Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:১০
জিতেও আবাহনীর বিদায়
মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম
জিতেও আবাহনীর বিদায়
আবাহনীর ওয়ালি ফয়সালের কর্নার শর্ট সরাসরি জালে জড়িয়ে যায় —দিদারুল আলম

টিসি স্পোর্টস ক্লাব ও পোচন সিটিজেনের মধ্যে ম্যাচ হলেও এ ম্যাচে পোচনের আরেক অদৃশ্য প্রতিপক্ষ ছিল ঢাকা আবাহনী। কারণ ম্যাচে পোচন হারলে পরবর্তী ম্যাচে এফসি আলগার বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জিতলে সেমি ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল নীল আকাশীদের।

তাই এ ম্যাচে পোচনের হারের জন্য প্রার্থনা করছিল আবাহনীর সমর্থকরা। কিন্তু টিসি-পোচনের ম্যাচ ১-১ গোলে সমতা হওয়ায় ভেস্তে যায় আবাহনীর সেমির সেই সম্ভাবনা। এ ম্যাচ ড্র হওয়ায় ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সেমি ফাইনালে ওঠে টিসি স্পোর্টস। এ গ্রুপের দ্বিতীয় শীর্ষ দল হিসেবে সেমিতে ওঠে দক্ষিণ কোরিয়ার পোচন সিটিজেন। তাই ‘এ’ গ্রুপের আবাহনী আলগার ম্যাচটি গুরুত্বহীন হয়ে ওঠে। তবে টুর্নামেন্টে প্রথম জয় পেয়েছে ঢাকা আবাহনী। গতকাল সন্ধ্যায় কিরগিজস্তানের আলগা স্পোটর্স ক্লাবকে ২-১ গোলে পরাজিত করে। এ জয়ের পরও তাদের গ্রুপ পর্ব খেলেই বিদায় নিতে হলো।

ম্যাচের শুরু থেকেই শৈল্পিক ফুটবল খেলতে থাকে দক্ষিণ কোরিয়ার পোচন সিটিজেন ফুটবল ক্লাব।

দুই প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ করে অস্থির করে তুলে মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টসের রক্ষণ শিবির। ৮ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত পোচন। কিন্তু মালদ্বীপ গোলরক্ষক কিরণ কুমারের দৃঢতায় রক্ষা পায় টিসি। মাঝ মাঠ থেকে কিম চানের থ্রু পাসে বল পেয়ে যান চাঙ হোয়ান। ডি বক্সে বল পেয়েও আগুয়ান গোলরক্ষকের হাতে তুলে দিয়ে নিশ্চিত গোল থেকে দলকে বঞ্চিত করেন পোচন স্ট্রাইকার চাঙ হোয়ান। ২৭ মিনিটে পোচনের আরেকটা পরিকল্পিত আক্রমণ। এবারও পোচনকে বঞ্চিত করেন টিসির গোলরক্ষক কিরণ কুমার। বামপ্রান্ত থেকে কিম চানের মাইনাস থেকে বল পেয়ে জাঙ ইউং। ছোট বক্স থেকে তার নেওয়া শটটি অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন কিরণ কুমার। পরের মিনিটে আবার পোচনের সুযোগ। পার্ক সেওং শটটি গোল কিপার ঠেকিয়ে দিয়ে ফের বঞ্চিত করে পোচনকে। বিরতির আগে অতিরিক্ত সময়ে সে াতের বিপরীতে গোল করে টিসিকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন স্টুয়ার্ড। মাঝ মাঠ থেকে সহ খোলোয়াড়ের বাড়ানো বল পেয়ে একক প্রচেষ্টায় দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণ দূর্গে ঢুকে পড়েন স্টুয়ার্ড। গোল রক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দিলে টিসিকে উল্লাসের উপলক্ষ এনে দেন স্টুয়ার্ড। গোল দিয়েই উজ্জীবিত ফুটবল খেলতে থাকে টিসি। ৬২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ আসে টিসি’র। ডানপ্রান্ত থেকে সহ খেলোয়াড়ের ক্রসে ডি বক্সে বল পেয়ে যান কাসিম। কিন্তু বলে পা লাগাতে না পারায় গোল বঞ্চিত হয় টিসি। ৬৮ মিনিটে পোচনের একটি পরিকল্পিত আক্রমণ। বামপ্রান্ত থেকে জি ম্যানের ক্রস থেকে ডি-বক্সে বল পেয়ে জোরালো শট নেন জিং ইউং। তার নেওয়া শট ঠেকিয়ে পোচনকে গোল বঞ্চিত করেন টিসির গোলবারের প্রহরী কিরণ কুমার। ৭০ মিনিটে ফের টিসির গোল ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ। এবার পোচন গোল রক্ষককে একা পেয়েও ইব্রাহিম মাহমুদের দুর্বল ফিনিশিংয়ের কারণে গোলবঞ্চিত হয় টিসি। ৭৬ মিনিটে ম্যাচে ১-১ সমতায় ফেরে পোচন। বামপ্রান্ত থেকে একটি বল নিয়ে টিসি রক্ষণ দুর্গে ঢুকে পড়েন জং ইউং। এ সময় ডি-বক্সে টিসির আজম তাকে অবৈধভাবে বাঁধা দেওয়ায় পেনাল্টির নির্দেশ দেন ভারতের রেফারি সন্তোষ কুমার। জি ম্যানের নেওয়া পেনাল্টি শটটি সাইড বারে লেগে ফিরে আসে পার্ক জংয়ের পায়ে। এবার তিনি গোল করতে ভুল করেননি। ৮৮ মিনিটে ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার শেষ সুযোগ তৈরি হয় পোচনের। জং ইউংয়ের ক্রস থেকে ডি-বক্সে পেয়ে যান জি ম্যান। তার নেওয়া শটটি ক্রসবারের উপর দিয়ে বাইরে চলে যায়।

up-arrow