Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২৭
মুশফিক মিরাজের প্রতিরোধ
মেজবাহ্-উল-হক
মুশফিক মিরাজের প্রতিরোধ
৮১ রানে অপরাজিত মুশফিক

তৃতীয় দিন শেষে মাঠ থেকে মাথা নিচু করে বের হচ্ছিলেন কোহলিরা। চোখে-মুখে হতাশার চিহ্ন।

কিন্তু মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ ফিরলেন বীরদর্পে—হাসতে হাসতে। দুই দলের ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষাতেই পরিষ্কার ফুটে উঠেছিল দিনের চিত্র।

ব্যাটিংয়ে নামার আগে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের বুকে উপর মস্ত এক পাথর চেপে বসেছিল। ৬৮৭ রানের জবাবে টাইগাররা আর কতইবা ভালো ব্যাটিং করবে! রীতিমতো একটা দুঃস্বপ্ন তাড়া করে ফিরছিল। গতকাল ৬৪ রানে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান তামিম, সৌম্য ও মুমিনুল হকের বিদায়ে মনে হচ্ছিল শেষ পর্যন্ত তিন দিনেই শেষ হতে যাচ্ছে হায়দরাবাদ টেস্ট! কিন্তু সকালের সূর্য যে সবসময় গোটা দিনের পূর্বাভাস দিতে পারে না— তা প্রমাণ করে দিলেন সাকিব, মুশফিক ও মিরাজ। তিন ব্যাটসম্যানের তিন হাফ সেঞ্চুরিতে হায়দরাবাদ টেস্টের তৃতীয় দিনটি নিজের করে নিয়েছে বাংলাদেশ।

কালকের দিনের ৯০ ওভারে বাংলাদেশ তুলেছে ২৮১ রান, হারাতে হয়েছে ৫ উইকেট। সব মিলে বাংলাদেশের স্কোর ৩২২/৬। এখনো ৩৬৫ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ।

ফলোঅন এড়াতেও দরকার আরও ১৬৬ রান। তারপরেও কাল রাতে ঘুম হওয়ার কথা নয় ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলির। আজ যদি আরও ১০০ রান যোগ করে বাংলাদেশ তাহলে উভয় সংকটে পড়ে যাবে ভারত। ফলোঅনে পড়লেও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং নামতে পারে তারা। কেননা চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং করার ঝুঁকি নিতে চাইবেন না কোহলি। আর ব্যাটিং করলেও বাংলাদেশকে টার্গেটইবা কতো দেবে? তা ছাড়া বাংলাদেশ যে এখন লম্বা ইনিংস খেলতে পারে সেকথা তো কোহলির অজানা নয়। দিনটা যেভাবে হতাশা দিয়ে হয়েছিল, কে ভেবেছিল শেষটা এমন মধুর হবে! কেননা টাইগারদের শেষ টেস্ট ম্যাচগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, সারা দিন ভালো খেলেও শেষ বিকালে টপাটপ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছে। কিন্তু গতকাল দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। পাহাড়সম চাপের বোঝা মাথায় নিয়েও ভারতের বোলিং লাইনআপের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

টাইগার দলপতি ৮১ রানে অপরাজিত। ৫১ রানে ব্যাট করছেন মিরাজ। ৮৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন তারা, দিনের শেষ সেশনে পাত্তাই দেননি ভারতের বোলারদের। দুই ব্যাটসম্যানই দিনের শেষ দুই ওভারে দুটি মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন।

মুশফিক— বাংলাদেশের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে তিন হাজার রানের কোটা পূরণ করেছেন। এর আগে তিন হাজারি ক্লাবে পৌঁছা বাংলাদেশের তিন ব্যাটসম্যান হচ্ছেন— হাবিবুল বাশার সুমন, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। মুশফিক যখন ব্যাটস হাতে মাঠে নামেন তখন তিনি এই মাইলফলক থেকে ৭৮ রান দূরে ছিলেন। গতকাল দিনের শেষ ওভারে ইশান্ত শর্মাকে স্কয়ার লেগ দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে মাইলস্টোন ছুঁয়ে ফেলেন।

মিরাজ—নিজের পঞ্চম টেস্টে এসে পেলেন প্রথম হাফ সেঞ্চুরির দেখা। দিনের ৮৯তম ওভারে পয়েন্ট দিনে রবিচন্দন অশ্বিনকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে অর্ধশতক পূরণ করেন। এই হাফ সেঞ্চুরির সঙ্গে সঙ্গে রেকর্ডবুকেও জায়গা করে নিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। সবচেয়ে কম বয়সী বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ডটি এখন তার দখলে।

গতকাল ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছেন মুশফিক। হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করতে খেলেছেন ১৩৩ বল। আর ৮১ রানের ইনিংসে তিনি বল ফেস করেছেন সর্বমোট ২০৬টি। বাউন্ডারি ১২টি। ভারত ৬৮৭ রান করার পর ড্র-ই একমাত্র লক্ষ্য। সেক্ষেত্রে রান করার চেয়েও উইকেটে পড়ে থেকে সময় কাটানোই বড় কথা। সেই কাজটিই দারুণভাবে করেছেন মুশফিক।

সাকিব আল হাসান করেছেন মারকাটারি ব্যাটিং। ৮২ রান করেছেন মাত্র ১০৩ বলে। বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন ১৪টি। ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং। সাকিব যতক্ষণ উইকেটে ছিলেন ভারতীয় বোলাররা যেন বোলিং করার জায়গা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। কিন্তু দুর্দান্ত খেলেও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে বিদায় নিতে হয়েছে বোকার মতো শট খেলে। অশ্বিনকে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ হয়ে যান।

অবশ্য গতকাল ২৪ ওভার বোলিং করে এই একটি মাত্র উইকেটই পেয়েছেন টেস্টের এক নম্বর বোলার। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যেন অশ্বিনকে খেলার কৌশলটা খুব ভালোভাবেই আয়ত্ত করেছেন। অথচ আগের সিরিজেই ইংলিশদের বিরুদ্ধে ৫ ম্যাচে ২৮ উইকেট নিয়েছিলেন। সে সিরিজে ২৬ উইকেট নিয়েছেন আরেক স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজা। তিনি গতকাল ২৯ ওভার বোলিং করে একটির বেশি উইকেট পাননি।

হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামের উইকেটটা এমনভাবে তৈরি হয়েছিল যাতে তৃতীয় দিন থেকে স্পিনাররা ভয়াবহ টার্ন পান। গতকাল শেষ বিকালে দুই স্পিনার অশ্বিন-জাদেজা দারুণ টার্ন পেয়েছেনও। কিন্তু কাজ হয়নি। অশ্বিন-জাদেজা যত ভালো বোলিং করেছেন, তার চেয়েও ভালো ব্যাটিং করেছেন মুশফিক-মিরাজ। তাদের ব্যাটে ভর করেই ‘ব্যাকফুটে’ চলে যাওয়া বাংলাদেশে এখন ‘ফ্রন্টফুটে’। যদিও ইনিংস হারের শঙ্কা এখনো যায়নি, তারপরেও এমন অবস্থায় ড্র-র চিন্তা করা মোটেও ‘বিলাসী ভাবনা’ নয়!

এই পাতার আরো খবর
up-arrow