Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪৮
সেমিতে চট্টগ্রাম আবাহনী
মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম
সেমিতে চট্টগ্রাম আবাহনী
শেখ কামাল ইন্টারন্যাশনাল ক্লাব কাপে নেপালের মানাং মার্সিয়াংদির রক্ষণব্যূহ ভেঙে এগিয়ে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম আবাহনীর ইব্রাহিম —দিদারুল আলম

সেমি ফাইনাল নিশ্চিত করতে শেখ কামাল ক্লাব কাপের প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম আবাহনীর প্রয়োজন ছিল ড্র। প্রতিপক্ষ নেপালের মানাং মার্সিয়াংদির প্রয়োজন ছিল জয়।

সফরকারী দল মানাং শুরুতেই দুই গোলে এগিয়ে থেকে ভালোই শুরু করে। কিন্তু আবাহনীর শৈল্পিক ফুটবলের কাছে সেই লিড শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ড্র করে ‘বি’ গ্রুপ থেকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম আবাহনী সেমি ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে কে উঠছে তা নির্ভর করছে পর্বের শেষ ম্যাচের ওপর। এ গ্রুপের শেষ ম্যাচে ঢাকা মোহামেডান-শাহীন আসমায়ির ম্যাচের পরই নিশ্চিত হচ্ছে এ গ্রুপের অপর দলটি কারা।

ম্যাচ শুরু হওয়ার ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে এগিয়ে গিয়ে নীল আকাশিদের চমকে দেয় নেপালের মানাং মার্সিয়াংদি। ডানপ্রান্ত থেকে বল নিয়ে আবাহনীর রক্ষণ দুর্গে ঢুকে পড়েন অধিনায়ক অনিল গুরু। তার বাড়ানো বল অনাসায়ে হেড করে মানাংকে ১-০ এগিয়ে দেন আফাজ ওলাওয়ালা। ১২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ আসে মানাংয়ের।

তবে এবার ভাগ্যের সহায়তায় রক্ষা পায় আবাহনী। ডানপ্রান্ত থেকে সতীর্থ খেলোয়াড়ের কাছ থেকে বল পেয়ে হাফ ভলি করেন আফাজ। কিন্তু তার নেওয়া জোরালো শটটি ক্রসবার ঘেঁষে চলে যায় বাইরে। পরের মিনিটে পাল্টা আক্রমণে সমতায় ফেরার সুযোগ পায় আবাহনী। কিন্তু ছোট বক্সে বল পেয়েও তাতে পা লাগাতে না পারায় গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন বিদেশি খেলোয়াড় কিংসলে। ২১ মিনিটে আফাজ অসাধারণ একটি গোল করে নিজের ও দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোল করেন। বিশাল রায়ের বাড়ানো বল প্লেসিং শট করে জালে জড়িয়ে দিয়ে গোল উল্লাস মেতে উঠে মানাং মার্সিয়াংদি। ৩০ মিনিটে পরিকল্পিত আক্রমণে যায় আবাহনী। গোলের দারুণ সুযোগ সৃষ্টি হয়। কিন্তু সেই আক্রমণ নস্যাৎ করে দেন মানাং গোলরক্ষক দিনেশ। ডি বক্স থেকে ওয়ালসনের জোরালো শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি মানাংয়ের। মামুনের কর্নার কিক থেকে বল পেয়ে যান জামাল ভুইয়া। তার বাড়ানো বল হেড করে ব্যবধান ২-১ করেন নাছির। অতিরিক্ত সময়ে ফের আফাজ-অনিল রসায়ন। ডানপ্রান্ত থেকে অনিলের ক্রস থেকে বল পেয়ে যান আফাজ। কিন্তু তার নেওয়া শটটি সাইড বার ঘেঁষে চলে যায় বাইরে। বিরতি থেকে ফিরে আরও পরিকল্পিত ফুটবল খেলতে থাকে চট্টগ্রাম আবাহনী। একের পর এক আক্রমণ করে অস্থির করে তুলে মানাং রক্ষণ শিবির। ৬১ মিনিটে পরিকল্পিত আক্রমণের সুফল পেয়ে সমতায় ফেরে আবাহনী। ওয়ালসনের বাড়ানো বলে ডি বক্সের মধ্যে হাত লাগে মানাং খেলোয়াড় বেদেন্দ্রর। এ সময় পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। পেনাল্টি শট থেকে গোল করে ২-২ গোলে আবাহনীকে সমতায় ফেরান ওয়ালসন। ৬৭ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আসে আবাহনীর। এবার ভাগ্য তাদের বিমুখ করে। মুফতার নেওয়া শট ক্রসবারে লাগলে গোল বঞ্চিত হয় আবাহনী। ৮৫ মিনিটে মানাং রক্ষণ শিবির কাঁপিয়ে দেন ওয়ালসন। বামপ্রান্ত থেকে একক প্রচেষ্টায় ঢুকে পড়েন। কিন্তু মানাং গোল রক্ষক দিনেশ বের হয়ে এসে দলকে রক্ষা করেন। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে ফের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আসে মানাংয়ের। অধিনায়ক অনিলের নেয়া শট ক্রস বার হলে গোল বঞ্চিত হয় মানাং।

মানাংয়ের সঙ্গে ড্র করে সেমি ফাইনাল নিশ্চিত করার খুশি চট্টগ্রাম আবাহনী কোচ সাইফুল বারী টিটো। তিনি বলেন, ‘ম্যাচটা আমাদের জন্য খুবই টাফ ছিল। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ড্র করতে পেরেছি এতেই খুশি। এখন সেমি ফাইনাল নিয়ে চিন্তা করছি। ’

up-arrow