Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩৯
স্বস্তির টেস্টে ব্যাটিংয়ে অস্বস্তি
মেজবাহ্-উল-হক
স্বস্তির টেস্টে ব্যাটিংয়ে অস্বস্তি
ধৈর্যের পরীক্ষায় হেরে গেলেন মুশফিক। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে অশ্বিনের বলে তুলে দিলেন সহজ ক্যাচ। টাইগার দলপতিকে আউট করার পর উচ্ছ্বসিত ভারতীয় ফিল্ডাররা —ক্রিকইনফো

ব্যাটিং স্বর্গে ব্যাটসম্যানরা ডাবল সেঞ্চুরি কিংবা সেঞ্চুরি করবেন সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই উইকেট থেকে বাংলাদেশের ২০ উইকেট শিকার করেছেন অশ্বিন-ইশান্তরা।

হায়দরাবাদের যে উইকেটে বোলারদের জন্য কোনো সুবিধাই ছিল না, সেখানে বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বোলিং করে ভারতীয় বোলাররা তুলে নিয়েছেন ২০৮ রানের দারুণ এক জয়।

তবে এমন টেস্টেও হয়তো একটা জায়গায় ভারতীয় বোলাররা অস্বস্তিতে ভুগতে পারেন— দুই ইনিংসে তারা একবারও আউট করতে পারেননি কামরুল ইসলাম রাব্বিকে!

বল হাতে যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্স করলেও ব্যাট হাতে ক্যারিশমা দেখিয়েছেন তিনি। দুই ইনিংসেই অপরাজিত। প্রথম ইনিংসে ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১০ বল ফেস করেছেন। ৯ মিনিট উইকেটে থেকে অপরাজিত। ক্রিকেটে ১০ উইকেট পড়ে গেলেও কোনো না কোনো ব্যাটসম্যানকে অপরাজিত থাকতেই হয়। তাই প্রথম ইনিংসে কামরুলের নট আউট থাকাটা আহামরি কিছু নয়! কিন্তু দ্বিতীয় তা অবশ্যই বিশেষ কিছু।

নয় নম্বরে নেমে প্রায় দেড় ঘণ্টা ব্যাটিং করেছেন। ৭০টি বল ফেস করেছেন। রাব্বি যেন লোয়ার অর্ডারে প্রতিরোধের দেয়াল তুলে দিয়েছিলেন ভারতের সামনে। সঙ্গীর অভাবে শেষ পর্যন্ত লড়াইটা চালিয়ে যেতে পারেননি। রাব্বির টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন একটুখানি দায়িত্বশীল হলে ম্যাচের ফলটা অন্য রকম হতে পারত!

গতকাল রানের বিষয়টা মুখ্য ছিল না। দরকার ছিল কেবল মাটি কামড়ে উইকেটে পড়ে থাকা। ভারত নিজেদের সেভ-জোনে রেখেই ইনিংস ঘোষণা করেছিল। এখানে জয়ের চিন্তা করলে ঘটাতে হতো অলৌকিক ঘটনা! তবে ড্র করা খুব কঠিন ছিল না। কেননা টেস্টের পঞ্চম দিনে উইকেটের অবস্থা যেমন খারাপ হওয়ার কথা ছিল হায়দরাবাদের উইকেট ততটা খারাপ ছিল না। পঞ্চম দিনেও ব্যাটসম্যানদের জন্য দারুণ সহায়ক ছিল।

উইকেটে টার্ন ছিল না তেমন। আন-ইভেন্ট বাউন্সও দেখা যায়নি। বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের আউট করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন ভারতীয় বোলাররা। এমন উইকেটে ব্যাটসম্যানরা চাইলে নাচাতে পারতেন বোলারদের। রক্ষণাত্মক খেললেও দিনটা পার করা যে অসম্ভব ছিল না, তার প্রমাণ রাব্বির ব্যাটিং। ৭০ বলে করেছেন মাত্র ৩ রান। কিন্তু দারুণভাবে ভারতের বোলারদের রুখে দিচ্ছিলেন। অথচ বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা যেন ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছিলেন। তা না হলে যেখানে পেসার হয়েও রাব্বি ৭০ বল ফেস করলেন সেখানে অন্য ব্যাটসম্যানরা পারলেন না কেন? মজার বিষয় হচ্ছে, দ্বিতীয় ইনিংসে রাব্বির চেয়ে বেশি বল ফেস করেছেন কেবল মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

