Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০২
হায়দরাবাদ টেস্ট
মুশফিকদের ভুলে এভারেস্টে ভারত
মেজবাহ্-উল-হক
মুশফিকদের ভুলে এভারেস্টে ভারত

ভুলের সমাহার! দু-একটি নয়, হায়দরাবাদ টেস্টের প্রথম দুই দিনে নয়টি আউট করার সুযোগ নষ্ট করেছেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। আর মুশফিকদের ভুলে প্রথম ইনিংসে রানের এভারেস্টে পৌঁছে গেছে ভারত।

৬ উইকেটে ৬৮৭ রান করার পর ইনিংস ঘোষণা করেছেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি।

হায়দরাবাদ টেস্টের প্রথম দিনই বড় ইনিংসের ঘোষণা দিয়ে রেখেছিল ভারত। গতকাল তার বাস্তবায়ন নিজ হাতেই করলেন অধিনায়ক কোহলি। তাকে অবশ্য দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন অঙ্কিকা রাহানে, ঋদ্ধিমান সাহা ও রবীন্দ্র জাদেজা।

গতকাল ডাবল সেঞ্চুরি করে টেস্টের রেকর্ডবুকে নতুন এক অধ্যায় যোগ করেছেন কোহলি। টেস্টের ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টানা চার টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি। মাত্র ২৪৬ বলে করেছেন ২০৪ রান। ২৪টি বাউন্ডারি। হার না মানা সেঞ্চুরি করেছেন পশ্চিমবঙ্গের ছেলে ঋদ্ধিমান। রাহানে খেলেছেন ৮২ রানের ইনিংস। অপরাজিত ৬০ রানের মারকাটারি ইনিংস খেলেছেন জাদেজা।

রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে ভারতকে এভারেস্টে পৌঁছে দিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন কোহলি। অথচ বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ভুলের পর ভুল করে দলকে পেছনের দিকে নিয়ে গেছেন। গতকাল তিনি একাই দুটি স্টাম্পিংয়ের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছেন।

কোহলির ডাবল সেঞ্চুরি হওয়ার কথা ছিল না! ১৬৫ রানেই তাকে ফিরে যেতে হতো ড্রেসিংরুমে। কয়েক স্টেপ এগিয়ে গিয়ে তাইজুলের বল মারতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরাস্ত হন। অফ-স্টাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মুশফিক বলটি সহজেই গ্লাভসবন্দীও করেন। কিন্তু প্রথম সুযোগে তিনি স্টাম্প ভাঙতে পারেননি। দ্বিতীয় দফায় যখন স্টাম্প ভাঙলেন তখন ক্রিজে পৌঁছে গেছেন কোহলি।

বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানকে আউট করার সহজতম সুযোগটি যখন প্রতিপক্ষ দলের অধিনায়ক নিজে নষ্ট করেন তখন সে দলের করুণ অবস্থা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। শুধু এটিই নয়, ৪ রানের ঋদ্ধিমানের স্টাম্পিংও মিস করেন মুশফিক। সেই ঋদ্ধিমান শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরি করে ফেলেন। আর কোহলি করেন ডাবল সেঞ্চুরি। আগের দিন মুশফিকের কারণে ১১ রানে নতুন জীবন পেয়ে ৮৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন চেতেশ্বর পূজারা।

মিস কিংবা ভুল খেলারই অংশ। কিন্তু প্রথম ইনিংসে টাইগার দলপতির তিন ভুলে নতুন জীবন পেয়ে তিন ভারতীয় ব্যাটসম্যান তাদের দলীয় ইনিংসে বাড়তি ২১৩ রান যোগ করেছেন।

তা ছাড়া গতকাল একটি করে ক্যাচ মিস করেছেন সাব্বির রহমান ও তামিম ইকবাল। পয়েন্টে সাব্বিরের হাত ফসকে যখন বল মাটিতে পড়ে যায় তখন রাহানের রান ছিল ৬২। তবে ক্যাচটি ধরতে পারলে সেটি ২০১৭ সালের সেরা ক্যাচগুলোর তালিকায় ওপরের দিকেই থাকত। আর তামিম লং অফে যখন ক্যাচ মিস করেন তখন ৪০ রানে অপরাজিত ছিলেন জাদেজা।

হাফ সেঞ্চুরি কিংবা তার বেশি রান করা ভারতের ছয় ব্যাটসম্যানই পেয়েছেন নতুন জীবন। বাংলাদেশের ফিল্ডারদের ভুল ভারতকে বড় ইনিংস গড়তে দারুণ সহায়তা করেছে।

আর বোলারদের পারফরম্যান্স ছিল যাচ্ছেতাই। একমাত্র তাইজুল ছাড়া আর কোনো বোলারই যেন নিজেকে টেস্টের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছিলেন না। ভারতের খেলা ১৬৬ ওভারের মধ্যে বাংলাদেশের বাঁ হাতি এই স্পিনার একাই বোলিং করেছেন ৪৭ ওভার। তিনটি উইকেটও তিনি নিয়েছেন। ফিল্ডাররা মিস না করলে আরও বেশ কয়েকটি উইকেট পেতেন তিনি।

দুই পেসার ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন ৫-এর ওপরে। যাকে নিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ভরসা সেই সাকিব আল হাসান যেন বল করতেই চাচ্ছিলেন না! ২৪ ওভার বোলিং করে দিয়েছেন ১০৪ রান। আরেক স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ দীর্ঘ সময় বোলিং করেছেন। কিন্তু তার বোলিং দেখে মনে হয়েছে নখদন্তহীন। ৪২ ওভারে রান দিয়েছেন ১৬৫। তবে ২টি উইকেট নিয়েছেন।

রান দেওয়ার ক্ষেত্রে গতকাল বাংলাদেশের বোলাররা অনন্য এক রেকর্ডের সঙ্গী হয়ে গেলেন। একে লজ্জার রেকর্ড বলাই ভালো। ভারতের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পাঁচ বোলার রান দেওয়ার সেঞ্চুরি করেছেন। টেস্টের ইতিহাসে এর আগে এমন লজ্জার ঘটনা ঘটেছে আর মাত্র ছয়বার। সপ্তমবারে সাক্ষী হয়ে রইলেন বাংলাদেশের পাঁচ বোলার— তাসকিন আহমেদ, কামরুল ইসলাম রাব্বি, মেহেদী হাসান মিরাজ, সাকিব আল হাসান ও তাইজুল ইসলাম।

প্রথম ইনিংসে রানের পাহাড়ে চাপা পড়লেও বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালোই হয়েছে। ১ উইকেট হারিয়ে টাইগাররা করেছেন ৪১ রান। বাংলাদেশ এখনো ভারতের চেয়ে ৬৪৬ রানে পিছিয়ে। ফলোঅন এড়াতে দরকার আরও ৪৪৭ রান। গতকাল ২৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তামিম। ১৫ রানে আউট হয়েছেন সৌম্য। তবে এ আউট বিতর্কের গন্ধ ছড়াচ্ছে। উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমানের গ্লাভসে বল বন্দী হওয়ার আগে সৌম্যর ব্যাটে লেগেছে কিনা তা নিয়ে রয়েছে সংশয়! মাঠের আম্পায়ার আউট দেননি, রিভিউয়েও ঠিকমতো বোঝা যাচ্ছিল না— কিন্তু আউট! যত আধুনিক প্রযুক্তিই ব্যবহার করা হোক না কেন বড় দলের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে আম্পায়াররা দুবার ভাবেন না!

up-arrow