে পারে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow