Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:১০
মোহামেডান ফিরছে মোহামেডান রূপে!
ক্রীড়া প্রতিবেদক
মোহামেডান ফিরছে মোহামেডান রূপে!
বাদল রায় - সালাম মুর্শেদী

পেশাদার লিগ শুরু হওয়ার পর ঢাকা আবাহনী পাঁচবার শিরোপা জিতেছে। অথচ ঢাকা মোহামেডানের ভাণ্ডার শূন্য।

রানার্সআপই ছিল বড় প্রাপ্তি। এবারতো কোনোক্রমে রেলিগেশন সেভ করেছে। ১২ দলের মধ্যে মোহামেডানের অবস্থান ছিল দশে। ভাবা যায় যে ক্লাব শিরোপা ছাড়া কিছুই বুঝত না, তারা এখন রেলিগেশন থেকে মুক্ত হয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছে। এতটা খারাপ অবস্থা কখনো হয়নি। ১৯৭৪ সালে ১৬ দলের মধ্যে মোহামেডানের অবস্থান ছিল নয়ে। সুপার লিগে উঠতে ব্যর্থ হয়েছিল। পরের দুই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ঠিকই জ্বলে উঠেছিল। ১৯৭৭ সালে সপ্তম স্থান দখল করলেও পরের মৌসুমে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এখনতো সাদা-কালোদের ঐতিহ্য ম্লান হতে চলেছে। ২০০২ সালে প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর শিরোপা যেন স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ফেডারেশন কাপ ও সুপার কাপ জিতলেও লিগের সঙ্গে তার তুলনা চলে না। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল আবাহনী-মোহামেডানের পার্থক্য  আকাশ-পাতালই বলা যায়।

শুধু ফুটবল কেন সব খেলাতেই তো একই অবস্থা। ক্রিকেট লিগে ২০০৮-২০০৯ মৌসুমের পর চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। হকিতে হয়েছে চতুর্থ। দাবা ও ব্যাডমিন্টনে তো দলই গড়া হয় না। ২০১১ সালে বর্তমান কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর ওবায়দুল করিম বলেছিলেন, মোহামেডান হবে এশিয়ার অন্যতম সেরা ক্লাব। কোথায় প্রায় ছয় বছর হতে চলল— বর্তমান কমিটি ক্লাবকে কী দিতে পেরেছে? যোগ্য সংগঠকের অভাবে মোহামেডানের অবস্থা এতটা নাজুক যে ক্রীড়াঙ্গনে এই ক্লাবের অস্তিত্ব টিকে থাকবে কিনা এ নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।

যাক ক্লাবের এমন হাল দেখে নিবেদিত সংগঠকরা বসে থাকতে পারেননি। মোহামেডানকে মোহামেডান রূপে ফিরিয়ে আনতে সোমবার ক্লাবে বর্তমান কমিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। ২০১১ সালে নির্বাচনের পরই ক্লাবে বিপর্যয় নেমে আসে। এই কমিটিকে মেনে নিতে পারেননি অনেক যোগ্য সংগঠক। ক্লাবে আসাও বন্ধ করে দেন। নেমে আসে বিপর্যয়। যারা অভিমান করে দূরে সরে যান তারা এখন এগিয়ে আসছেন। সেদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অভিজ্ঞ সংগঠক মনিরুল হক চৌধুরী, বাদল রায়, সালাম মুর্শেদী, ফজলুর রহমান বাবুল, মোজাম্মেল হক বাবু ছাড়াও অন্যরা। বৈঠকে তারা একটাই কথা বলেছেন, মোহামেডানের এই রুগ্ন রূপ দেখতে চান না। আগের রূপে দেখতে চান। ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, ‘আমি এমন একটা সুন্দর দিনের অপেক্ষায় ছিলাম। সবাই মিলে কাজ করতে পারব। ’ কিন্তু ঐক্যের আলামত যে পাওয়া গেল এতে মোহামেডান উপকৃত হবে কীভাবে?

বাদল রায় বলেন, অনেক তো দেখলাম এখন আর নীরব থাকতে পারি না। পত্র-পত্রিকায় লেখা হচ্ছে লাইফসাপোর্টে বেঁচে আছে মোহামেডান। এখন ক্লাবকে বাঁচাতে চাই। জোড়াতালির পরিবর্তে ফুটবল, ক্রিকেটসহ সব খেলাতেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল গড়তে হবে। মোহামেডান রেলিগেশন ফাইট দেবে স্বপ্নেও ভাবিনি। যোগ্য লোকদের হাতে দায়িত্ব দিতে হবে। জরুরিভিত্তিতে সমঝোতা করে নতুন কমিটি গড়তে হবে। তা কি সম্ভব। এ ব্যাপারে লোকমান ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা তার সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছি। সামনের দলবদল প্রস্তুতিটা আমাদের এখন থেকেই নিতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা লোকমান ভাইও বিষয়টি উপলব্ধি করছেন। সালাম মুর্শেদী বলেন, মনে একটা অভিমান জমেছিল। এখন ঝেড়ে ফেলেছি। মোহামেডানকে এখন বাঁচাতে হবে। এভাবে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্লাব চলতে পারে না। লোকমান ভাইকে ধন্যবাদ জানাই দেরিতে হলেও বিষয়টি উপলব্ধি করেছেন। তিনি বলেন, মোহামেডানের এ অবস্থার জন্য হয়তো আমরা সবাই দায়ী। বড় একটা কালো মেঘ জমা হয়েছে ক্লাবে। ঝড়ে যেন লণ্ডভণ্ড না হয়ে যায় এ জন্য আমরা সতর্ক। মোহামেডানের দুয়ার এখন খোলা রাখতে হবে। যেন যোগ্য সংগঠকরা কাজ করতে পারেন। যোগ্যরা দায়িত্ব নিলে দেখবেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল গড়া যাবে। মতবিরোধ বা দ্বন্দ্ব নয় সবাই মিলে কাজ করতে হবে। মোহামেডান শক্তিশালী হলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনও উপকৃত হবে। বিশেষ করে ফুটবলে এই দুরাবস্থা কেটে যাবে।

up-arrow