ব্যাটিং স্বর্গেও ব্যর্থ বাংলাদেশের টপ অর্ডারের টপ-৩ ব্যাটসম্যান—তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার ও মুমিনুল হক। এই ম্যাচে তাদের তিন ব্যাটসম্যানের ছয় ইনিংস মিলে কোনো হাফ সেঞ্চুরি নেই। শুধু তাই নয়, তারা উইকেটে বেশিক্ষণ টিকতেও পারেননি। টপ অর্ডারের ব্যাটিং ব্যর্থতার মাশুলই কাল হায়দরাবাদে দিতে হলো বাংলাদেশকে।   তবে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। মুশফিক সেঞ্চুরি করেছেন। সাকিব ও মিরাজ হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ। ব্যাটিং স্বর্গেও কিনা দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ইনিংসে কেবল একটি হাফ সেঞ্চুরি। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যানই দীর্ঘ সময় উইকেটে থিতু হতে পারেননি। গতকাল মাহমুদুল্লাহ যতক্ষণ উইকেটে ছিলেন ততক্ষণ ভীষণ অস্বস্তিবোধ করছিলেন ভারতীয়রা। কোহলির কপালে হতাশার চিহ্ন ফুটে উঠেছিল। গতকাল দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে মাহমুদুল্লাহ আউট হওয়ার পরই যেন ভারতীয়দের বুকের ওপর থেকে একটা মস্ত পাথর নেমে যায়। বাংলাদেশের কপালে পরাজয়ও লেখা হয়ে যায় তখনই।

তবে এই টেস্টের পোর্টেম করতে গেলে সবার আগে বোলারদের ব্যর্থতাই চোখে পড়বে। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি বোলাররা। অথচ ভারতীয় বোলাররাই কিনা দারুণভাবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের বোকা বানিয়ে উইকেট তুলে নিলেন।

বাংলাদেশের বোলিং লাইনআপ ছিল নখ-দন্তহীন। একেবারেই অনভিজ্ঞ বোলিং নিয়ে এক নম্বর দলের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিলেন টাইগাররা। প্রধান স্টাইক বোলার তাসকিনের অভিজ্ঞতায় দুই টেস্ট, আরেক পেসারের অভিজ্ঞতার ঝুলিতে ছিল চার টেস্ট। দুই স্পিনারের অভিজ্ঞতাও বেশি নয়। এই টেস্টের আগে মিরাজের চার এবং তাইজুলের ১১ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা ছিল। আর এমন অভিজ্ঞ বোলারদের নিয়ে খেলার ফলটা এবার হাতে নাতেই পেল বাংলাদেশ। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার ১৭ বছর পরেও এমন অনভিজ্ঞ বোলিং লাইনআপ দেখে সাবেক ক্রিকেটাররাও বিস্মিত।

যদিও এমন হারে কোনো গ্লানি নেই। বরং প্রাপ্তি অনেক। র‌্যাঙ্কিং এক নম্বরে দলের সঙ্গে পাঁচ দিন পর্যন্ত লড়াই করা চাট্টিখানি কথা নয়। তাই তো বাংলাদেশের প্রশংসা করতে গিয়ে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ভারতের সাবেক অধিনায়ক রবি শাস্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ যে ক্রিকেটে অনেক উন্নতি করেছে এটা তারই একটি নিদর্শন। শেষ পর্যন্ত তরুণরা কী দারুণ ব্যাটিং করে। সত্যি এটা প্রশংসনীয়। ’ ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি বলেন, ‘বাংলাদেশ দারুণ লড়াই করেছে। তবে অসাধারণ বোলিং করেছেন আমাদের বোলাররা। ’

আগের দুই সিরিজেই ভারতের মাটিতে কোহলিদের কাছে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের মতো দল ৩-৪ দিনে টেস্টে হেরেছে। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর এবারই প্রথম ভারতের মাটিতে স্বপ্নের টেস্ট খেলল টাইগাররা। খেলতে গিয়ে পাঁচ দিনের লড়াই করাটা বাংলাদেশের জন্য স্বস্তিদায়কই বটে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow