Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২১
ঘুরে ফিরে সেই আক্ষেপ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ঘুরে ফিরে সেই আক্ষেপ
সহজ ক্যাচ ফেলে দেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম

জেরেমি কোনিকে মনে থাকার কথা ক্রিকেটপ্রেমীদের। নিউজিল্যান্ডের লিজেন্ড ক্রিকেটার গ্লেন টার্নারের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতেন।

তার দুই হাতের গ্রিবা সাধারণ মানুষের তুলনায় একটু বেশিই বড় ছিল। তাই তাকে স্লিপ ফিল্ডিং করানো হতো। যখন ক্যাচ ধরতেন কোনি তখন বলটিকে পিংপং বল মনে হতো! শুধু কোনি নয় স্লিপ ফিল্ডিংয়ে দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য, অবিশ্বাস্য সব ক্যাচ ধরেছেন ভারতের রাহুল দ্রাবিড়, অস্ট্রেলিয়ার মার্ক ওয়াহ, মার্ক টেলর, রিকি পন্টিং, দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিস, নিউজিল্যান্ডের স্টিফেন ফ্লেমিংরা। এরা এক একজন লিজেন্ড ব্যাটসম্যানও। একই সঙ্গে স্লিপেও ছিলেন দুর্দান্ত ফিল্ডার। হায়দরাবাদে ঐতিহাসিক টেস্টের প্রথম দিন স্লিপে দাঁড়িয়ে সাকিব আল হাসানদের ক্যাচ মিস করতে দেখে বাংলাদেশ দলে একজন জেনুইন ফিল্ডারের অভাব স্পষ্ট হয়েছে পরিষ্কারভাবে।

স্লিপে ফিল্ডিং করা নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে একটি কথা চালু আছে শোনা যায়। ভয়ে বলে কেউই স্লিপে দাঁড়াতে চান না। স্লিপ ফিল্ডারদের আলাদা ক্যারিশমা লাগে। রিফ্লেকশন অন্য যে কোনো অবস্থানের তুলনায় অনেক বেশি লাগে। কাল স্লিপে দাঁড়িয়ে সাকিব যেভাবে চেতেশ্বর পূজারার দুই দুটি ক্যাচ মিস করেছেন, তাতে পরিষ্কার যে, স্লিপ ফিল্ডিংয়ে বাড়তি সময় দেন না ক্রিকেটাররা। পূজারাকে ব্যক্তিগত ৮৩ রানে সাজঘরে ফিরে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজের বলে। তার আগে জীবন পেয়েছেন তিন তিনবার। প্রথমবার ব্যক্তিগত ১১ রানে। কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে মুশফিক ও প্রথম স্লিপে দাঁড়ানো সৌম্য সরকারের ফাঁক গলিয়ে যায়। অবশ্য ক্যাচটির লাইনে যাওয়া উচিত ছিল উইকেটরক্ষক মুশফিকের। ধারাভাষ্যকার সুনীল গাভাস্কার তেমনটাই বলেছেন। এরপর ব্যক্তিগত ২১ রানে মিরাজের বলে ফরোয়ার্ড খেলেন পূজারা। বল ব্যাটের কানায় লেগে প্রথম স্লিপে যায়। কিন্তু সাকিব বলের লাইনে যেতেই পারেননি। ৬৪ রানের মাথায় ফের জীবন পান পূজারা। এবার তাইজুল ইসলামের বলে একইভাবে বলের লাইন মিস করেন সাকিব। স্লিপে ক্যাচ মিস করার ঐতিহ্য শুধু গতকালই ছিল না। নিউজিল্যান্ড সফরের ওয়েলিংটন ও ক্রাইস্টচার্চ টেস্টেও নিত্য ক্যাচ মিস করেছেন ফিল্ডাররা। যার খেসারত গুনতে হয়েছে টেস্টে হেরে। গতকাল পূজারা তিনবার জীবন পেয়ে ৮৩, রান আউট থেকে বেঁচে সেঞ্চুরি করেন মুরলি বিজয়।

স্লিপে ফিল্ডিং করার জন্য আলাদা ক্ষমতা লাগে। সাহস লাগে। পরিসংখ্যান তাই বলে। সাবেক অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়কে বলা হয় ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম ক্রিকেটার। স্লিপে দাঁড়িয়ে ১৬৪ টেস্টে ক্যাচ নিয়েছেন ২১০টি। যা টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে রেকর্ড। শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক মাহেলা জয়বর্ধনও ছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা স্লিপ ফিল্ডার। ১৪৯ টেস্টে ক্যাচ নিয়েছেন ২০৫টি। বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস ব্যাটিং ও বোলিংয়ের পাশাপাশি ছিলেন অন্যতম সেরা স্লিপ ফিল্ডারও। ১৬৬ টেস্টে ক্যাচ ধরেছেন ২০০টি। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং ১৬৮ টেস্টে ১৯৫ ক্যাচ, মার্ক ওয়াহ ১২৮ টেস্টে ১৮১, স্টিফেন ফ্লেমিং ১১১ টেস্টে ১৭১ ও মার্ক ওয়াহ ১০৪ টেস্টে ১৫৭ ক্যাচ নিয়েছেন। স্লিপ ফিল্ডিং যে নান্দনিকতায় ভরা, সেটা প্রমাণ করেন মার্ক ওয়াহ।

নিউজিল্যান্ডে লাগাতার ক্যাচ মিস করায় ক্ষুব্ধ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন, বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফিল্ডার জন্টি রোডসকে আনছেন। রোডস আসার পর কি আমূল পাল্টে যাবে ফিল্ডিংয়ের চেহারা?

up-arrow