Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:০৯
টাইগারদের ট্রাম্পকার্ড মুস্তাফিজ
মেজবাহ্-উল-হক
টাইগারদের ট্রাম্পকার্ড মুস্তাফিজ

উপমহাদেশের উইকেট হচ্ছে স্পিনারদের স্বর্গ! শ্রীলঙ্কার মাটিতেও স্পিনাররা ম্যাচের ত্রাতা হয়ে যান। নিজেদের মাটিতে সব শেষ যে সিরিজে শ্রীলঙ্কা অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করেছে— তিন ম্যাচের ওই সিরিজে ২৮ উইকেট নিয়ে সেরা ক্রিকেটার হয়েছিলেন বাম হাতি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথ।

তারপরেও বাংলাদেশ দলে কেন স্পিনারের চেয়ে পেসারের সংখ্যা বেশি?

উত্তরটা অবশ্য প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু দল ঘোষণার সময়ই দিয়েছেন। বেশি সময় বোলিং করার মতো ফিটনেস বাংলাদেশের পেসারদের নেই। পেসারদের ইনজুরির কথা মাথায় রেখেই দলে রাখা হয়েছে পাঁচ পেসারকে। তা ছাড়া আরেকটি বিষয় হচ্ছে, প্রথম টেস্টের ভেন্যু গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সব শেষ ম্যাচে (শ্রীলঙ্কা-অস্ট্রেলিয়া) পেসাররাই আধিপত্য দেখিয়েছেন। অসি পেসার মিচেল স্টার্ক একাই নিয়েছিলেন ১১ উইকেট।

গলের উইকেটে থাকে সবুজ ঘাস। তাই পেসাররা বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকেন। সে কারণেই গল টেস্টের কথা চিন্তা করে বাড়তি পেসার দলে রেখেছে বাংলাদেশ। তবে পাঁচ পেসার থাকলেও এই সিরিজে বাংলাদেশের ট্রাম্পকার্ড কিন্তু কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ।

ইংল্যান্ডে অস্ত্রোপচারের পর সাতক্ষীরার সুপারম্যানকে ছয় মাস থাকতে হয়েছিল মাঠের বাইরে। নিউজিল্যান্ড সফরে দলে ফিরলেও ফিটনেসের সমস্যার কারণে টেস্ট সিরিজে খেলতে পারেননি। তবে ঘরোয়া লিগে খেলে ফিটনেসের প্রমাণ দিয়েই দলে জায়গা করে নিয়েছেন মুস্তাফিজ। এখন তাকে ঘিরে শ্রীলঙ্কা সফরে স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।

মুশফিকরা শ্রীলঙ্কায় দুটি টেস্ট খেলবে। গলের পর কলম্বোতে শততম টেস্ট। তবে দুই ভেন্যুর চরিত্র দুই রকম। গলেতে পেসারদের জন্য বেশি সুবিধা থাকলেও কলম্বোতে বরাবরই রাজত্ব করেন স্পিনাররা। সেখানকার উইকেটে থাকে বাড়তি টার্ন। দলে আক্রমণাত্মক স্পিনার থাকা জরুরি।

বাংলাদেশের স্পিনে এখন আর খুব বেশি বৈচিত্র্য নেই। মেহেদী হাসান মিরাজ এক নাগাড়ে বোলিং করতে পারেন কিন্তু তার বোলিং কতটা কার্যকরী হবে তা বলা কঠিন। সাকিবও যে ব্যাটসম্যানকে খুব বেশি বিপাকে ফেলতে পারেন— হায়দরাবাদ টেস্টে এমনটা চোখে পড়েনি। তবে তাইজুল দারুণ বোলিং করছেন। দীর্ঘ সময় লাইনলেন্থ বজায় রেখে বোলিং করার ক্ষেত্রে তার জুড়ি নেই। তাই লঙ্কানরা যদি স্পিন উইকেট বানায় সেক্ষেত্রে তাইজুলই বড় ভরসা। তা ছাড়া দারুণ টার্ন করাতে পারেন তিনি। এমন টার্নিং উইকেটে আবার মুস্তাফিজও স্লোয়ার দিয়ে নাজেহাল করতে পারেন ব্যাটসম্যানকে।

তবে এটা ঠিক যে এই সফরে বাংলাদেশের সম্ভাবনার ক্ষেত্র ব্যাটিং। যদিও বাজে ব্যাটিংয়ের কারণেই হায়দরাবাদে হারতে হয়েছে। তারপরেও এই দলের ব্যাটিং গভীরতা অসাধারণ। তবে বাংলাদেশ তাকিয়ে থাকবে ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ মুশফিকের দিকে। শেষ দুই টেস্টে বিদেশের মাটিতে সেঞ্চুরি করেছেন টাইগার-ক্যাপ্টেন। এবার তার সামনে হ্যাটট্রিক সেঞ্চুরির হাতছানি। তা ছাড়া গলেতে সব শেষ ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরির মধুর স্মৃতি তো মুশফিকের হৃদয়ে এখনো তরতাজা! কিন্তু ম্যাচ জয়ের কথা ভাবলে আসল কাজটা করতে হবে বোলারদের। প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য না থাকলে টেস্ট ম্যাচে জয়ের আশা না করাই ভালো। হায়দরাবাদ টেস্টে দেখা গেছে— বাংলাদেশের বোলিং লাইনআপ যাচ্ছেতাই। যেখানে ভারত দুই ইনিংসেই বাংলাদেশকে অলআউট করেছে সেখানে এক ইনিংসেও প্রতিপক্ষকে অলআউট করতে পারেননি টাইগার বোলাররা।

শ্রীলঙ্কা ট্যুরের চিত্রটা ভিন্ন হতে পারে। মুস্তাফিজের সঙ্গে দলে ফিরেছেন রুবেল হোসেন। ইয়র্কারের সঙ্গে বাটারফ্লাই নিয়ে শ্রীলঙ্কায় যাচ্ছেন রুবেল। নিউজিল্যান্ড সফরে ফিটনেসের অভাবে তাকে টেস্ট দলে রাখা হয়নি। কিন্তু ঘরোয়া লিগে পারফর্ম করে ফিটনেসের পরীক্ষায় সফল হয়ে নির্বাচকদের নজরে আসেন রুবেল। শ্রীলঙ্কায় নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন।

লঙ্কানদের তাদের ঘরের মাঠে হারাতে হলে ক্যারিশমা দেখাতে হবে মুস্তাফিজকেই। কাটার মাস্টার যদি ফিট থেকে নিজের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে পারেন তাহলে লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের বোকা বানানো তার পক্ষে কঠিন কাজ নয়। জাদুকরী স্লোয়ারের সঙ্গে গতি কাটার ও ইয়র্কার ঠিক মতো হয়, তবে টেস্টে ভালো ফল আশা করাও বিলাসী ভাবনা নয়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow