Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩৬
ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন মিডিয়া গ্রুপ
বসুন্ধরা স্পোর্টস কার্নিভাল
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন মিডিয়া গ্রুপ
চ্যাম্পিয়নের পর ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের উল্লসিত খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা —রোহেত রাজীব

ফুটবল ঘিরে এখন উৎসাহ-উদ্দীপনা তেমনভাবে চোখেই পড়ে না। কিন্তু গতকাল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা গেলে।

দেশের শীর্ষ শিল্প প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা স্পোর্টস কার্নিভালে ফুটসাল শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ ছিল। দর্শকের ঢল নেমেছিল। অবাক হলেও সত্যি যে এত দর্শক এখন পেশাদার লিগেও দেখা যায় না। ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ ও বসুন্ধরা সিমেন্ট ফাইনালে মুখোমুখি হয়। খেলা শুরুর আগেই শেখ রাসেল মাঠ ভরে যায়। বিশেষ করে মিডিয়া দলের উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। ঘোড়ার গাড়ি ও ব্যান্ড বাজিয়ে মাঠে যায় এই দল। ব্যানার আর ফেস্টুন দিয়ে পুরো মাঠ সাজানো হয়। মাইকে বাজছিল ২০১০ সালের বিশ্বকাপের শাকিরার ওয়াকা ওয়াকা আর ২০১৬ সালে টি-২০ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই বিখ্যাত গান চ্যাম্পিয়ন-চ্যাম্পিয়ন। এবারেই প্রথম বসুন্ধরা ক্রীড়া উৎসবে সেভেন এ সাইড ফুটসালের আয়োজন করা হয়। আর শুরুতেই মাকসুদুর রহমানের অধিনায়কত্বে শিরোপা জিতে বাজিমাত করে ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ। নির্ধারিত ৪০ ও অতিরিক্ত ২০ মিনিটে গোল না হওয়ায় ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়। আর এতেই ৫-৪ গোলে জিতে ট্রফি ঘরে তুলে মিডিয়া গ্রুপ। অবশ্য প্রথমার্ধে এক তরফা খেলে মিডিয়া গ্রুপ। বারবার আক্রমণ চালিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে ফেললেও ফিনিশিং ঠিক মতো না হওয়ায় গোলের দেখা পায়নি। অপু ও ফিরোজ বেশ কটি সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য বসুন্ধরা সিমেন্টও ঘুরে দাঁড়ায়। তারা আক্রমণ করে মিডিয়ার রক্ষণভাগ কাঁপিয়ে দেয়। খন্দকার মাহবুব দৃঢ়তার সঙ্গে বেশকিছু শট রুখে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে শেষের দিকে মিডিয়া জ্বলে ওঠে। বিশেষ করে ফিরোজ অপু ও আমিনুলের গতিময় খেলা চোখে পড়ে। কিন্তু গোলশূন্যভাবেই ম্যাচ শেষ হয়। অতিরিক্ত ২০ মিনিটে উভয় দলই সুযোগ পেলেও জালে বল পাঠাতে পারেনি। শেষের দিকে মাকসুদুর রহমান খেলতে নামলে বসুন্ধরা সিমেন্টের খেলার গতি বেড়ে যায়। কিন্তু গোল আর হয়নি। ফুটসালের টাইব্রেকারে পোস্টে গোলরক্ষক থাকে না। তবুও জালে বল জড়ানোটা বেশ কষ্টের। ৫-৫ শটে কে যে জিতবে বলা মুশকিল। মাঠে তখন প্রচণ্ড উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে দুই দল একে একে গোল করে যাচ্ছে। কিন্তু বসুন্ধরা সিমেন্টের পাঁচ নম্বর শট বাইরে চলে যায়। অন্যদিকে পাঁচ শটই জালে পাঠিয়ে বিজয়ের উৎসবে মেতে ওঠেন মিডিয়ার খেলোয়াড় ও সমর্থকরা। টাইব্রেকারে মিডিয়ার পক্ষে গোল করেন মাহবুব, আমিনুল, ফিরোজ, মান্নান ও অপু। টুর্নামেন্টে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন মিডিয়া গ্রুপের অপু। ম্যান অব দ্য ফাইনাল একই দলের ফিরোজ। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন ইস্ট ওয়েস্ট ডেভেলপমেন্ট প্রোপার্টিজ প্রাইভেট লিমিটেডের ইমরুল হাসান। উপভোগ্য ফাইনাল খেলা উপভোগ করেন বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক এবং নিউজ টোয়েন্টি ফোর ও রেডিও ক্যাপিটালের সিইও নঈম নিজাম, ডেইলি সানের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আমির হোসেন, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের প্রকাশক ময়নাল হোসেন, কালের কণ্ঠ নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ প্রতিদিনের বাণিজ্য উপদেষ্টা খন্দকার কামরুল হক শামীম, নিউজ টোয়েন্টি ফোরের সিএনই শাহনাজ মুন্নী  ও বসুন্ধরা ক্রীড়া উৎসবের আহ্বায়ক ইমরুল হাসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

up-arrow