Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:১২

বার্সার বিদায় ঘণ্টা

পিএসজি ৪ : বার্সেলোনা ০

রাশেদুর রহমান

বার্সার বিদায় ঘণ্টা
বার্সাকে হারিয়ে বুনো উল্লাসে মেতে উঠেছেন পিএসজি ফুটবলাররা —এএফপি

অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া দীর্ঘদিন ধরেই নিজেকে প্রস্তুত করছিলেন বার্সেলোনার মুখোমুখি হওয়ার জন্য। বারবার কাতালানদের কাছে হেরেই উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় নিয়েছে পিএসজি। তবে এবার আর কোনো ভুল করার ইচ্ছা ছিল না দলটার। প্যারিসের প্রিন্সেস পার্কে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নদের এক রকম উড়িয়েই দিল পিএসজি। ৪-০ গোলে প্রথম লেগ হেরে যাওয়ায় বার্সেলোনা শেষ ষোলো থেকেই বিদায়ের ঘণ্টাধ্বনি শুনতে পাচ্ছে। গত এক দশকেও যার নজির নেই! সর্বশেষ ২০০৬-০৭ মৌসুমে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়েছিল বার্সেলোনা। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালের আগে বাদ পড়েনি কাতালানরা। এবার কি তবে এক দশক আগের ঘটনাটিরই পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে!

লিওনেল মেসি-লুইস সুয়ারেজদের বলতে গেলে খুঁজেই পাওয়া গেল না। ম্যাচজুড়ে শুধুই অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া-এডিসন কাভানিরা। এই দুই ‘বার্থডে বয়’ এর সঙ্গে ছন্দে থাকা ড্র্যাক্সলার খেললেন দুরন্ত ফুটবল। আর তাতে মধুর প্রতিশোধ নিল পিএসজি, প্রলেপ পড়ল ক্ষতে। প্যারিসে গত মঙ্গলবার রাতে বার্সেলোনাকে রীতিমতো উড়িয়েই দিল পিএসজি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের ৪-০ গোলে হারিয়েছে ফরাসিরা! অদম্য হয়ে ওঠা ডি মারিয়াদের সামনে বার্সেলোনার বিশ্বসেরা আক্রমণভাগ কোনো পার্থক্যই গড়তে পারেনি! উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দীর্ঘদিন পর এত বড় ব্যবধানে পরাজিত হলো বার্সেলোনা। ২০১২-১৩ মৌসুমে এই অভিজ্ঞতা হয়েছিল বার্সেলোনার। সেবার সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখ নিজেদের মাঠ অ্যালাইঞ্জ আরেনায় ৪-০ গোলে হারিয়েছিল দলটিকে। এরপর আর এত বড় ব্যবধানে হারেনি বার্সেলোনা।

গত মঙ্গলবার নিজেদের মাঠে ম্যাচ জয় করার পণ করেই যেন খেলতে নেমেছিলেন অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ারা। এমএসএন নিয়ে গঠিত বিশ্বসেরা আক্রমণভাগ বার্সেলোনাকে উদ্ধার করতে পারল না। পিএসজির দারুণ জয়ে জোড়া গোল করেন আর্জেন্টিনার তারকা মিডফিল্ডার ডি মারিয়া। একটি করে গোল করেন কাভানি ও ড্র্যাক্সলার। খেলার ১৮ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে দারুণ গোলে দলকে এগিয়ে দেন ডি মারিয়া। ৪০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ড্র্যাক্সলার। ৫৫ মিনিটে আরও একটি গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করে দেন ডি মারিয়া। ৭১ মিনিটে কাভানির গোল ছিল বার্সেলোনার কফিনে শেষ পেরেক!

দুঃস্বপ্নের এ পরাজয়ের পর বার্সেলোনার কোচ লুইস এনরিকে সব দায়ভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। এমনকি বার্সা তারকারাও কোচের ভুলকেই দায়ী করছেন এমন পরাজয়ের জন্য। বাসকুয়েটস তো বলেই দিয়েছেন সরাসরি। বার্সেলোনার এ পরাজয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে পারে পিএসজি। গত চার বছরে দুবার কাতালান ক্লাবটির কাছে হেরেই ইউরোপ সেরার মঞ্চ থেকে ছিটকে পড়া পিএসজি দুরন্ত এক প্রতিশোধই নিল এবার। বার্সেলোনার জন্য দ্বিতীয় লেগে জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভবই হয়ে গেল। শেষ আটে খেলতে হলে অন্তত ৫-০ গোলে জিততে হবে কাতালানদের!

এদিকে গত মঙ্গলবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের মাঠে মিট্রোগলোর একমাত্র গোলে বুরুসিয়া ডর্টমুন্ডকে হারিয়েছে পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকা। দ্বিতীয় লেগে ড্র করলেই শেষ আট নিশ্চিত হবে পর্তুগিজদের।


আপনার মন্তব্য