Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪৮
সাকিবের শহরে ফুটবল উৎসব
বঙ্গবন্ধু কাপ শেখ রাসেলের ঘরে
রাশেদ খান, মাগুরা
সাকিবের শহরে ফুটবল উৎসব

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের বাড়ি মাগুরায়। স্বাভাবিকভাবে এই জেলায় ক্রিকেট নিয়ে উৎসবে মেতে থাকার কথা।

কিন্তু গত এক মাস ধরে মাগুরা যেন ফুটবলের নগরীতে পরিণত হয়। বসুন্ধরা সিমেন্টের পৃষ্ঠপোষকতায় ও আছাদুজ্জামান ফুটবল একাডেমির ব্যবস্থাপনায় এখানে বঙ্গবন্ধু কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। মানের অবনতি হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে ফুটবলে দর্শক খরা চলছে। ঢাকায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে হাইভোল্টেজ ম্যাচেও গ্যালারি থাকছে ফাঁকা। ঘরোয়া আসরে দর্শক যেন সোনার হরিণ।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ ও সুন্দর আয়োজন হলে দর্শকরা যে মুখ ফিরিয়ে নেবে না এর বড় প্রমাণ পাওয়া গেল মাগুরায়। বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু কাপ ফুটবলে যেন দর্শক উপচে পড়েছিল। দেশের জনপ্রিয় তিন ক্লাব শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র, ঢাকা মোহামেডান ও ঢাকা আবাহনী অংশ নেওয়ায় টুর্নামেন্টের আকর্ষণ আরও বেড়ে যায়। ফুটবল ঘিরে মাগুরায় উৎসব সৃষ্টি হয়। শুরু থেকেই দর্শকের কমতি ছিল না। কিন্তু দুই সেমিফাইনালে গ্যালারিতে জায়গা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। গতকাল শেখ রাসেল ও নৌবাহিনীর মধ্যে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই বাদ্যযন্ত্র নিয়ে দর্শকরা স্টেডিয়ামে আসতে থাকে।

ফাইনাল এটিএন বাংলায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। কিন্তু তাতে কি তারকা ফুটবলারদের পারফরম্যান্স দেখতে হাজার হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। গ্যালারি ভরে মাঠের বাইরেও হাজার হাজার দর্শকের সমাগম। কোনো খেলাকে কেন্দ্র করে মাগুরায় কখনো এমন অবস্থা হয়নি। বাংলাদেশের ফুটবল যে মরেনি এর প্রমাণ মিলল বঙ্গবন্ধু কাপে।

ফুটবলের জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনতে জেলায় জেলায় টুর্নামেন্ট জরুরি হয়ে পড়ে। সেদিক দিয়ে মাগুরা ঠিক সময়ে এই কাজটি করে। এ জন্য ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখরকে। মূলত তারই উদ্যোগে এই আসর মাঠে নামে। গত বছরও হয়েছিল কিন্তু এবারের মতো সাড়া পড়েনি। আগে শের-ই-বাংলা ও সোহরাওয়ার্দী কাপ হলে জেলায় জেলায় ফুটবলে উৎসব হতো। দুই টুর্নামেন্ট থেকে কত খেলোয়াড় যে বের হয়েছে হিসাব মেলানো মুশকিল। এখন তো খেলোয়াড় সংকটে ভুগছে বাফুফে। পেশাদার লিগে দল গড়তে বিদেশি খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করতে হয়। আগে ছিল তারকার ছড়াছড়ি। এখন জার্সি নম্বর ছাড়া ফুটবলারই চেনা যায় না। হবেই বা না কেন, জেলাগুলোয় সেভাবে ফুটবলের দেখা মিলছে না।

ফুটবলে দুরবস্থায় প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে মাগুরা। অনেক সাবেক তারকা ফুটবলারই বলেছেন, মাগুরা বঙ্গবন্ধু কাপে যেভাবে সাড়া পড়েছে তা যদি ধরে রাখা যায় এই টুর্নামেন্ট জনপ্রিয় আসরে রূপ নেবে। ফাইনাল দেখতে এসে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার বলেছেন, মাগুরায় উপচেপড়া দর্শকের সমাগম হবে তা আমিও ভাবিনি। এতেই প্রমাণ মিলে ফুটবলের জনপ্রিয়তা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। শিখর বলেন, ক্রিকেট অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমরা চাই ফুটবলও জেগে উঠুক। এজন্য তার পক্ষ থেকে যা যা করা সম্ভব তাই করবেন। শিখর বলেন, মাগুরার ছেলে সাকিব এখন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। তিনি বিশ্বাস করেন ফুটবলেও মাগুরা থেকে খ্যাতনামা খেলোয়াড় বের হয়ে আসবে। শিখর এই আশা করছেন কিন্তু মাগুরায় বঙ্গবন্ধু কাপকে ঘিরে এরই মধ্যে তরুণদের নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। সাকিবের কারণে স্বাভাবিকভাবে এই অঞ্চলের ছেলেরা ক্রিকেট নিয়ে মাতোয়ারা থাকে। কিন্তু এখন পাড়ায় পাড়ায় ফুটবল খেলার ধুম পড়ে গেছে। একটা টুর্নামেন্ট এক জেলাকে এভাবে জাগিয়ে তুলবে তা ভাবাই যায় না। শুধু মাগুরা কেন অন্য জেলায় এ ধরনের উদ্যোগ নিলে ফুটবল নিয়ে আর দুশ্চিন্তায় থাকার কথা নয়। শেখ রাসেল বরাবরই শক্তিশালী দল। ফুটবলে নৌবাহিনীর তেমন নাম ডাক নেই। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কাপে তারাও তারকা খেলোয়াড়দের নিয়ে শক্তিশালী দল গড়ে। ফাইনালে যেন তারকার মেলা বসেছিল। শেখ রাসেল যোগ্য দল হিসেবেই ট্রফি জিতেছে। বসুন্ধরা সিমেন্টের পৃষ্ঠপোষকতায় এই টুর্নামেন্টের সফল পরিসমাপ্তি ঘটল। যা অন্যদেরও অনুপ্রেরণা জোগাবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow