Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:০৬
ম্যাচ একটি বলে ভাবনা ভারতেরও
হায়দরাবাদ টেস্ট
মেজবাহ্-উল-হক
ম্যাচ একটি বলে ভাবনা ভারতেরও

প্রস্তুতি ম্যাচের পর দুই দলের ক্রিকেটারদের কাছে দুই রকম বার্তা চলে গেছে! বাংলাদেশের বোলাররা বুঝে গেছেন বড় পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে তাদেরকে। ব্যাটসম্যানরাও জানেন, উইকেট ব্যাটিং স্বর্গ হলেও তাদের কাজটা সহজ হবে না।

কোহলি-পুজারাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্কোর বোর্ডে সাকিব-মুশফিকদেরও রান করতে হবে।

তবে ভারতীয়দের ফুরফুরে ম্যাজাজেই থাকার কথা! প্রস্তুতি ম্যাচে একে তো বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল লেজে-গোবরে, তার ওপর বোলাররা আচ্ছা মতো ধোলাই খেয়েছে! তাই কোহলি-অশ্বিনরা কেবল জয়ের ব্যবধান কিংবা ব্যক্তিগত রেকর্ড নিয়েই ভাবতে পারেন! কেননা কিছুদিন আগেই তারা ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের মতো দলকে উড়িয়ে দিয়েছে। সেখানে র‌্যঙ্কিংয়ের এক নম্বর অবস্থানে থেকে ৯ নম্বরে থাকা পুঁচকে দলটিকে নিয়ে তারা        ভাববে কেন?

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন! হায়দরাবাদের কন্ডিশন বাংলাদেশের চেয়ে খুব বেশি আলাদা নয়। তাই আবহাওয়া সেখানে মুশফিকদের বিপাকে ফেলবে না। আর চাপ, সেটা ভারতের ওপরই থাকবে। কেননা ভারতের মতো দলের বিরুদ্ধে তাদের ঘরের মাঠে বাংলাদেশ খেলবে। এতে ভারত জিতবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বৈচিত্র্যময় টেস্টে উল্টো ঘটনাও অনেক ঘটেছে। তাই এমন একটা ভয় তাড়িয়ে বেড়াবে স্বাগতিকদের।

বাংলাদেশ হারের কথা চিন্তা করে যখন মাঠে নামবে তখন পুরোপুরি চাপ মুক্ত থাকবে। আর এমন সিচুয়েশনে বাংলাদেশের মতো উঠতি দলগুলো সব সময় ভালো করে। অন্যদিকে ভারতের মতো দলগুলো এমন অবস্থায় হয়তো বেশি ভাবতে থাকে প্রতিপক্ষকে নিয়ে, নয়তো বেশি রিল্যাক্স হতে গিয়েই বিপদে পড়ে।

মিডিয়ার কয়েক দিনের সংবাদে দেখা যায়, সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের অনেকেই বাংলাদেশ নিয়ে নানা কথা বলছেন। তাদের বেশির ভাগ কথাতেই মুশফিকদের ছোট করে দেখা হচ্ছে! বাংলাদেশকে উপদেশ দিতে গিয়ে, কেউ কেউ বলছেন, ‘কোহলিকে ক্ষেপিয়ে দিও না। অশ্বিনকে রাগিয়ে দিও না ইত্যাদি, ইত্যাদি। ’

ভারতীয় দলের বর্তমান সদস্যরা নানা কথা বলছেন! চেতেশ্বর পুজারা বলেছেন, তারা বাংলাদেশেকে ছোট করে দেখছেন না। ঋদ্ধিমান সাহা বলছেন তিনি বাংলাদেশকে ছোট করে দেখছেন না। সত্যি কথা বলতে, তারা ছোট করে দেখছেন বলেই নিজেদের কথায় বার বার ‘ছোট’র প্রসঙ্গটা টানছেন।

আবার ভারতের মিডিয়ায় লেখা হচ্ছে, এই ম্যাচ নাকি ভারতীয় ক্রিকেটারদের পরিসংখ্যান মজবুত করার ম্যাচ। বাংলাদেশ দলকে ‘ছোট’ করে আরও অনেক কথাই লেখা হচ্ছে। সবার ভাবনাটা এমন যেন এখানে ভারতীয় দল মহাগুরু আর বাংলাদেশ দল শিষ্য হওয়ার যোগ্যতাও রাখে না! ভারতের এই ভাবনাটাই বাংলাদেশের জন্য প্লাসপয়েন্ট!

নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের ব্যর্থতা এবং ঘরের ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের দাপুটে পারফরম্যান্সের পর দুই দলের শক্তি সামর্থ্যের একটা পরিষ্কার অবয়বও ফুটে উঠেছে। প্রস্তুতি ম্যাচে বাজে পারফরম্যান্সও মুশফিকদের করুণ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে— এই প্রস্তুতি ম্যাচ কি টেস্টের ড্রেস রিহার্সেল? নাকি সারসংক্ষেপ! এটা ঠিক মুশফিকরা পাত্তাই পায়নি। কিন্তু এই প্রস্তুতি ম্যাচের বাজে পারফরম্যান্সই বদলে দিতে পারে বাংলাদেশকে। কেননা এই ম্যাচের পর মুশফিকরা তাদের ভুল শুধরিয়ে নেওয়ার একটা সুযোগ পাচ্ছেন।

আর উপমহাদেশের মাটিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশ সমান নয়! এই ইংল্যান্ডকে বাংলাদেশও ঘরের মাঠে তিন দিনেই হারিয়ে দিয়েছে। আর টাইগারদের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে— লড়াকু মানসিকতা! এখন শেষ পর্যন্ত লড়াই করার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। তাই ভারতের জয়টা সহজ হওয়ার কথা নয়।

বাংলাদেশ-ভারত মাত্র এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ! একটু এদিক সেদিক হলে আর সিরিজে ফেরার সুযোগ থাকবে না। এই বিষয়টাই ভাবিয়ে তুলতে পারে ভারতকে। যদিও এই ম্যাচে হার-জিত র‌্যঙ্কিংয়ে কোনো প্রভাব ফেলবে না। কেননা ভারত জিতলে তাদের ১২০ রেটিং পয়েন্টের সঙ্গে বাড়তি ১ পয়েন্ট যোগ হবে। হারলে কাটা যাবে ২ পয়েন্ট। বাংলাদেশ হারলে কাটা যাবে ১ পয়েন্ট, জিতলে যোগ হবে ৫ পয়েন্ট। তবে এই ম্যাচে জয় পেলে সেটা বাংলাদেশের ইতিহাসেই সবচেয়ে বড় অর্জন হয়ে থাকবে। যদিও এমন আকাশ-কুসুম ভাবনা মুশফিকদের মনে নেই। তবে এমন ঘটনা ঘটা অসম্ভবও নয়!

কোহলি-পুজারারা ভয়ঙ্কর ব্যাটিং করেন কিন্তু নিউজিল্যান্ডের মাটিতে সাকিব-মুশফিকরা বুঝিয়ে দিয়েছেন তাদের ব্যাটিং সামর্থ্য। সেই ‘৩৫৯’ রানের মহাকাব্যিক জুটি হতে পারে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। কোহলিরা যত রানই করুক না কেন তামিম-সাকিবরা যদি ব্যাটিংয়ে নির্ভরতা দিতে পারেন তবে ম্যাচ ড্র করা খুব কঠিন হওয়ার     কথা নয়।

ঐতিহাসিক এই টেস্টে ড্র করা মানে তো বাংলাদেশ জয়ই! আর সেটা হবে ভারতীয়দের জন্য পরাজয়ের সমান। এই শঙ্কাটাই করছে ভারত। কেননা ম্যাচ যে মাত্র একটি। একবার ড্র হয়ে গেলে সিরিজে ফেরার আর কোনো সুযোগ থাকবে না। তাই একমাত্র ম্যাচ বলে ভাবনা ভারতেরও।

up-arrow