Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:০৬
তীরে আর কত ডুববে তরী
টেস্ট ক্রিকেট হচ্ছে ধৈর্যের পরীক্ষা। কিন্তু বাংলাদেশ প্রথম দুই-তিন দিন ভালো খেলার পর চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে গিয়ে যেন খেই হারিয়ে ফেলে
মেজবাহ্-উল-হক
তীরে আর কত ডুববে তরী

শেষ তিন টেস্ট সিরিজেই ‘আফসোস’-এ ভুগেছেন ক্রিকেটাররা—ক্রিকেটপাগল দর্শকরা। ইস্, আর একটু হলেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে যেত! শেষ মুহূর্তে এই ‘একটুখানি ভালো’ আর হচ্ছে না, আফসোসও যাচ্ছে না!

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম টেস্টে জয়ের দ্বারপ্রান্তে গিয়েও হেরে যায় বাংলাদেশ।

ওয়েলিংটন টেস্টে ড্র করার সহজ সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়। আর সদ্য সমাপ্ত হায়দরাবাদ সিরিজে সেই একই ঘটনা আবার ঘটল। আবারও আফসোস! কিন্তু এভাবে তীরে আর কত তরী ডুববে?

টেস্টে বাংলাদেশ ভালো দল নয়! তারপরেও লড়াই করছে। এটা অবশ্যই ইতিবাচক দিক। কিন্তু বার বার একটুখানি ভুলের জন্য যে কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছে না— সেটাও তো কাম্য নয়।

গত অক্টোবরে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাত্র ২২ রানে হেরে যায় টাইগাররা। অথচ ওই ম্যাচের ফল আসার কথা ছিল বাংলাদেশের পক্ষেই। তিন স্পিনার সাকিব, তাইজুল, মিরাজের ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে গিয়েছিল ইংলিশরা। ব্যাটিংয়ে আর একটুখানি ধৈর্যের পরিচয় দিলেই ম্যাচ জিতে যেতেন মুশফিকরা। কিন্তু পারেননি। পঞ্চম দিনে হেরে গিয়ে আফসোসে ভুগেছে বাংলাদেশ।

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়েলিংটন টেস্টের প্রথম ইনিংসে ইতিহাস সৃষ্টি করে ফেলেন মুশফিকরা। সাকিবের ডাবল সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ৫৯৫ রান করে ইনিংস ঘোষণা বাংলাদেশের। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর গত ১৭ বছরে এমন সুখকর ঘটনা খুব কমই ঘটেছিল। কিন্তু সেই টেস্টেও হারতে হয়েছে। দ্বিতীয় ইনিংসে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন-আপ। মাত্র ১৬০ রানে অলআউট। ওই টেস্টে টানা চার দিন আধিপত্য বিস্তার করে খেলেও হারতে হয়। সব শেষ একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল হায়দরাবাদে। ভারত টেস্টের এক নম্বর। ফর্মের তুঙ্গে রয়েছে। খেলা তাদের পছন্দের উইকেটে। তাই ম্যাচের আগের ভারতের সাবেক ক্রিকেটাররা তো রীতিমতো গবেষণা শুরু করে দিয়েছিলেন—বাংলাদেশ তিনদিন টিকতে পারবে তো! কিন্তু ম্যাচে দেখা গেল উল্টো ঘটনা। এ কথা সত্যি যে ভারত দাপটের সঙ্গে খেলেই জিতে গেছে, কিন্তু বাংলাদেশ তাদেরকে যে কাঁপিয়ে দিয়েছিল একথা অমূলক নয়।

শেষ ইনিংসে ব্যাটসম্যানরা আর একটুখানি ভালো করলেই ম্যাচটি ড্র করা সম্ভব ছিল। শেষ দিনে আর মাত্র ২৫ ওভার টিকতে পারলেই ভারতকে রুখে দেওয়া সম্ভব ছিল। শেষ পর্যন্ত একমাত্র টেস্টের সিরিজটি আফসোস দিয়ে শেষ হয়ে যায়।

তবে এই টেস্টে হারলেও বাংলাদেশের লড়াই করার বিষয়টি সবার নজর কেড়েছে। টাইগাররা এখন আর আগের মতো খর্ব শক্তির দল নয় তা খুব ভালো করেই বুঝে গেছে ভারত। যত বড় দলই হোক এখন বলে-কয়ে হারানোর দিন শেষ। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার অশোক মালহোত্রা তার কলামে লিখেছেন, ‘হায়দরাবাদ টেস্টে বাংলাদেশ দেড়শো ওভার ব্যাটিং করে দেখাল। মুশফিক সেঞ্চুরি করলেন, মাহমুদুল্লাহ লড়াই করলেন। বিশ্বের এক নম্বর দলের ঘরের মাঠে খেলতে নেমে তাদের নিজেদের পিচে টেস্টকে পাঁচ দিন টেনে নিয়ে যাওয়া কিন্তু কম কথা নয়। তাই বাংলাদেশকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। আরও টেস্ট খেলার সুযোগ পেলে অনেক ভালো করবে এই দলটা। ’

বাংলাদেশ ওয়ানডেতে এখন যেকোনো দলকে হারানোর সক্ষমতা রাখে। সেটা টানা তিন সিরিজে পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েই দেখিয়ে দিয়েছে। তবে টেস্টে উন্নতিটা হচ্ছে ধীরে ধীরে। টেস্ট ক্রিকেট হচ্ছে ধৈর্যের পরীক্ষা। পাঁচ দিনের ১৫ সেশনেই মনোসংযোগ রাখতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশ প্রথম দুই-তিন দিন ভালো খেলার পর চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে গিয়ে যেন খেই হারিয়ে ফেলে। বাজে শট খেলে আউট হয়ে যান ব্যাটসম্যানরা।

এমন ভুল করেন দলের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানরাই। যেমন চট্টগ্রাম টেস্ট ও ওয়েলিংটনে শেষ ভালো না হওয়ার পেছনে ছিল দ্বিতীয় ইনিংসে সাকিব আল হাসানের বাজে শট। অথচ ওই দুই টেস্টেই প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফিরিয়ে ছিলেন এই সাকিবই। হায়দরাবাদ টেস্টে একই ভুল করেন মুশফিকুর রহিম। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করায় দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ছিলেন দলের আশা-ভরসার প্রতীক। কিন্তু অযথাই ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ হয়ে যান মুশফিক। অথচ ওই সময় বাংলাদেশের রানের চেয়েও বেশি জরুরি ছিল মাটি কামড়ে উইকেটে পড়ে থাকা। কিন্তু মুশফিক পারেননি। ধৈর্য হারিয়ে আউট হয়ে যান। বাংলাদেশের ড্র-র সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়। যদিও মুশফিক পরে জানিয়েছেন, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি পরে ভালো করবেন।

শুধু মুশফিক কিংবা সাকিবকে নয়, এমন ভুল থেকে অন্যদের শিক্ষাও জরুরি। তা না হলে কেউ না কেউ ভুল করতেই থাকবেন— বার বার তীরে এসে তরী ডুবতে থাকবে!

up-arrow